বড় দুই দলে প্রার্থীজট, সুযোগ নিতে চায় জাপা

ঢাকা-৭ (লালবাগ-চকবাজার)

0

রাজধানীর ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র খ্যাত লালবাগ-চকবাজার (ঢাকা-৭) সংসদীয় আসনটি লালবাগ-চকবাজার-বংশাল থানার ১৩টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।  তাই রাজধানীতো বটেই সারা দেশে এ আসনটির গুরুত্ব অনেক। কেন না পাইকারী বাজার হিসেবে চকবাজার বাংলাদেশের কয়েকটি বাজারের মধ্যে অন্যতম। তাই এ বাজারে সারা দেশ থেকে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য যাতায়াত করে থাকেন।

এই আসনের বর্তমান এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিম।  তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে দলের প্রার্থী ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের মনোনয়ন মেনে নিতে পারেননি।  শুধু তাই নয়, দলকে একপ্রকার চ্যালেজ্ঞ করে দলীয় বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন এবং বিপুল ভোটে  জয়ী হন। এ কারণে প্রাথমিকভাবে আওয়ামী লীগ থেকে তাকে বহিস্কার করা হলেও পরে দল তাকে ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে ক্ষমতাসীন দল তাকে দলে ফিরিয়ে নেন।  ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন তিনি। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে তিনি মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করেন।  বলা যেতে পারে পুরো পুরান ঢাকায় হাজী সেলিমের আধিপত্য রয়েছে। তবে তার শারিরিক অসুস্থতার কারণে জনপ্রিয়তা থাকার পর মনোনয়ন দৌড়ে তাকে এবার বেশ পেছনে ফেলে দিচ্ছে বলে মনে করেন দলটির হেভিওয়েট  নেতারা।

হাজী সেলিম স্বাভাবিক জীবন যাপন করলেও তিনি অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে পারেন না। এ কারণে আওয়ামী লীগও বিকল্প প্রার্থী হিসেবে সাবেক সদস্য ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনকে মনোনয়ন দিতে পারে। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে হাজী সেলিম মনোনয়ন পাবেন বলে মনে করেন। এজন্য কথা বলতে না পারলেও ইশারা দিয়ে প্রতিদিনই গনসংযোগ করছেন। তারপরও তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে যদি তাকে মনোনয়ন দেওয়া না হয় তবে হাজী সেলিমের পুত্র সোলায়মান সেলিমও বাবার বিকল্প হিসেবে মনোনয়ন চাইতে পারেন। এছাড়া এ আসনে আরো বেশ কয়েকজন প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হুমায়ন কবির, দক্ষিণ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আকতার হোসেন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান মানিক অন্যতম। তবে শেষ মুহুর্তে কে নৌকার মনোনয়ন পান সেটাই এখন দেখার বিষয়।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক সংসদ  সদস্য ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন জয় নিউজকে বলেন,আমি মনোনয়ন পাবো বলে শতভাগ আশা করছি। এজন্য দিন রাত এলাকায় কাজ করছি। মানুষের বিপদে আপদে পাশে থাকছি। দল তাকে এবারও মূল্যায়ন করবে বলেও তিনি মনে করেন। তার মতে হাজী সেলিম অসুস্থ থাকায় এ আসনে আর কোন বিকল্প নাই বলে তার ধারণা। জয়ের ধারা বজায় রাখার জন্য  অবশ্যই তাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে লালবাগ-চকবাজার ঢাকা -৭ আসটিতে বিএনপিরও প্রার্থী  অনেক। এর মধ্যে রয়েছেন কারাগারে প্রয়াত বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর স্ত্রী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি নাসিমা আক্তার কল্পনা। তিনি এবার মনোনয়ন বিএনপির মনোনয়ন  পেতে পারেন। কারণ এ আসনে  তার বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। যদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয় তবে পিন্টুর জনপ্রিয়তা কাজে লাগিয়ে পিন্টুর স্ত্রীর মনোনয়ন পাওয়ার বিশাল সুযোগ রয়েছে। এমনটাই ধারণা সাধারণ ভোটারদের।

পাশাপাশি এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চাইতে পারেন পিন্টুর ভাই নাসিমউদ্দিন আহমেদ রিন্টু,  বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-যুব বিষয়ক সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম রাসেল, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক কমিশনার মোশারফ হোসেন খোকন এবং মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি মীর আশরাফ আলী আজম। এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর স্ত্রী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি নাসিমা আক্তার কল্পনার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তিনি কথা বলতে রাজী হননি।

এ আসনে আওয়ামী লীগ বিএনপির প্রার্থী জট লাগলেও বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন  জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন। তিনি বলেন আমি লাঙ্গল নিয়ে এ আসনে  নির্বাচন করবো। এলাকার মানুষ আমাকে ডাকার আগেই চলে যাই। আমি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তার ধারণা মহাজোট থেকে তাকে এবার মনোনয়ন দিলে তার বিজয় সুনিশ্চিত।

এছাড়া এ আসনটিতে জামায়াতে ইসলামীর একটা ভোট ব্যাংক থাকলেও কোন প্রার্থীকে  নির্বাচন কেন্দ্রীক কোন  তৎপরতায় দেখা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...