সেই ৬৮ কেজি স্বর্ণ যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকে

0

চট্টগ্রাম বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণ যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। জব্দ হওয়া স্বর্ণের ওজন ও মান নির্ধারণ করে তা যথাযথ পন্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সংস্থাটি।

এ কমিটিকে ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া স্বর্ণগুলোর মান, ওজন ও আইনগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার ড. এ কে এম নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কাস্টোডিয়ান শাখায় স্বর্ণ জব্দ হয়েছে ৬৮ কেজি ৪৬২ গ্রাম। কাস্টমস কর্র্তৃপক্ষের হিসেবে এসব স্বর্ণের মূল্য ৩৪ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৮৯২ টাকা।

এসব স্বর্ণ আবারো ওজন ও মান যাচাই করতে এ কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনগত বিষয়াদি নিষ্পত্তিসহ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের আগামী এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার ড. এ কে এম নুরুজ্জামান জয়নিউজকে বলেন, বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর কিংবা স্থলপথে অবৈধ স্বর্ণ দেশে প্রবেশ করলেই কাস্টমস তা জব্দ করছে। এসব স্বর্ণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ কমিটি বিগত এক বছর জব্দ হওয়া স্বর্ণগুলো নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় স্বর্ণগুলো পৌঁছে দিতেই আমরা এ কমিটি গঠন করেছি। তিনি আরো বলেন, কাস্টমস দেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা শতভাগ নিশ্চিত করে কাজ করছে। স্বর্ণগুলো নিয়ে যাতে কোনো প্রশ্ন না থাকে সেজন্য চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস প্রথমবারের মত এ কমিটি গঠন করেছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কাস্টোডিয়ান শাখার রেজিস্টার অনুযায়ী, বিমানবন্দর কাস্টমসের হাতে ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর ধরা পড়ে ৩ কেজি ৫১৫ গ্রাম স্বর্ণ। যার মূল্য ১ কোটি ৩২ লাখ ৫৯ হাজার ৬০০ টাকা। একই মাসের ২৯ তারিখে তারা উদ্ধার করে ৯৪৭ গ্রাম স্বর্ণ। যার মূল্য ৪০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা।

চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি বিমানবন্দর কাস্টমস ২ কেজি ৭০০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করে। যার মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ১০ মার্চ তারা ৩ কেজি ৮০০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করে। যার মূল্য ২ কোটি ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা।

একইদিনে চট্টগ্রাম শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর ১ কেজি স্বর্ণ জব্দ করে। যার মূল্য ৫৪ লাখ টাকা। ১৭ মার্চ সংস্থাটি ৫ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করে। যার মূল্য ২ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। ১ এপ্রিল বিমানবন্দর কাস্টমস উদ্ধার করে ১২ কেজি ৯১৬ গ্রাম স্বর্ণ। যার মূল্য ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ৯ মে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর এবং বিমানবন্দর কাস্টমস যৌথ অভিযান চালিয়ে ৬০০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করে। যার মূল্য ২৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। একই মাসের ১৬ তারিখ বিমানবন্দর কাস্টমস জব্দ করে ২৩৪ গ্রাম স্বর্ণ। যার মূল্য ৮ লাখ টাকা। দুই দিন পর ১৯ মে বিমানবন্দর কাস্টমসের হাতে আটক হয় সাড়ে ৪ কেজি স্বর্ণ। যার মূল্য ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। ১৮ জুলাই এই সংস্থা জব্দ করে ১ কেজি স্বর্ণ। যার মূল্য ৪৫ লাখ টাকা। ১ আগস্ট তারা ৮০০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করে। যার মূল্য ৩৬ লাখ ৭৯২ টাকা। একই মাসের ৫ তারিখে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর চট্টগ্রাম এবং বিমানবন্দর কাস্টমস যৌথভাবে আটক করে ১৩ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের বিশাল স্বর্ণের চালান। যার মূল্য ৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। একই মাসে ওই দুই সংস্থার হাতে জব্দ হয় ৩ কেজি ২০০ গ্রাম স্বর্ণ। যার মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ৪ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দর কাস্টমস ১ কেজি ৩০০ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করে। যার মূল্য ৬৫ লাখ টাকা। একই মাসের ৫ তারিখ তাদের হাতে ধরা পড়ে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার সাড়ে ৪ কেজি স্বর্ণ। একই দিন এই সংস্থাটি ৩০ লাখ ৫২ হাজার টাকা মূল্যের ৭৬১ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করে।

১৬ সেপ্টেম্বর তিনটি চালান জব্দ করে বিমানবন্দর কাস্টমস। প্রথম চালানটিতে ছিল ২৫ লাখ টাকার ৫৭৮ গ্রাম স্বর্ণ। দ্বিতীয় চালানে মেলে ৫৭৯ গ্রাম স্বর্ণ। যার মূল্য ২৫ লাখ টাকা। ওই দিনের শেষ চালানে ধরা পড়ে তিন কোটি টাকার ৬ কেজি স্বর্ণ। ৮ অক্টোবর বিমানবন্দর কাস্টমস ৯৩২ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করে। যার মূল্য ৪০ লাখ টাকা। সর্বমোট ৬৮ কেজি ৪৬২ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয় ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এসব স্বর্ণের প্রাথমিক মূল্য নির্ধারণ করে ৩৪ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৮৯২ টাকা।

এসব স্বর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে কমিটি গঠন করার কথা জানিয়ে চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার ড. এ কে এম নুরুজ্জামান জয়নিউজকে বলেন, উচ্চ পর্যায়ের এ কমিটিতে দুই ডেপুটি কমিশনারকে রাখা হয়েছে। তাদের একজনকে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব হয়। এছাড়াও এ কমিটিতে চার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, কমিটিতে প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি কমিশনার মো. নূর উদ্দিন মিলন, সদস্য হিসেবে রয়েছেন ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ মেহরাজ উল আলম সম্রাট, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা খালেদ মোহাম্মদ, মির্জা সাইয়িদ হাসান ফরমান, আরিফুল ইসলাম চৌধুরী এবং ফরিদ উদ্দিন।

জয়নিউজ/এফও/জুলফিকার

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...