ওসিসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

চাঁদা না দেওয়ায় অস্ত্র মামলায় ফাঁসানো

0

দুই লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে অস্ত্র মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে আকবরশাহ থানার ওসি জসীম উদ্দীনসহ ৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. আবুল কাশেম প্রকাশ আলমগীরের স্ত্রী রুবি বেগম বৃহস্পতিবার (১৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ জজ আদালতে এ অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে আসামি করা হয়েছে আকবর শাহ থানার ওসি জসীম উদ্দীন, এসআই মো. আলাউদ্দীন, এসআই আশহাদুল ইসলাম, এএসআই সাইফুল ইসলাম, এএসআই আবু বক্কর ছিদ্দিক ও কনস্টেবল মো. নুরুল আলমকে। চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা অভিযোগটি গ্রহণ করেছেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী আলমগীর নগরের আকবর শাহ থানাধীন পূর্ব ফিরোজশাহ কলোনীর ১নং ঝিল মসজিদ ঘোনা এলাকার বাসিন্দা। মসজিদ ঘোনা এলাকায় তিনি মুরগি বিক্রি করেন। তার শ্যালক নুরে আলম একই এলাকায় গরু-ছাগল ও কবুতর লালন-পালন করে বিক্রি করেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা-৭টার দিকে একই এলাকায় ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তখন ইব্রাহিমকে নিয়ে প্রথমে আল আমিন হাসপাতালে যান আলমগীর, ইব্রাহিমের স্ত্রী ও দুই শ্যালকসহ স্থানীয় সুমন ও মিজান। তখন আল আমিন হাসপাতাল আহতকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। সেখানে নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক ইব্রাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় হাসপাতালে থাকা এক পুলিশ সদস্য আলমগীরকে আটক করে পুলিশ বক্সে নিয়ে যান।

আটকের কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইব্রাহিম মারা যাওয়ায় আকবর শাহ থানায় হত্যা মামলা হয়েছে এবং থানার নির্দেশে আলমগীরকে আটক করা হয়েছে। এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০-১১টার দিকে আকবর শাহ থানার এসআই আশহাদুল ইসলাম এসে হত্যা মামলা দেখিয়ে আলমগীরকে চমেক হাসপাতাল থেকে নিয়ে যায়। এরপর আলমগীরের মা আনোয়ারা বেগম ও শ্যালক নূরে আলম থানায় গেলে আলমগীর সঙ্গে তাদের দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলমগীরের শ্যালক থানায় ঢুকে তাকে নাস্তা দিয়ে আসে। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি তার বোনকে (আলমগীরের স্ত্রী) জানান, এসআই আলাউদ্দীন দুই লাখ টাকা চেয়েছে, টাকা না দিলে মৃত ইব্রাহিমের হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে দেবে। একই বিষয়টি নিয়ে রাত ১১টা-সাড়ে ১১টার দিকে আলমগীরের শ্যালক আলমসহ স্থানীয় লোকজন ওসি জসীমের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাদেরকে থানায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি।

২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আলমগীরকে নাস্তা দিতে থানায় যান মা, স্ত্রী ও শ্যালক। তখনো শ্যালক আলম ছাড়া অন্যদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। বেরিয়ে আলম পুনরায় জানান, ওসি জসীম ও এসআই আলাউদ্দীনকে দুই লাখ টাকা না দিলে পুলিশ বাদী হয়ে ইব্রাহিম হত্যা মামলায় জড়িয়ে দেবে।

একইদিন দুপুরে এলাকায় জানাজানি হয় যে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ইব্রাহিমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে এবং ওই মামলায় ইব্রাহিম ও তার শ্যালক আলমকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় আলমগীরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এরপর আদালতে এসে কাগজপত্র তুলে বাদী জানতে পারেন, ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টায় আলমগীরের কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে। একই মামলায় পলাতক আসামি করা হয়েছে আলমগীরের শ্যালক আলমকে।

২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর পর্যন্ত আলমগীরকে রাখা হয় আকবরশাহ থানা পুলিশের হেফাজতে। অস্ত্র মামলার ঘটনার সময়ও তিনি থানাহাজতেই আটক ছিলেন। এরপরও দুই লাখ টাকা না পেয়ে পুলিশ মিথ্যা অস্ত্র মামলায় আলমগীরকে আসামি করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ফজলুল করিম ভুঁইয়া জয়নিউজকে বলেন, আদালতে এজাহারটি আমরা জমা দিয়েছি। অভিযোগের স্বপক্ষে সেখানে অনেক তথ্য-প্রমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ৬ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। মামলায় দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ও দ-বিধির ১৬১ ওও ১২০বি ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে আগামী ২৪ অক্টোবর শুনানির দিন ধার্য্য রেখেছেন আদালত।

অভিযোগের ব্যাপারে আকবরশাহ থানার ওসি জসীম উদ্দিন বলেন, চলমান মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে আলমগীর গ্রেফতার হয়েছে। তার শ্যালক নূরে আলম প্রকাশ নুরু দীর্ঘদিনের পলাকত আসামি। তার বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা আছে। আলমগীরের বিরুদ্ধেও ৩টি মামলা আছে আকবরশাহ থানায়। তারা নিজেরা বাঁচতে এবং পুলিশকে মানসিকভাবে দুর্বল করতে এই অভিযোগ করেছে।

জয়নিউজ/ফারুক

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...