৯ বছর বাদে ক্যারিবিয়ান বধের স্বাদ মিলল চট্টগ্রামে

0

চট্টগ্রাম যেন আজ ফিরিয়ে নিয়ে গেল সেই ৯ বছর আগে অর্থাৎ ২০০৯ সালে। দলের বর্তমান অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে সেবার শেষবার উইন্ডিজের সাথে সাদা পোশাকে জয়ের দেখা পেয়েছিল বাংলাদেশ দল।

মাঝে চলে গেল আরও ৮টা টেস্ট। সাথে কেটে গেল ৯ টা বছর। তবুও ধরা দিল না কাঙ্ক্ষিত সেই জয়। এবার সেই স্বপ্ন পুরণটা হয়ে গেল চট্টগ্রামে। কাটলো ক্যারিবিয়ান বধের জন্য টাইগারদের ৯ বছরের খরাটা।

অ্যান্টিগার সেই স্মৃতিতে কি কিছুটা হলেও প্রলেপ দিতে পারল বাংলাদেশ দল? হয়তো বা পারল, হয়তো না। ক্রিকেটাররা বরাবরই বলেন, খারাপ স্মৃতিগুলা সহসা মনে রাখতে চান না তারা। তবে চাইলেই কি আর ভুলে থাকা যায় চলতি বছরের মাঝের দিকে এই উইন্ডিজের সাথে ৪৩ রানের পরাজয়ের লজ্জার কথাটা। অ্যান্টিগার পর জ্যামাইকা, ফল আসেনি সঙ্গে। তবে মাস চারেক পরেই আজ সেই ক্যারিবিয়ানদের নাস্তানাবুদ করা গেল চট্টগ্রামে। এতেই হয়তো ঘুচলো খানিকটা আক্ষেপ।

টেস্ট ‍র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ও উইন্ডিজ দলের অবস্থানটা একদম পাশাপাশি। তবে সাদা পোশাকে শক্তিমত্তার বিচারে বেশ এগিয়ে সফরকারীরা। তাদের সাথে আবার কিছুদিন আগেই হারতে হয়েছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। তবে এবারের প্রেক্ষাপটটা একেবারেই ভিন্ন। এবার যে খেলাটা খোদ টাইগারদের ডেরাতে। যেখানে বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তিরা এসে সুবিধা করে যেতে পারেননি খুব বেশি, সেখানে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে জয়টা যে আসবে তা ধরেই নিয়েছিলেন অনেকে।

তবে ভাবনাতে একটা ‘প্রশ্নবোধক’ চিহ্ন দেখা দিয়েছিল কদিন আগে। ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের মত খর্ব শক্তির দলের কাছে সিলেট টেস্ট হারের পর। কিন্তু এই বাংলাদেশ দলের ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্যটা যে বেশ তার প্রমাণ মিলেছে বারবার। ঢাকা টেস্ট জিতে জিম্বাবুয়ের সাথে সিরিজে সমতা আনার পর হাওয়া লেগেছিল আত্মবিশ্বাসে। এবার সেটার সঠিক প্রয়োগ ঘটিয়েই উইন্ডিজের সাথে চলমান দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচটা জিতে নিল অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের দল।

ম্যাচের শুরুতে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন টাইগার দলপতি সাকিব আল হাসান। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে মুমিনুল হকের ১২০ রানের সাথে ইমরুল কায়েসের ৪৪ ও শেষদিকে তাইজুল ইসলামের অপরাজিত ৩৯ রানের কল্যাণে ৩২৪ রানের সংগ্রহ পায় টাইগাররা।

এরপর ব্যাট করতে নামে সফরকারীরা। ইনিংসের শুরুটা দেখেশুনে করলেও সাকিবের রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের সাথে অভিষিক্ত স্পিনার নাইম হাসানের রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে মাত্র ২৪৬ রানেই অল আউট হয়ে যায় উইন্ডিজ। এদিন বলহাতে পাঁচ উইকেট নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েন নাইম। অভিষেক টেস্টে তার থেকে অল্প বয়সে আর কোনো বোলার পারেননি এমন কীর্তি গড়তে।

সফরকারীদের অল আউট করে ৭৮ রানের লিড হাতে নিয়ে আবার দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। তবে লিড পেয়েও তার ফায়দাটা খুব বেশি তুলতে পারেননি স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ইনিংস সর্বোচ্চ ৩১ রানের কল্যাণে অল আউট হওয়ার আগে স্কোর বোর্ডে জমা করে ১২৫ রান। ফলে সবমিলিয়ে ২০৪ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেওয়া যায় সফরকারীদের সামনে।

পরে জয়ের জন্য ব্যাট করতে নেমে সাকিব-তাইজুলের সাথে স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে মাত্র ১২৫রানেই গুটিয়ে যায় উইন্ডিজের ইনিংস। আর এরই সঙ্গে ৬৪ রানে ম্যাচ জিতে নিয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেল টাইগাররা। একই সাথে ২০০৯ সালের পর অর্থাৎ ৯ বছর বাদে ক্যারিবিয়ান বধের স্বাদ পেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

জয়নিউজ/আরসি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...