শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে শিক্ষাবিদদের ভাবনা

0

নিরাপদ সড়কের দাবিতে পঞ্চমদিনের মতো রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। নিজেরাই বাস থামিয়ে লাইসেন্স যাচাই করা, উল্টোপথে আসা মন্ত্রীর গাড়ি থামিয়ে ফেরত পাঠানো- এই আন্দোলনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

শিক্ষার্থীদের এমন আন্দোলন কিভাবে দেখছেন দেশের শিক্ষাবিদরা। এ নিয়ে জয়নিউজবিডির কাছে নিজেদের অভিমত প্রকাশ করেন তারা। তারা কোমলমতি শিশু-কিশোরদের এ আন্দোলনকে দীর্ঘদিনের অনিয়মের বিরুদ্ধে চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন। তারা মনে করেন, এই আন্দোলনকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। একইসাথে তারা আন্দোলনকে ইস্যু করে কেউ যাতে ভিন্ন কিছু হাসিল করতে না পারে, সেদিকে নজর দিতে বলেন।

ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সিকান্দার খান এই অবস্থানকে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে পুঞ্জিকৃত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করেন। তিনি বলেন, যে আন্দোলন অন্যরা করে দেখাতে পারেনি, তা ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা করছে। ওরাই একদিন বাংলাদেশকে জয় করবে।

তিনি একইসাথে এ আন্দোলনকে বিরোধীদলের যোগসাজশ-উস্কানির অজুহাতে পাশ কাটিয়ে না গিয়ে সরকারকে ভালোভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একুশেপদকপ্রাপ্ত সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. অনুপম সেন বলেন, শিশু-কিশোরদের এই ক্ষোভ স্বাভাবিক এবং যুক্তিসঙ্গত। সরকার প্রথম থেকে এই বিষয়ে আন্তরিক ছিল। আইনমন্ত্রী এটিকে দ্রুত বিচার টাইব্যুনালে নিয়ে দোষীদের বিচারের কথা জানিয়েছেন। কিন্তু এরপরও আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে যে সমস্ত ভাষা প্রয়োগ করছে, তা বেমানান, দৃষ্টিকটু। আমাদের শিক্ষার্থীরা এমন ভাষা ব্যবহার করতে পারে না।

আন্দোলনের দ্বিতীয়দিন শিক্ষার্থীদের শান্ত ও সুষ্ঠু প্রতিক্রিয়ার পরও পুলিশ তাদের লাটিচার্জ করে। এই কারণে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এমন ভাষা ব্যবহার করছে কি না- এমন প্রশ্নে অনুপম সেন বলেন, পুলিশকেও আনুপাতিক হারে বল প্রয়োগ করতে হবে। এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে প্রাণহানির মত ঘটনা ঘটে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার এ বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি না হলেও, বাচ্চাদের প্রতি তার সহানুভূতি রয়েছে বলে জানান।

জয়নিউজবিডি/আরকে/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...