অবশেষে প্রকাশ্যে শাহাদাত, তবে গ্রেফতার হয়ে!

0

এবার কারাগার অথবা আদালত পাড়ায় গেলে সাক্ষাত মিলবে ডা. শাহাদাতের! দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছিল না গা ঢাকা দেওয়া নগর বিএনপির এই সভাপতিকে। বাসা, অফিস, দলীয় কার্যালয় কোথাও ছিলেন না তিনি। নেতা-কর্মীরা পাচ্ছিলেন না তাকে কোথাও। মামলা থাকায় তার এভাবে আত্মগোপনে যাওয়া। তবে দায়িত্বশীল পদে থেকে অন্য নেতাদের কেউ তার মত এভাবে গা ঢাকা দেননি। নেতার সাক্ষাত না পাওয়া নেতা-কর্মীরা বলছেন, পলাতক শাহাদাতকে এবার পরামর্শ ও নির্দেশনার জন্য পাওয়া যাবে কারাগারে অথবা আদালত পাড়ায়!

তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানের কথা বলা যাক। মামলা তাদেরও আছে। সমাবেশ, মিছিল কিংবা সভা- সবকিছুই তারা চালিয়েছেন সমানতালে। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধেও মামলা রয়েছে। তিনিও ছিলেন বক্কর, সুফিয়ানের সঙ্গে। সম্প্রতি শামীম, বক্কর ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের প্রস্তুতি সভা থেকে বের হয়ে নগরের জিইসি মোড়ে গেলে সেখান থেকে গ্রেফতার হন। গ্রেফতারের সম্ভাবনা থাকলেও শাহাদাতের মত আত্মগোপনে ছিলেন না এদের কেউ।

এত আত্মগোপনে থেকেও গ্রেফতার এড়াতে পারেননি শাহাদাত। বুধবার (৭ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় ঢাকার সিএমএম আদালত প্রাঙ্গণ থেকে গ্রেফতার হন তিনি। সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর নগরের নুর আহমদ সড়কে অনুষ্ঠিত ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল তাকে।

২১ অক্টোবর চট্টগ্রাম আদালতে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জামিন শুনানির দিন পুলিশের ওপর বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলার ঘটনার পর থেকে উধাও ছিলেন শাহাদাত। ২৫ অক্টোবর জামিন নিয়ে চট্টগ্রাম এসে ২৭ অক্টোবর ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে তিনি সভাপতিত্ব করেন। ওই সমাবেশে ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আ স ম আবদুর রব, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ অতিথি ছিলেন।

অভিযোগ আছে, দলের বড় কোন সমাবেশ হলে হাজির হন শাহাদাত। এরপর কেন্দ্র ঘোষিত কিংবা নগর কেন্দ্রীক কোন আয়োজনে মেলে না তার উপস্থিতি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দলের অন্যান্য নেতারা দিন-রাত পরিশ্রম করে কর্মসূচি আয়োজন করে। ঠিক অনুষ্ঠানের দিন হাজির হয়ে নিজের দায়িত্ব শেষ করেন শাহাদাত।

২৭ অক্টোবরের আগে ও পরে তিনি ছিলেন না মাঠে। ২৭ অক্টোবরের পর নগর বিএনপির দুটি বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান, আরেকটি কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন ভিপি নাজিম উদ্দিন। অথচ ভিপি নাজিম বিএনপির কোন কমিটিতে নেই। উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ছিলেন তিনি।

এ অভিযোগের সত্যতা মিলেছে ৭ নভেম্বর নগর বিএনপির ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’র কর্মসূচিতে। এতেও নেই ডা. শাহাদাত। কর্মসূচি পালন হয়েছে বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এম এ নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বে।

এর আগে বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি আয়োজনেও অনুপস্থিত ছিলেন ডা. শাহাদাত। ১ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে বিএনপি। এর সপ্তাহখানেক আগেই দেশ ত্যাগ করেছিলেন ডা. শাহাদাত।

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের একদিন আগে তিনি ভারত যেতে চেয়েছিলেন। ইমিগ্রেশন পুলিশের ইচ্ছায় বিমানবন্দর থেকে ঘরে ফেরত আসতে হয়েছে তাকে। ২৬ মার্চ সারাদেশে বিএনপি স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি পালন করে। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ডা. শাহাদাতের নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম নগর বিএনপি। তারা কোন কর্মসূচি পালন করেনি।

৮ ফেব্রুয়ারি দলের চেয়ারপারসন গ্রেফতার হওয়াকে কেন্দ্র করেও তেমন কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি চট্টগ্রাম নগর বিএনপিকে। সেদিন সকালে ডা. শাহাদাত নগর কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মী ছাড়াই একপায়ে একাকী দাঁড়িয়ে ছিলেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাতেগোনা কয়েকজন নেতা-কর্মী যোগ দেন তার সঙ্গে। এক পর্যায়ে কিছুটা রহস্যের সঙ্গে ২৩ জন নেতা-কর্মী নিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন তিনি।

কেউ কেউ বিষয়টিকে দলের জন্য তাঁর আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ বললেও অনেকের কাছ থেকে এসেছে সমালোচনা। তাদের মতে, একজন নেতার সফলতা হলো সহকর্মীদের মাঠে সক্রিয় রাখা। কিন্তু কর্মীতো দূরে থাক, তার কমিটির ২৭৫ জনের বিশাল বহরের অর্ধশত নেতাকেও সেদিন মাঠে আনতে পারেননি তিনি।

৮ ফেব্রুয়ারি ডা. শাহাদাত গ্রেফতার হয়ে কারাগারে ছিলেন ১৫ মার্চ পর্যন্ত। মামলাও ছিল জামিনযোগ্য। হাইকমান্ডের কাছে কাটতি বাড়াতে দলীয় সভানেত্রী কারাগারে থাকার সময়ে কারাভোগ করেছেন তিনিও। এ সময় জামিনের আবেদনে তার গড়িমসি ছিল বলেও অভিযোগ করে যাচ্ছে নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ।

তাদের অভিযোগ, অনুমতি পেয়ে নগর বিএনপি যখন ১৬ মার্চ বড় সমাবেশের আয়োজন করল ঠিক তার আগের দিন জামিনের আবেদন করে কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে সমাবেশে হাজির হন শাহাদাত। এসব কারণে তাকে ঘিরে দলে বিরাজ করছে অসন্তোষ।

এদিকে দলের সিনিয়র নেতারা প্রকাশ্যে মুখ না খুলছেন না শাহাদাত প্রসঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগর ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী একাধিক নেতা জয়নিউজকে বলেন, বড় কর্মসূচি ঘোষণার পরপর সভাপতির উধাও থাকা সবার কাছেই দৃশ্যমান। তিনি যেহেতু নগর বিএনপির শীর্ষ পদে আছেন তাই এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলা উচিত হবে না। তবে দলের মধ্যেই এ নিয়ে ক্ষোভ আছে।

তারা আরো বলেন, এবার যেহেতু ডা. শাহাদাত জেলে গেছেন সেহেতু আমরা পরামর্শ কিংবা নির্দেশনার জন্য কারাগারে অথবা আদালতে সাক্ষাত পাবো।

জয়নিউজ/ফরহান অভি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...