দুই বাংলার আন্তর্জাতিক সম্মেলন জানুয়ারিতে

পশ্চিমবঙ্গ ইতিহাস সংসদের অধিবেশন

0

দুই বাংলার ইতিহাসবিদ ও ইতিহাস অনুসন্ধানী গবেষকদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ডাক দেয়া হয়েছে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী শহর কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী জানুয়ারি মাসের ২৪ থেকে ২৬ তারিখ এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। যা মূলত পশ্চিমবঙ্গ ইতিহাস সংসদের ৩৫ তম বাৎসরিক অধিবেশন।

ইতিহাস সংসদের সম্পাদক ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের অধ্যাপক ডঃ আশীষ কুমার দাস জয়নিউজকে বলেন, দুই বাংলার সকল ইতিহাসপ্রেমিদের উপস্থিত থাকতে বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি। আমাদের এবারের অধিবেশনের শিরোনাম ‘বাংলা ভাষায় ধর্মনিরপেক্ষ ও বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাস চর্চার আদর্শ সমৃদ্ধ হোক’। সার্বিক আয়োজনে আছে পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ।

জানা গেছে, অধিবেশনে উদ্বোধনী প্রবন্ধ পেশ করবেন দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক, বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও সর্বভারতীয় গবেষক রণবীর চক্রবর্তী। আগামী ২৪ ডিসেম্বর তারিখের মধ্যে অধিবেশনে যোগদানে আগ্রহীদের নিজ গবেষণার সারসংক্ষেপ পাঠাতে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। অধিবেশনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষকদের প্রবন্ধ মূল্যায়নে ছয়টি পুরস্কারের ব্যবস্থা থাকছে।

গত বছর সংসদের বাৎসরিক অধিবেশন

ড. আশীষ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টাডিজ সেন্টারের পরিচালক। এই অধিবেশনে দুই বাংলার গবেষকদের অংশগ্রহণের প্রতি জোর দিয়ে তিনি বলেন, দুই বাংলার একাডেমিক গবেষণা ও তার উপস্থাপনে সীমান্ত কোন সমস্যা নয়। অতীতে এই সংগঠনের অধিবেশনে ইরফান হাবিব, রনবীর চক্রবর্ত্তী, সুমিত সরকার, রোমিলাথাপার, শেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এর মত বিদগ্ধ ইতিহাসবিদেরা যোগদান করেছেন। আশা করি দুই বাংলার নবীন-প্রবীণ গবেষকরা আগামী অধিবেশনে সমবেত হবেন।

প্রসঙ্গত, ভারতের কোচবিহার শহরে অবিস্থত পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। কোচ রাজবংশী নেতা সমাজ সংস্কারক পঞ্চানন বর্মার নামে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি নামাঙ্কিত। কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি জেলার মোট ২৫টি কলেজ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন।

পশ্চিমবঙ্গ ইতিহাস সংসদ সংসদ প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৭৮ খ্রীষ্টাব্দে, এই সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য বাংলা ভাষায় ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাস চর্চা করা। এই সংগঠন বিগত ৪০ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে বাংলা ভাষায় বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস চর্চার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সংসদের বিগত বছর অধিবেশন বসেছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং উদ্বোধন করেছিলেন বিশিষ্ট ঐতিহাসিক সুমিত সরকার।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...