বাঁকখালীতে ভাসছে কল্পজাহাজ

0

দুইশ’ বছর আগে মিয়ানমারে প্রচলিত কল্পজাহাজ ভাসা উৎসব রাখাইনরা প্রথম রামুতে প্রচলন করেন। এরপর থেকে রামুতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও রাখাইনরা প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে বাঁকখালী কল্পজাহাজ ভাসা উৎসবের আয়োজন করে আসছে। এ উৎসবকে ঘিরে রামুর বাঁকখালী নদীতে চলে আনন্দ আয়োজন। নদীর দু’পাড়ে নামে হাজার হাজার নর-নারীর ঢল। নানা বাদ্য বাজিয়ে নাচে-গানে বুদ্ধ কীর্তন করেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) রামু বাজারের পূর্ব পাশে বাঁকখালী নদীতে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে ঐতিহ্যবাহী কল্পজাহাজ ভাসানোর উৎসব। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে দু’দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে রামু বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ পরিষদ। প্রবারণা উদযাপনের শেষ দিন কল্পজাহাজ ভাসানো উৎসবে রামুর বাঁকখালী নদীর দু’পাড়ে বৌদ্ধরা ছাড়াও মুসলিম-হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং দেশ-বিদেশের পর্যটকদের অংশগ্রহণে পরিণত হয় মিলন মেলায়।
সাত-আটটি নৌকার উপর বাঁশ, কাঠ, বেত, রঙ্গিন কাগজে তৈরি রেঙ্গুনী কারুকাজে সাতটি কল্পজাহাজ ভাসানো হয় বাঁকখালী নদীতে। হাঁস, ময়ূর, সিংহ ও ঘোড়া’র উপরে যেন ভাসছে ২৮ বুদ্ধের আসন স্বর্ণের প্যাগোডা। এসব কল্পজাহাজে ওঠে শিশু-কিশোর ও যুবকদের বাঁধভাঙা আনন্দের জলকেলী উৎসব।
প্রতিটি কল্পজাহাজেই ছিল একাধিক মাইক। ঢোল, কাঁসা, মন্দিরাসহ নানা বাদ্যের তালে তালে শিশু কিশোর ও যুবকরা নেচে গেয়ে মাতে বাঁধভাঙা আনন্দে। জাহাজ নিয়ে ভাসতে ভাসতে এপার থেকে ওপারে যেতে যেতে মাইকে চলে বৌদ্ধ কীর্তন, নাচ, গানসহ নানা আনন্দায়োজন।
রামু উপজেলা বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সংষ্কৃতি ও পূরাকীর্তি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু জানান, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিনমাস বর্ষাব্রত পালনের শেষ দিনই হচ্ছে প্রবারণা পূর্ণিমা।
দুপুর দেড়টায় উৎসবের শুরুতে পবিত্র ত্রিপিটক পাঠ করে কল্পজাহাজ ভাসানো উদ্বোধন করেন উখিয়া পাতাবাড়ি আনন্দভূবন বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ প্রজ্ঞাবোধি মহাথের। ভূবন শান্তি একশ’ ফুট সিংহ শয্যা গৌতম বুদ্ধ মূর্তির প্রতিষ্ঠাতা ও উত্তর মিঠাছড়ি বিমুক্তি বিদর্শন ভাবনা কেন্দ্রের পরিচালক করুণাশ্রী থের এ উৎসবে সভাপতিত্ব করেন। রামু উপজেলা বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সংষ্কৃতি ও পূরাকীর্তি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু এ অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তৃতা ও সাধারণ সম্পাদক কেতন বড়ুয়া স্বাগত বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লুৎফর রহমান, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্ত ভূষণ বড়ুয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) চাই থোয়াইহ্লা চৌধুরী, রামু থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল মনসুর, ওসি (তদন্ত) এম এম মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশন রামু’র সভাপতি কিশোর বড়ুয়া, রামু কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহারের সাধারণ সম্পাদক রাজু বড়ুয়া, কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অমরবিন্দু বড়ুয়া অমল, বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি রামু’র সভাপতি স্বপন বড়ুয়া, জাহাজ ভাসানো উৎসবের সাবেক সভাপতি পলক বড়ুয়া আপ্পু, রামু কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ যুব পরিষদের আহ্বায়ক রজত বড়ুয়া রিকু, কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদ রামু’র সভাপতি রিটন বড়ুয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপুল বড়ুয়া আব্বু।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...