কৌশলী নাঈমুলের প্রশ্নে কী ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী?

মন্ত্রীসভা ছোট হচ্ছে না

0

নির্বাচনের সময় মন্ত্রিসভা ছোট হচ্ছে না। বর্তমান মন্ত্রিসভার অধীনেই একাদশ জাতীয় নির্বাচন হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সোমবার (২২ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে এমনটিই ইঙ্গিত দিলেন।  তিনি বলেন, ‘যদি ডিমান্ড করে অপজিশন, তাহলে করব। আর না হলে কিছু করার নাই। ’

প্রধানমন্ত্রীর সৌদিআরব সফর শেষে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খানের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর এই মনোভাব পরিলক্ষিত হয়।  প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে নাঈমুল ইসলাম খান বলেন, একাদশ নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দেয়া হবে  কি না ।  লিখিত বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

প্রধানমন্ত্রী উত্তর দেয়ার আগে নাঈমুল ইসলাম খানকে উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘আপনি বলুন মন্ত্রিসভা ছোট করা হবে কি? ছোট না করলে কোনো অসুবিধা আছে কি না’।

সাংবাদিক নাঈমুল ইসলাম খান

স্বভাব সুলভ হাস্যরসে এসময় উত্তর দিতে গিয়ে কিছুটা কৌশলী নাঈমুল ইসলাম খান প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি নিজের মনোভাব না জানিয়ে বলেন, ‘আইনে বাধা নেই আপা’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, ভারত সহ বহু রাষ্ট্রপ্রধানের সাথে কথা বলেছি। তাদের মনোভাব জানতে চেয়েছি। নির্বাচনকালীন সরকার বলতে এমন কোন ব্যবস্থা কোথাও নেই’।

প্রধানমন্ত্রী এসময় বলেন, বর্তমান মন্ত্রিসভায় ‘সব দলের’ প্রতিনিধিই আছেন। আর নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট করা হলে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। যুক্তরাজ্যের মত যেসব দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে, কোথাও নির্বাচনের সময় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হয় না। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মন্ত্রিসভা কেন পুনর্গঠন করা হয়েছিল, সে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে শেখ হাসিনা বলেন, সে সময় বিরোধী দলে থাকা বিএনপি নির্বাচনে আসতে রাজি হচ্ছিল না বলে তখন তাদের নির্বাচনকালীন সরকারে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন গতবার বিরোধী দলকে বলেছিলাম, “তারা যে মন্ত্রণালয় চায়, সেই মন্ত্রণালয় দেওয়া হবে’’।  এসময় প্রধানমন্ত্রী বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, কিন্তু আমরা কী দেখলাম? সারাদেশে পেট্রোলবোমা।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা (দশম সংসদ নির্বাচনে) মেজরিটি পাওয়া স্বত্ত্বেও প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো থেকে মন্ত্রিসভা গঠন করেছি। এই মন্ত্রিসভায় জনগণের প্রতিনিধি যারা, তারা আছেন।

“যেহেতু সব দলের প্রতিনিধি আছে, জানি না এটাকে ছোট করার দরকার আছে কি-না। কাটছাট করা হবে কি-না…।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভা ছোট করা হলে একজনকে কয়েকটা মন্ত্রণালয় চালাতে হবে। সেক্ষেত্রে কোনো কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ দুই তিন মাসের জন্য থমকে যেতে পারে। এ বিষয়গুলোও ভাবতে হবে।

দেখি তাদের দফা কোথায় যায়
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা নিয়ে সংলাপের আহ্বান সম্বলিত চিঠি পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানাবেন কি না সমকালের সাংবাদিক অমরেশ রায়ের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আগে ছিলো তাদের চার দফা ছিল। এখন সাত দফায় পৌঁছেছে। দফাটা আর কতদূর যায়, দেখি। এরপর না হয় আমার বক্তব্য দেব। চিঠিই আসলো না, আগাম কি ভাববো?”

‘হাফ সৌদি’ শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সৌদি যুবরাজ আমাকে ‘হাফ সৌদি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সৌদি আরবকে আমার দ্বিতীয় বাড়ি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এখনে আপনি সব সময়ের জন্য স্বাগত।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়নের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ বলেছেন তিনিও এ উন্নয়নের অংশীদার হতে চান।

আপনারা মামলা করেন, আমরা দেখবো
‘সরকার বিরোধী ঐক্যফ্রন্টের এক সদস্য একজন নারী সাংবাদিককে যে নোংরা কথা বলতে পারে, তারা সবাই এক। এমন একটা জোট হয়, আমরা খারাপ কিছু দেখছি না। তারা যদি কিছু অর্জন করতে চায় করুক। কারণ, এদের কেউ কেউ আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে, কেউ কেউ আওয়ামী লীগেও ছিলেন। তারা জোট করেছেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে। রাজনীতিতে এ স্বাধীনতা সবার আছে, কারণ এখানে একটি গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠিত। সেই সুফল নিয়ে যারা জোটবদ্ধ হয়েছেন, তারা কী করতে পারেন দেখা যাক। সারা দেশের নারীরা এই বক্তেব্যে অপমানিত হয়েছে। আপনারা নারী সাংবাদিকরা কি করছেন? আপনারা মামলা করেন, আমরা দেখবো।’

কেন সৌদিআরব গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী
সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে গত মঙ্গলবার সৌদি আরবে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরে সৌদি বাদশাহ সালমান এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। সফরের দ্বিতীয় দিন বুধবার রিয়াদে সৌদি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। ওই দিন দুপুরে তিনি সৌদি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং রাজপ্রাসাদে মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন।বাদশাহর সঙ্গে বৈঠকের পর রিয়াদে নিজস্ব জমিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা।বুধবার মদিনায় গিয়ে তিনি মসজিদে নববীতে এশার নামাজ পড়েন এবং মহানবী হজরত মোহাম্মদের (স.) রওজা জিয়ারত করেন।মদিনা থেকে বৃহস্পতিবার জেদ্দায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন। সেদিনই তিনি মক্কায় যান এবং ওমরাহ পালন করেন। সফর শেষে শুক্রবার রাতে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...