সোহরাওয়ার্দীতে বাবুনগরীর অনুপস্থিতি কি ইঙ্গিত করে?

0

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তরকে স্বীকৃতি দেওয়ায় সোহরাওয়ার্দীতে শুকরানা মাহফিল করেছে হেফাজত। লাখ লাখ কওমী শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘কওমি জননী’উপাধিতে ভূষিত করেন দেশের শীর্ষ কওমীপন্থী আলেমরা। কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হয় মুসলিম উম্মাহ’র কল্যাণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকেও।

এটুকু পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে অন্যখানে।

শুকরানা মাহফিলে হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শফী যখন লাখো কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পাশে, ঠিক তখন সংগঠনের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী অবস্থান করছিলেন তার গ্রামের বাড়ি ফটিকছড়ির বাবুনগর গ্রামে!

শুধু বাবুনগরীই নয়; হেফাজতের প্রভাবশালী ডজনখানেক নেতা শুকরানা মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন না!

রোববার (৪ নভেম্বর) সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংগঠন আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের ‍উদ্যোগে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে এক শুকরানা মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রজ্ঞাপন জারি করে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে স্নাতকোত্তরের স্বীকৃতি দিয়ে আইন পাস করায় এই মাহফিলের আয়োজন করে সংগঠনটি।

আলোচিত এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন না জুনায়েদ বাবুনগরীসহ হেফাজতে ইসলামের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা।

চট্টগ্রামের রাজনীতি সচেতনদের কাছে বিষয়টি আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনার আয়োজনে উপস্থিত না থাকায় হেফাজত মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে আল্লামা শফীর দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এলো কিনা সে প্রশ্নও উঠেছে।

জানা গেছে, রোববার সকালে হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক জুনায়েদ বাবুনগরী ছিলেন তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বাবুনগর গ্রামে। শুকরানা মাহফিল উপলক্ষে কওমিপস্থি আলেম-ওলামা তৈরির আঁতুড়ঘর হাটহাজারী মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় তিনি তার গ্রামের বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ব্যস্ত সময় পার করেন বলে নিশ্চিত করেছে কয়েকটি সূত্র।

শুকরানা মাহফিলে না যাওয়ার বিষয়টি আগেই নির্ধারণ করে রেখেছিলেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। শনিবার সন্ধ্যায় হাটহাজারী মাদ্রাসায় গিয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জয়নিউজকে বলেন, আমার শরীর ভালো নয়। তাই শুকরানা মাহফিলে যেতে পারছি না।

তবে নাম প্রকাশ না করা শর্তে মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী জানান, সম্প্রতি শুকরানা মাহফিল নিয়ে সৃষ্ট হেফাজতের অন্তর্কোন্দলের কারণে তিনি ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাচ্ছেন না। অথচ হুজুর (জুনায়েদ বাবুনগরী) শারীরিকভাবে আগের চাইতে অনেক সুস্থ।

তিনি আরো জানান, হেফাজতের মহাসচিব ও বেফাকের সহসভাপতির দায়িত্বে থাকলেও বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত তাঁর অজান্তেই হয়। তিনি সরকারবিরোধী অবস্থানের কারণে নানা সমস্যায় পড়ছেন। ভারতে গিয়ে উন্নত চিকিৎসা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তাঁর পাসপোর্ট আটকে রেখেছে। ফলে তিনি দেশের বাইরে যেতে পারছেন না। এছাড়া হুজুরের বিরুদ্ধে অনেক মামলা করা হয়েছিল। সেগুলো তুলে নেওয়া হয়নি।

এদিকে শুকরানা মাহফিল নিয়ে সৃষ্ট হেফাজতের অন্তর্কোন্দলের কারণে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হেফাজত নেতৃত্বের বড় একটা অংশ অনুপস্থিত ছিল।

নেতৃবৃন্দের মধ্যে কিছুদিন আগে পদত্যাগ করা সংগঠনটির সিনিয়র নায়েবে আমীর মহিববুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, নায়েবে আমীর ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আল্লামা হাফেজ তাজুল ইসলাম, নায়েবে আমীর তফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী, আল্লামা সুলতান জওক নদভী, আল্লামা আব্দুর রব ইউসুফী, আল্লামা আব্দুল মালেক হালিম, মুফতি ইজহারুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা ফজলুল করিম কাসেমী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী শুকরানা মাহফিলে অংশগ্রহণ করেনি বলে একটি সূত্র এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেন।

 

জয়নিউজ/জুলফিকার

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...