দায়িত্ব পালনে মেয়র, বেতন পান অসহায়রা

0

মাস শেষ হলে তিনি সম্মানি পান ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। দিন-রাত নগরবাসীর সেবায় নগরের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে এই পারিশ্রমিক যোগ হয় তাঁর আয়ের খাতায়। কিন্তু সেই কষ্টার্জিত অর্থের পুরোটাই তিনি বিলিয়ে দেন মানুষের সেবায়।

জনদরদী এই মানুষটির নাম আ জ ম নাছির উদ্দীন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি। জনসেবায় নিবেদিত এই রাজনীতিক তাঁর মাসিক বেতন ও সম্মানি মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রাপ্ত পুরো টাকাটাই বিলিয়ে দেন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, অটিজম সেবা প্রতিষ্ঠান এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে।

মঙ্গলবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে মেয়রে কার্যালয়ে প্রতি মাসের মতো অক্টোবর মাসের বেতন গরিব-অসহায় মানুষের হাতে তুলে দেন মেয়র। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কবি-সাংবাদিক অরুণ দাশগুপ্ত।

চসিকের অতিরিক্ত প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ন কবির চৌধুরী জয়নিউজকে জানান, মেয়র প্রতি মাসে প্রাপ্ত সরকারি বেতন-ভাতার পুরোটাই নির্ধারিত কিছু প্রতিষ্ঠান ও অসহায় মানুষকে দান করেন। মেয়র নিজের কেনা ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করেন। গাড়ির জ্বালানি তেলের খরচও নিজে বহন করেন। থাকেন আন্দরকিল্লা এলাকায় নিজের পৈত্রিক বাড়িতে। নিজের পাওয়া সম্মানির টাকার এক পয়সাও তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যয় করেন না। সব টাকাই তিনি বিলিয়ে দেন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, অটিজম সেবা প্রতিষ্ঠান এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে। করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী একজন মেয়র হিসেবে সরকারি গাড়ি, জ্বালানি, আবাসন সুবিধাসহ নানা সুযোগ-সুবিধাও পাওয়ার কথা তাঁর। কিন্তু মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এসব সুযোগ-সুবিধার একটিও নেননি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে।

প্রতি মাসের মতো অক্টোবর মাসের সম্মানির টাকা থেকে মেয়র দক্ষিণ হালিশহরের ফসিউল আলমকে চিকিৎসার জন্য ২৫ হাজার টাকা ও ফিরোজ শাহ কলোনী এলাকার খাইরুন নাহারকে মেয়ের বিবাহের জন্য ১০ হাজার টাকা তুলে দেন।

এছাড়া অটিজম সেবা প্রতিষ্ঠান কনসার্ন সার্ভিস ফর ডিসএ্যাবলডকে (সিএসডি) মাসিক ২০ হাজার টাকা, নিষ্পাপ অটিজম ফাউন্ডেশনকে মাসিক ৩০ হাজার টাকা, প্রেরণা অটিজমকে মাসিক ২০ হাজার টাকা, গৌরি ললিতকলা একাডেমিকে মাসিক ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।

মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুমি আকতার, হাফেজ ওমর ফারুক, সুদীপ্ত ঘোষ, হাফসা আকতার ও এমবিবিএস পড়ুয়া ছেলের পড়াশোনার জন্য আবদুল মোমেন পাটোয়ারিকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে, আনওয়ার হোসাইনকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা এবং মোশরেকা আকতারকে প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।

 

জয়নিউজ/কাউছার/জুলফিকার

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...