জীবনযাপন নয়, কবিতা যাপনের কবি

শুভ জন্মদিন ময়ুখ চৌধুরী

0

বাংলা কাব্যজগতের প্রচারবিমুখ ও মেধাবী কবি ময়ুখ চৌধুরীর জন্মদিন আজ সোমবার (২২ অক্টোবর)। তিনি একাধারে সাহিত্যিক, সমকালীন গদ্যশিল্পী এবং সদ্য অবসরে যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ১৯৫০ সালের এই তারিখে চট্টগ্রামের দক্ষিণ নালাপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বাংলা কাব্যের গতিপ্রকৃতিতে উনিশ শতকের নবচেতনা এবং রীবন্দ্রনাথের ছোট গল্পের আখ্যান নিয়ে তাঁর মৌলিক গবেষণা রয়েছে।

পরিশ্রমী গবেষক হিসেবে কবি ময়ুখ চৌধুরীর খ্যাতি তর্কাতীত। বোধে, অনুভবে ও পারঙ্গমতায় তিনি মনে প্রাণে সৎ, সাহসী ও শুদ্ধ। বাংলা কাব্যজগতের দিকপাল কবি জীবনানন্দ দাশের প্রয়ান দিবসে জন্ম নেয়া কবি ময়ুখ চৌধুরী তীব্র হতাশাবোধ থেকে লিখেছেন ‘বোতামেরও ঘর থাকে, আমার তো হলো না কিছুই’।

জন্মদিনে তাঁর অনুভূতির কথা জানিয়ে ময়ুখ চৌধুরী জয়নিউজকে বলেন, ‘প্রানী জগতের সবারই জন্মদিন ও মৃত্যুদিন থাকে। এই দোলাচলে জীবনকে লম্বা না করে বড় করতে চাই। জীবনের সফলতা-ব্যর্থতা কারো দেখার দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে। আমি জীবনে যা পেয়েছি তাতে খুশি। আমার এত পাঠক, ভক্ত ও অনুরাগী তারাই আমার জীবনের প্রাপ্তি। যা পাইনি তার জন্য দুঃখও আছে। সামনে আরো ভালো এবং বেশী করে লিখতে চাই’।

কবির আলোচিত কাব্যগ্রন্থ ‘আমার আসতে একটু দেরি হতে পারে’ কবিতাগ্রন্থ প্রকাশ করেন সেই ২০০২ সালে। এরপর দীর্ঘ অভিমানে কেটেছে ১৩ বছর। এরপর ২০১৫ সালে কবিতা অনুরাগী শ্রোতা-ভক্তদের দিকে তাকিয়ে জন্ম দিলেন নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘পলাতক পেন্ডুলাম’। বাংলা সাহ্যিতের দিকপাল অধ্যাপক ড. আবু হেনা মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে তিনি কবি শামসুর রাহমান বিষয়েও মৌলিক গবেষণা হাজির করেন বাংলা সাহিত্যে। ২০১৫ সালে যিনি কবিতায় অবদানের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সাহিত্য পুরস্কার এবং একই বছর সাহিত্য অসামান্য অবদানের জন্য আবদুল করিম খান স্মৃতি পুরস্কার লাভ করেন।

বাংলা কবিতার তিরিশ দশকের ব্যক্তিবাদী ধারার উত্তরাধিকারী ময়ুখ চৌধুরী শিক্ষকতা জীবনে খোলামেলা বক্তা ও তুমুল আড্ডাবাজ হিসেবে খ্যাত। ক্যাম্পাসের ঝুপড়ি যার স্মৃতি ও ঐতিহ্য বহন করে চলছে। বিরল সাহিত্যগুণসম্পন্ন প্রাবন্ধিক হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম ও জাতীয় পর্যায়ের দৈনিক পত্রিকার দৈনন্দিন ও বিশেষ প্রকাশনায় নিয়মিত লিখেন।

ময়ুখ চৌধুরী কবির ছদ্মনাম। পেশাগত জীবনে তাঁর আনুষ্ঠানিক নাম অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজিম। গুণী এই অধ্যাপক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘ কর্মময় জীবন অতিবাহিত করেছেন। জীবনের প্রায় গুরুত্বপূর্ণ সময়ের পুরোটা তিনি কাটিয়েছেন চট্টগ্রামের নাগরিক কোলাহল থেকে দূরে এবং খ্যাতির অন্তরালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের নিভৃত আবাসিক এলাকায়। এই কবি একই বিভাগের সহকর্মী, অধ্যাপক ও কবি তাসলিমা শিরীণের সাথে কাটাচ্ছেন দীর্ঘ দাম্পত্য সম্পর্ক।

ভক্তকূল পরিবেষ্টিত কবি

চট্টগ্রামের সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক পাশ করেন। এরপর চট্টগ্রাম কলেজ থেকে অর্জন করেছেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি। ১৯৭৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী তিনি ১৯৭৮ থেকে ৮৩ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

সূত্র জানায়, ১৯৬৫ সালে ময়ুখ চৌধুরীর প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয়। ১৯৬৮ সালে সম্পাদনা করেন সাহিত্য কাগজ ‘প্রতীতি’; এই কাগজের প্রচ্ছদ শিল্পীও ছিলেন তিনি নিজে। এরপর ১৯৭০ সালে ‘কবিতা’ নামে আরেকটি একটি কবিতাপত্র প্রকাশ করেন তিনি। ১৯৭৩ সালে শিশির দত্ত সম্পাদিত ‘স্বনির্বাচিত’ কাগজে প্রথম লেখা ছাপা হয় তার। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘কালো বরফের প্রতিবেশী’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৯ সালে। তার সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ ‘পলাতক পেন্ডুলাম’ প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে। তাঁর সৃষ্টি কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে, ‘অর্ধেক রয়েছি জলে, অর্ধেক জালে’, ‘তোমার জানলায় আমি জেগে আছি চন্দ্রমল্লিকা’, ‘প্যারিসের নীলরুটি’, ‘আমার আসতে একটু দেরি হতে পারে’, ‘ক্যাঙ্গারুর বুকপকেট’, ‘পিরামিড সংসার’, ‘চরণেরা হেটে যাচ্ছে মুণ্ডুহীন’। তাঁর সর্বশেষ কাব্যগ্রন্থ ‘জারুলতলার কাব্য’।

  • ফরহান অভি/পার্থ প্রতীম নন্দী/ধৃতরাষ্ট্র
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...