সিরিজ বাঁচানোর জয়

0

মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে জিম্বাবুয়েকে ২১৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ১-১ সমতায় শেষ করল বাংলাদেশ।

চোট পাওয়া টেন্ডাই চাতারা প্রথম ইনিংসের পর শেষ ইনিংসেও ব্যাটিংয়ে নামতে পারেননি। ফলে চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনে ২২৪ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে।

স্কোর: জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৪৪৩) ২২৪/১০ (৮৩.১ ওভার)।

জোড়া সেঞ্চুরিতে টেইলরের রেকর্ড

প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি করেছেন ব্রেন্ডন টেইলর। ডানহাতি ব্যাটসম্যান ৯৯ থেকে তাইজুল ইসলামের বলে এক রান নিয়ে ১৬৪ বলে পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি।

এ নিয়ে দ্বিতীয়বার একই টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করলেন টেইলর। জিম্বাবুয়ের আর কারও একের অধিক জোড়া সেঞ্চুরি নেই। সব মিলিয়ে ১৪তম ক্রিকেটার হিসেবে একের অধিক জোড়া সেঞ্চুরি করলেন টেইলর। তার প্রথমটিও ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষেই।

মিরাজের বলে ত্রিপানো আউট

ডোনাল্ড ত্রিপানোকে টিকতেই দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। তাকে নিজের তৃতীয় শিকার বানিয়ে ফিরিয়েছেন সাজঘরে। অফ স্পিনারের বল ত্রিপানোর গ্লাভস ছুঁয়ে যান শর্ট লেগে। ডান দিকে হাত বাড়িয়ে দারুণ এক ক্যাচ নেন লিটন দাস।

ত্রিপানো ৯ বলে শূন্য রান করে ফেরার সময় জিম্বাবুয়ের স্কোর ৭ উইকেটে ২০১ রান। ব্রেন্ডন টেলরের সঙ্গী এখন ব্রেন্ডন মাভুতা।

রান আউট চাকাভা

মেহেদী হাসান মিরাজের বলে রান আউট হয়ে ফিরেছেন রেগিস চাকাভা। অফ স্পিনারের বল মিড উইকেটে ঠেলে এক রানের জন্য ছুটেছিলেন ব্রেন্ডন টেইলর। অন্যপাশ থেকে ছুটে যান চাকাভাও। মুমিনুল হকের থ্রোয়ে বল ধরে স্টাম্প ভেঙে দেন মুশফিকুর রহিম। তখনো বেশ দূরেই ছিলেন চাকাভা।

তার বিদায়ের সময় জিম্বাবুয়ের স্কোর ৬ উইকেটে ১৯৯ রান। ব্রেন্ডন টেলরের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন ডোনাল্ড ত্রিপানো।

মুরকে ফেরালেন মিরাজ

ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠা বেন্ড্রন টেইলর-পিটার মুর জুটি ভাঙেন মিরাজ। তরুণ অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার ফিরিয়ে দিলেন পিটার মুরকে। দলীয় ১৮৬ রানের মাথায় পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লেগে শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে থাকা ইমরুল কায়েসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ১৩ রানে সাজঘরে ফিরেন পিটার মুর।

টেইলর-মুর জুটিতে পঞ্চাশ

প্রথম ইনিংসে শতরানের জুটি গড়া ব্রেন্ডন টেইলর ও পিটার মুর প্রতিরোধ গড়েছেন দ্বিতীয় ইনিংসেও। পঞ্চম উইকেটে গড়েছেন পঞ্চাশ রানের জুটি।

আস্থার সঙ্গে খেলে দুই ডানহাতি ব্যাটসম্যান ১২৫ বলে জুটির রান নিয়ে যান পঞ্চাশে। দ্বিতীয় ইনিংসে এটি সফরকারীদের দ্বিতীয় পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি।

রাজাকে ফেরালেন তাইজুল

পঞ্চম ও শেষ দিনের দ্বিতীয় উইকেট হিসেবে সিকান্দার রাজাকে তুলে নেন তাইজুল ইসলাম। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম উইকেট পান পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।

ক্রমেই দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে ওঠা সেন উইলিয়ামস ও ব্র্যান্ডন টেইলরের জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজুর রহমান। ৩৩ বলে ১৩ রান করে পঞ্চম দিনের শুরুতেই ফিরলেন উইলিয়ামস। ম্যাচের প্রথম উইকেট নিলেন বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজ।

