মাদকের মধুচক্র আকবরশাহ থানা ও সিটি গেইট পুলিশ বক্স!

0

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে পুলিশের কাজ মাদক দমন ও নিয়ন্ত্রণ করা। কিন্তু খোদ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেই এখন উঠেছে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ। সম্প্রতি নগরের কাট্টলী এলাকায় এক মহিলা ইয়াবা বিক্রেতাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে জনগণ। তখন তিনি অকপটে স্বীকার করেন পুলিশের তিন এসআই এর কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন তিনি।

ওই তিন এসআইয়ের মধ্যে একজন বর্তমানে কারাগারে এবং দুইজন চট্টগ্রাম জেলার বাইরে কর্মরত আছেন বলে জানা যায়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় নগরের আকবরশাহ থানার উত্তর কাট্টলী কালী বাড়ি এলকায় মাদকাসক্ত সত্যজিৎ ঘোষ পপি ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে সন্ধ্যা রানি নামে এক মহিলাকে হত্যা এবং চারজনকে গুরুতর আহত করে। এর জের ধরে শুক্রবার (১০ মে) দিবাগত রাতে সত্যজিৎ ঘোষের মাদকচক্রের নারী মাদক ব্যবসায়ী শিল্পী রানীকে ১২০ পিস ইয়াবাসহ স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক করে পুলিশ।

এ সময় শিল্পী রানি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্ধিতে জানান, পাঁচ বছর ধরে আকবরশাহ থানার সোর্স হিসেবে কাজ করেন তিনি। সেখানে কর্মরত এসআই নিজামুল, মো. ওসমান ও সালাউদ্দিনের কাছ থেকে ইয়াবা নিয়ে বিক্রি করতেন। কাস্টমার হিসেবে তার কাছে আসতো এলাকার রুবেল, মুন্না, চম্পক বাবু, মানিক, সমুন, আরিফ, আবুলসহ অনেকে। তিনজন এসআই ছাড়াও তিনি কর্ণেলহাট সাহেরপাড়া এলাকার জাবেদ থেকে ইয়াবা নিয়ে বিক্রি করতেন। পুলিশ সহায়তা করায় কাউকে ভয় পেতেন না তিনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিল্পী রানির স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করা তিনজন এসআই এর মধ্যে নিজামুল ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর কারাগারে আছেন। গত ১০ মার্চ কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের রেজুখাল সেতু এলাকা থেকে ৩ হাজার ২০০ ইয়াবাসহ তাকে আটক করে বর্ডার গার্ড (বিজিবি)।

এসআই মো. ওসমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সার্কেলে কর্মরত আছেন। ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে জয়নিউজকে বলেন, এসব অভিযোগ অবান্তর। তিনি শিল্পী নামে কাউকে চেনেন না।

আরেক এসআই মো. সালাউদ্দিন কর্মরত আছেন চাঁদপুরের উত্তর মতলব থানায়। তিনি জয়নিউজকে বলেন, আমি গতকাল (রোববার) এক সাংবাদিকের মাধ্যমে শুনেছি এমন বক্তব্য দিয়েছে শিল্পী নামে এক নারী। কিন্তু শিল্পী নামে কোনো মহিলাকে আমি চিনিনা।

এ প্রসঙ্গে আকবরশাহ থানার ওসি জসীম উদ্দিন জয়নিউজকে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা সবসময় জিরো টলারেন্সে। ইতোমধ্যে শিল্পী নামে এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। ওই নারী যে তিনজন এসআই এর কথা উল্লেখ করেছেন তারা কেউ বর্তমানে আকবরশাহ থানায় কর্মরত নেই। তবে তাদের একজন মাদক মামলায় জেল হাজাতে আটক আছে। আমরা তাদের সম্পৃক্ততার তথ্যটি খতিয়ে দেখছি।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবর রহমান জয়নিউজকে বলেন, এসআই নিজামুলকে চট্টগ্রাম নগর পুলিশে কর্মরত থাকার সময় মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে স্থানান্তর করা হয়। কক্সবাজারে মাদকসহ আটকের পর বর্তমানে কারাগারে আছে সে। অন্য দুইজনের মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আকবরশাহ থানা ও সিটি গেইট পুলিশ বক্সকে মাদকের মধুচক্র হিসেবে অভিযোগ করেছে স্থানীয় নেতারা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছি। কারো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সিটি গেইট পুলিশ বক্স ও আকবরশাহ থানাকে মাদকের মধুচক্র বলে অ্যাখায়িত করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন।

সোমবার (১৩ মে) আকবরশাহ থানার কর্ণেলহাট এলাকায় সন্ধ্যা রানির খুনি মাদকাসক্ত সত্যজিৎয়ের ফাঁসি, মাদক ব্যবসায়ী ও এর পৃষ্ঠপোষককারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সুজন বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে যেখানে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। মাদক নির্মূলে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্সে থাকতে বলেছেন। সেখানে পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের মাদক সাপ্লাই দিয়ে মাদক ব্যবসা করে। এর থেকে ন্যাক্কারজনক অবস্থা আর কি হতে পারে!

তিনি পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া মাদক ব্যবসায়ী শিল্পী রানীর স্বীকারোক্তিতে আকবরশাহ থানার যেসব পুলিশ সদস্যের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিন। অন্যথায় আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ হবো।

জয়নিউজ/শহীদ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...