তাদের খুঁটির জোর কোথায়?

0

নগরের পাহাড়গুলো প্রভাবশালীরা দখল করছে প্রভাব খাটিয়ে। কাঁচা, আধাপাকা ঘর বেঁধে ভাড়া দিচ্ছে খেটে খাওয়া দিনমজুরদের। অজ্ঞতার কারণে পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা এসব ঘরে বসতি স্থাপন করে লাশের মিছিলে যুক্ত হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষ।

পাহাড় থেকে বসতি সরাতে জেলা প্রশাসন অভিযান চালায় নিয়মিত। কিন্তু প্রভাবশালীদের হাত এতটাই লম্বা যে মাঝে মধ্যে চাপে পড়তে হয় প্রশাসনকে। এসব চাপ সামলাতে না পেরে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রীসহ সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায় থেকেও ‘নাক গলানো’ হয় বসতি উচ্ছেদে। কিন্তু সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেয়া পদক্ষেপগুলোকেও বুড়ো আঙুল প্রদর্শন করছেন চট্টগ্রামের পাহাড় দখলকারী প্রভাবশালীরা। তাদের খুঁটির জোর কোথায়- সে প্রশ্ন এখন চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের।

গত বছরের ১২ জুন বৃহত্তর চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিলেন। দুই সেনা কর্মকর্তা ও দুই সেনা সদস্যসহ শুধু রাঙামাটিতেই নিহত হয়েছিলেন ১১৮ জন। চট্টগ্রামে নিহত হয়েছিলেন ৩৪ জন।

চলতি বছর রাঙামাটির নানিয়ারচরে ১১ জনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ নগরীতে ৪ জনের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়াও কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে বসবাস বন্ধ করা যাচ্ছে না। বৃষ্টি হলেই প্রশাসন সচেতনতার লক্ষ্যে মাইকিং করে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে আনতে পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এতোকিছুর পরও কিছু মানুষ সরতে চায় না। যার পরিণতিতে দীর্ঘ হয় লাশের মিছিল।

১৪ অক্টোবর ভোরে চট্টগ্রাম নগরে যেসব পাহাড়ে প্রাণহানি ঘটেছে তার মালিকানা একটি শিল্পগ্রুপের। কোন আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে পাহাড়ে ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেয়ার কথা স্বীকার করে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান জয়নিউজকে বলেন, শনিবার রাতের প্রাণহানি ঘটেছে কনকর্ডের মালিকানাধীন পাহাড়ে। এ কে খান গ্রুপসহ একাধিক শিল্পগ্রুপের মালিকানাধীন পাহাড়ে অবৈধ বসবাসকারী রয়েছে।

দীর্ঘদিন জেলা পাহাড় ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পৃক্ত এই অভিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট জানান, পাহাড়ে বসবাসকারীদের একটি বদ্ধমূল ধারণা তাদের পূর্বপুরুষ এই পাহাড়ে ৩০ থেকে ৩২ বছর বসবাস করছে। তাদের কিছু হয়নি, এদেরও কিছু হবে না।

জানা যায়, শহরের পাহাড়গুলোর কিছু বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের, কিছু বিভিন্ন শিল্পগ্রুপের, কিছু আছে ব্যক্তি মালিকানাধীন আর কিছু আছে জেলা প্রশাসনের। পাহাড় ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের ব্যাপারে এখনও অভিযোগ ওঠেনি। রেলওয়ের পাহাড়গুলোর অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন পাহাড়গুলোতেই মূলত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পাহাড় ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা প্রশাসকের অধীন একটি কমিটি আছে। সেই কমিটির বৈঠকও হয় নিয়মিত। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়। কিন্তু সব সিদ্ধান্ত কিছু বাস্তবতার কারণে আলোর মুখ দেখে না।
রেলওয়ের পাহাড়গুলো দখল চলে প্রতিযোগিতা দিয়ে। ‘দখলী পাহাড়ে’ বসত গড়ে তোলে রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল। স্বল্পমূল্যে ভাড়া নেয় খেটে খাওয়া মানুষ। দিনমজুর ছাড়াও এসব ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাস করেন দেশের নদীভাঙা অঞ্চল থেকে শহরে আসা মানুষজন।

একদিকে অবৈধ দখল, অপর দিকে অজ্ঞতা। দুই মিলে পাহাড় ধসে নিয়মিত এই প্রাণহানি ঘটছে। এই প্রাণহানি ঠেকাতে সরকারকে কঠোর হওয়ার পাশাপাশি জনগণকে আরো সচেতন হতে হবে বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রকাশ করেছেন।

জয়নিউজ/এফও/জুলফিকার

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...