ঠাঁই হয়নি চট্টগ্রামের নেতাদের, সাবেকদের ক্ষোভ-হতাশা

ছাত্রলীগের কমিটি

0

অনেক জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘোষিত হয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি।

সোমবার (১৩ মে) বিকেলে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত এ কমিটি দুই বছরের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়।

ঘোষিত কমিটিতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মীর ঠাঁই হয়নি। তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ থেকে একজন নারী নেত্রী স্থান পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামের ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। চট্টগ্রামকে এভাবে বঞ্চিত করায় অনেকেই ক্ষোভ ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

আরও পড়ুন: ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

ছাত্রলীগের নতুন কমিটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ঘোষিত কমিটিতে দুইজন সহসভাপতি, একজন সাংগঠনিক সম্পাদক, একজন উপ-প্রচার সম্পাদক, একজন ছাত্র বৃত্তি বিষয়ক উপ-সম্পাদক পদে মোট ৫ জন চট্টগ্রাম থেকে স্থান পেয়েছেন। তবে ছাত্র বৃত্তি বিষয়ক উপ-সম্পাদক ফৌজিয়া নিজাম তামান্না ছাড়া বাকি ৪ জনই চট্টগ্রামের বাইরে অবস্থান করেন বলে জানা যায়। তামান্না চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ছাত্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী বিষয়ক উপ-সম্পাদক পদে ছিলেন।

চট্টগ্রামের অন্য চারজন হলেন সহসভাপতি মঞ্জুর মোরশেদ অসীম, তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী জহির, সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ও উপ প্রচার সম্পাদক রায়হান আহাদ চৌধুরী। এরা কেউই চট্টগ্রামে কখনো রাজনীতি করেননি বলে জানা যায়।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক হাবিবুর রহমান তারেক জয়নিউজকে বলেন, চট্টগ্রাম সবদিকে সবক্ষেত্রে বঞ্চিত। সবসময়ই চট্টগ্রাম বৈষম্যের শিকার হয়। ছাত্রলীগের কমিটিতে সেটা আবারো প্রমাণিত হয়েছে। কমিটিতে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর-দক্ষিণ জেলা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ না থাকাটা একটা স্বৈরাচারী বিষয়। চট্টগ্রামে অনেক যোগ্য নেতা আছেন। কিন্তু নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে চট্টগ্রামের তামান্না

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর টিপু ক্ষোভ প্রকাশ করে জয়নিউজকে বলেন, চবি ছাত্রলীগ সবসময়ই মৌলবাদ বিরোধী ও ছাত্রদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করেছে। কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় চবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যেখানে জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রলীগ নেতার স্লোগান ছিল ‘ছাত্রলীগের গালে গালে, জুতা মার তালে তালে’। সে তারাই এখন কেন্দ্রীয় কমিটির পদে। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, এটি কি কেন্দ্রীয় কমিটি নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিটি?

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর হোসেন তপু জয়নিউজকে বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটিতে চট্টগ্রামের কারো না থাকায় আমরা কিছুটা অসন্তুষ্ট। তবে নেত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেখানে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু জয়নিউজকে বলেন, আমরা যেহেতু একটি কমিটিতে আছি তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এটা ঠিক আমরা আশা করেছিলাম চট্টগ্রাম থেকে অনেককে কেন্দ্রীয় কমিটির পদে দেখব। কারণ চট্টগ্রামে অনেক যোগ্য নেতা ছিল। তবুও আমরা শেষ পর্যন্ত নেত্রীর উপর আস্থা রাখতে চাই।

জয়নিউজ/বিশু
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...