শত পাখির আসর জমছে যেখানে

0

পাখির নাম কোকাটেইল। আমরা যে পাখিকে কাকাতুয়া ডাকি সে পাখিরই একটি জাত এটি। এ পাখি দেখতে এখন আর বন-জঙ্গলের কোন ঝোপঝাড়ে যেতে হবে না আপনাকে।

লেজ লম্বা রঙিন ফিজেন্ট পাখির নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই। চীন কিংবা ইংল্যান্ডে গিয়ে এ পাখি দেখতে হবে না এখন আপনাদের। উচ্চস্বরে ডাকাডাকি করা ভীতু পাখি লাভ বার্ড নিয়েও আগ্রহ আমাদের পুরোনো। এই পাখিও এখন আমাদের হাতের নাগালে।

আমরা যে তোতা পাখি দেখতে পাই, এমনই একটি পাখি ম্যাকাও। দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন জঙ্গলে এদের বসতি হলেও আপনি চাইলে ক’টা দিন পর দেখে আসতে পারবেন তাদের।

শুধু এই পাখিগুলোই নয়; চট্টগ্রাম নগরে এই প্রথম ৬ প্রজাতির ২৮২টি বিদেশি পাখির স্থায়ী আসর বসছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। যাদের রাখা হবে নিবিড় প্রাকৃতিক পরিবেশে। তারা উড়তে পারবে, গাছের ডালে ঝুলতে পারবে। খেতে পাবে নিজেদের মতোই। তাদের ছুটোছুটি, মাতামাতিতে এই চিড়িয়াখানায় বয়ে যাবে আনন্দের নহর। তবে তাদের কারো জন্য রাখা হয়নি পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ।

অসংখ্য ফুল-ফল ও নানান জাতের গাছের রাজ্যে তৈরি করা বিশাল খাঁচায় বাকি জীবন পার করবে পাখিগুলো। উঁচু উঁচু গাছগুলোও এ খাঁচার ভেতর নিয়ে ফেলা হয়েছে। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ পাখিদের এই মিলন মেলার আয়োজনকে নাম দিয়েছে ‘ন্যাচারাল মিনি এভিয়ারি’।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার সদস্য সচিব ও হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন জয়নিউজকে জানান, ২০ জোড়া লাভ বার্ড, ৫০ জোড়া লাফিং বার্ড, ১০ জোড়া ফিজেন্ট পাখির পাশাপাশি ন্যাচারাল মিনি এভিয়ারিতে সংযোজন করা হয়েছে ১০ জোড়া রিংনেড প্যারোট, ৫০ জোড়া কোকাটেইল, ১ জোড়া ম্যাকাও পাখি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এসব পাখি সংগ্রহ করা হয়েছে। খাঁচা নির্মাণ, পাখি সংগ্রহ করতে ৪০ লাখ টাকা বাজেটে কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে এই প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে অবকাঠামো ব্যয় ২০ লাখ টাকা আর পাখি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। পাখিগুলোর বেশিরভাগই আমরা বুঝে পেয়েছি। ১৯ নভেম্বরের মধ্যে সবগুলো পাখি আমরা বুঝে পাবো। চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে যে কোন দিন উদ্বোধন হতে পারে এই পক্ষীশালা। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেনের এটি উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান প্রাথমিকভাবে ফয়’স লেকে বিনোদন, শিক্ষা এবং গবেষণার উদ্দেশে চিড়িয়াখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ১৯৮৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এই চিড়িয়াখানা জনসাধারণের জন্যে উন্মুক্ত করা হয়। বর্তমানে সত্তুরেরও বেশি প্রজাতির প্রায় ৭০০ প্রাণী রয়েছে এই চিড়িয়াখানায়।

জয়নিউজ/ফরহান অভি/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...