দলীয় ১২০ রানে রাজাকে নিজেই ক্যাচ নিয়ে ফেরান তাইজুল। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে এটি তার দ্বিতীয় উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন এই স্পিনার। ৩৩ বলে ১২ রান তুলে দলকে জয় থেকে ৩২৩ রান দূরে রেখে ফেরেন রাজা। বাংলাদেশের প্রয়োজন আরও ৬ উইকেট।

২ উইকেটে ৭৬ রানে তুলে ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিন শেষ হয় জিম্বাবুয়ের। তাদের সামনে এখনও ৩৬৭ রানের বাধা আর বাংলাদেশের প্রয়োজন ৮ উইকেট। তবে বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) ৭ উইকেট তুলে নিলেই হবে তাইজুল-মিরাজদের। ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে আছেন জিম্বাবুয়ের টেন্ডাই চাতারা।

চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে ৪৪৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বেশ জাঁকিয়ে বসেন দুই জিম্বাবুইয়ান ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও ব্রায়ান চারি। তবে জিম্বাবুয়ে ইনিংসের ২৩তম ওভারের শেষ বলে ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে (২৫) মুমিনুলের ক্যাচ বানিয়ে টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরান অফ স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ।

দলীয় ৬৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। এরপর ২৬ ওভারে বল করতে এসে চতুর্থ বলে আরেক জিম্বাবুয়িয়ান ওপেনার চারিকে (৪৩) লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে বিদায় করেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। যদিও আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেছিলেন চারি, কিন্তু থার্ড আম্পায়ারও রিপ্লে দেখে আউটের সিদ্ধান্ত দেন।

এর আগে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ’র দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির উপর ভর করে ৬ উইকেট হারিয়ে ২২৪ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৮ বছর পর সেঞ্চুরির দেখা পান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১২২ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছান এই ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক। যেখানে জিম্বাবুয়েকে ৪৪৩ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দিয়েছে টাইগাররা।

অন্য ব্যাটসম্যান মেহেদি হাসান মিরাজ ৩৪ বলে ২টি চারে ২৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

এর আগে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ হন বাংলাদেশের দুই ওপেনার ইমরুল কায়েস ও লিটন দাশ। কাইল জারভিসের করা ওভারের প্রথম বলে মাভুতাকে ইমরুল ক্যাচ দেওয়ার পর তৃতীয় ওভারে বোল্ড হয়ে ফেরেন লিটন।

প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হকও টিকতে পারেননি। ট্রিপানোর বলে ফেরেন তিনি। আর ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম ব্যক্তিগত ৭ রানে ডোনাল্ড ট্রিপানোর বলে বিদায় নেন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ২৫ রানে চার টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানকে হারায় বাংলাদেশ। তবে মোহাম্মদ মিঠুন ও মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় টাইগাররা। দীর্ঘ ১০ ইনিংস পর ফিফটির দেখা পান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

অভিষেক টেস্টে হাফসেঞ্চুরির দেখা পান মোহাম্মদ মিঠুন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৯০ বলে ৪টি চারের সাহায্যে পঞ্চাশ করেন তিনি। যদিও প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়েছিলেন তিনি। পরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাফসেঞ্চুরির পর সিকান্দার রাজার বলে ফেরেন মিঠুন (৬৭)। এই জুটি থেকে ১১৮ রান আসে।

আরিফুল হক অবশ্য ক্রিজে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি। ব্যক্তিগত ৫ রানে শেন উইলিয়ামসের বলে বোল্ড হন তিনি।

এর আগে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের চতুর্থ দিন জিম্বাবুয়েকে দ্বিতীয় ইনিংসে ফলোঅন না করিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। যদিও তৃতীয় দিনের শেষে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংস শেষ হলে ধারণা করা হয়েছিল সফরকারীদের ফের ব্যাটিং করাবে টাইগাররা।

বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরি (২১৯) ও মুমিনুল হকের সেঞ্চুরিতে (১৬১) ৭ উইকেট হারানোর পর ৫২২ রানের বড় সংগ্রহের পর ইনিংস ঘোষণা করে।

জবাবে ব্র্যান্ডন টেইলরের সেঞ্চুরি (১১০) স্বত্ত্বেও ৩০৪ রানে থামে জিম্বাবুয়ে। ফলে ২১৮ রানে প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থাকে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও তার দল।

বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে টানা ৩ ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

জয়নিউজ/শহীদ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...