জিম্বাবুয়েকে ৪৪৩ রানের টার্গেট দিল বাংলাদেশ

0

সিলেট টেস্টে ভরাডুবির পর আগেই নিশ্চিত হয়েছে এই সিরিজটা আর নিজেদের দখলে নিতে পারছে না স্বাগতিক বাংলাদেশ। তবে লক্ষ্য ছিল অটুট, ঢাকাতে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটা ১-১ এ সমতা আনবে টাইগারা। আপাতত সেই পথেই ছুটছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। জিম্বাবুয়েকে জয়ের জন্য ৪৪৩ রানের পাহাড়সম টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ

প্রথম ইনিংসে ২১৮ রানের এগিয়ে থেকে ম্যাচের চতুর্থ দিন আজ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে এসে শুরুতে একেবারেই সুবিধা করতে পারেননি লিটন-ইমরুলরা। এদিনও ফুটে উঠেছে ব্যাটিংয়ের সেই ‘চিরাচরিত’ দৈন্য দশা। শুরুটা হয় ইমরুল কায়েসকে দিয়ে, দলীয় ৯ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৩ রানে আউট হয়ে ফিরে যান এই ওপেনার। এর ১ রান পরেই জার্ভিসের দ্বিতীয় শিকার হন লিটন দাস। একই রানে ফিরেছেন মুমিনুল হকও।

১০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন দিশেহারা টাইগাররা। তখন ক্রিজে আসেন প্রথম ইনিংসের হিরো মুশফিকুর রহিম। তবে এদিন হতাশ করেছেন তিনিও। ব্যক্তিগত ৭ রানে আত্মাহুতি দিয়েছেন ত্রিপানোর বলে মাভুতার হাতে ক্যাচ দিয়ে। এরপর অভিষিক্ত মিঠুন আর দলীয় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মিলে কাটিয়ে উঠেন সেই বিপর্যয়। পরে কোন উইকেট না হারিয়ে ৭৪ রানে প্রথম সেশনের খেলা শেষ করেন দুজন।

দ্বিতীয় সেশনের শুরুটা করেন দুর্দান্তভাবে, দুজনেই তুলে নেন নিজেদের অর্ধশতকটা। এরপর লিডের ভারটা আরো বাড়াতে যেয়ে হাত খুলে খেলতে শুরু করেন মিঠুন। তবে রাজাকে টানা দুবার তুলে মারতে যেয়ে ধরা পড়েন চাকাভার হাতে, ফেরেন ৬৭ রানে। এর পরপরই নতুন ব্যাটসম্যান আরিফুল হককে আউট করেন উইলিয়ামস, ফলে ১৫১ রান তুলতেই ছয় উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।

সেখান থেকে মিরাজকে নিয়ে ব্যাট চালিয়ে খেলতে থাকেন রিয়াদ, ইনিংস ঘোষণার জন্য অপেক্ষায় থাকেন এই ফরম্যাটে নিজের দ্বিতীয় শতকটার। অবশেষে আসলো সেটাও। এর পরপরই দলীয় ২২৪ রানের মাথায় দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে দেই বাংলাদেশ দল। রিয়াদ ১০১ ও মিরাজ অপরাজিত থাকেন ২৭ রান নিয়ে। ফলে আগের ২১৮ রানের সাথে দ্বিতীয় ইনিংসে করা ২২৪ রানের সুবাদে সর্বমোট ৪৪২ রানের সংগ্রহ দাঁড় করার স্বাগতিকরা। তাইতো ম্যাচ জয়ের জন্য সফরকারী জিম্বাবুয়ের টপকাতে হবে পাহাড়সহ রান।

এর আগে দীর্ঘ আট ইনিংস পর দুশো ছাড়ানো স্কোর এসেছে বাংলাদেশের দলীয় রানে। ব্যাট হাতে ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। শতক হাঁকিয়েছে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান মুমিনুল হকও। তাদের দুজনের সাথে মিরাজের অপরাজিত ৬৮ রানের ইনিংসের উপর ভর করে দলীয় স্কোর ৫২২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন দলীয় অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

এরপর বলহাতে নিজেদের দায়িত্বটা ঠিকই বুঝে নিয়েছিলেন তাইজুল-মিরাজরা। অফ স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের ৩ উইকেটের সাথে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ৫ উইকেটের কল্যাণে জিম্বাবুয়েকে ৩০৪ রানের গুটিয়ে দেই বাংলাদেশ দল। ফলে ফলো অনে পড়ে সফরকারীরা। তবে আজ ম্যাচের চতুর্থ দিনের শুরুতে প্রতিপক্ষে আবার ব্যাটিংয়ে না পাঠিয়ে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকরা।

জয়নিউজ/শহীদ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...