বদলে যাবে দক্ষিণ চট্টগ্রাম

কর্ণফুলী টানেল

0

বদলে যাচ্ছে দক্ষিণ চট্টগ্রাম। চীনের সাংহাই নগরের আদলে হচ্ছে ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’। চট্টগ্রামকে চীনের সাংহাই নগরের মত গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই স্বপ্ন থেকে কর্ণফুলীর তলদেশে হচ্ছে টানেল নির্মাণ। উপমহাদেশে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা স্বপ্ন দেখেন তা-ই বাস্তবায়ন করে যাচ্ছেন। পদ্মা সেতুর পর কর্ণফুলী টানেলের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের রূপ।

কর্ণফুলী নদীর ওপাড়ে আনোয়ারায় গড়ে উঠেছে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড)। এ টানেলের মধ্য দিয়ে দু’পাড়ের সেতুবন্ধন রচিত হবে। শিল্পায়নের ফলে এ অঞ্চলের লাখো মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে। এমন প্রত্যাশা থেকে কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা করে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক)।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া টানেল নির্মাণের কাজ ২৫ শতাংশ এগিয়েছে। নদীর তলদেশে খননের জন্য চীন থেকে এসেছে বোরিং মেশিন।

খননকাজ শুরুর প্রস্তুতি চলছে। এই মাসের (অক্টোবর ২০১৮) শেষের দিকে শুরু হবে নদীর তলদেশে খননের কাজ। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে। আর মেয়াদ অনুযায়ী ২০২২ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এমনটাই বললেন প্রকল্প উপ-পরিচালক রবিউল ইসলাম।

তিনি জয়নিউজকে জানান, কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প চট্টগ্রামবাসীর স্বপ্নের প্রকল্প। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বদলে যাবে চট্টগ্রাম। পাল্টে যাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের উন্নয়নচিত্র।

‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ চীনের সাংহাইয়ের মত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কে সংযুক্তিসহ ৭টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ৪ লেন সড়ক টানেল নির্মাণ প্রকল্প কাজ হাতে নেয়।

তিনি বলেন, ইতোমধ্য টানেল নির্মাণের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। আনোয়ারা ও পতেঙ্গা সাইট অফিস নির্মাণ করা হয়েছে। টানেল নির্মাণে বাংলাদেশি ৮শ’ শ্রমিক ছাড়াও কাজ করছে ৫৫০ জন চীনা শ্রমিক। চীনা কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের কাজও শেষ হয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দুইটি টিউব সম্বলিত ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেল নির্মাণ করা হবে। টানেলের সঙ্গে সংযুক্ত করতে টানেলের পূর্ব প্রান্তে প্রায় ৫ কিলোমিটার ও পশ্চিম প্রান্তের ৭২৭ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে আনোয়ারা উপজেলার যোগাযোগ রক্ষা পাবে।

এই প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে ৫ হাজার ৫০৫ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে চীন। বাকি অর্থ সরকারি তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে।

প্রকল্প উপ-পরিচালক আরো জানান, প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করতে চায়না এক্সিম ব্যাংক ঋণের অর্থের ১১০০ কোটি টাকা ছাড় দিয়েছে। এই অর্থ প্রকল্পের চায়না ঠিকাদারি সংস্থাকে ইতোমধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

৩৮৩ একর ভূমির মধ্যে ২৩২ একর ভূমি ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশন এন্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (সিসিসিএল) হস্তান্তর করা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অবশিষ্ট ১৫১ একর ভূমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অচিরেই বাংলাদেশ সেতু কর্তপক্ষকে তা হস্তান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য, টানেল নির্মাণে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সিসিসিসি’র সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। আর জিটুজি ভিত্তিতে টানেল নির্মাণ প্রস্তাব গত বছরের জানুয়ারিতে অনুমোদন করে চীন সরকার। এটি নির্মাণে ঋণ দেবে চীনের এক্সিম ব্যাংক।
২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের বাংলাদেশে সফরের সময় এই চুক্তি হয়েছিল।

জয়নিউজ/আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...