সাদ অনুসারীদের শাস্তি চাইলেন আল্লামা শফী

ইজতেমা মাঠে সংঘর্ষ

0

টঙ্গীতে ইজতেমা মাঠে সংঘর্ষের ঘটনায় তাবলিগ জামাতের মাওলানা সাদ অনুসারীদের শাস্তি দাবি করেছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী। একইসঙ্গে এ ঘটনার প্রতিবাদে বেশ কিছু কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন তিনি।

রোববার (২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠের সংগঠিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে মাওলানা সাদ-এর অনুসারীদের শাস্তি দাবি করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয় বলে জানিয়েছেন হেফাজতের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ আনাস মাদানী।

তিনি আরও জানান, সোমবার (৩ ডিসেম্বর) দেশব্যাপী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান ও একই দিন বিকাল ৪টায় উপজেলা পর্যায়ে প্রতিবাদ মিছিল করবেন হেফাজত ও কওমীপন্থি সাদবিরোধী আলেম-ওলামারা। এছাড়া দেশের প্রত্যেক মসজিদে দোয়ার কর্মসূচি পালনে সর্বস্তরের আলেম-ওলামা, তাবলিগের সাথী ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজত আমীর।

হাটহাজারী মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা শেখ আহমদ, আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী, মুফতী জসীমুদ্দীন, মাওলানা ওমর, মাওলানা ইয়াহইয়া, মাওলানা ফোরকান আহমদ, মাওলানা নূরুল ইসলাম, মাওলানা মুহাম্মদ আনাস মাদানীসহ তাবলিগের স্থানীয় মুরব্বী ও সাথীরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে আল্লামা আহমদ শফী হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, শনিবার সকাল থেকে মাওলানা সাদের অনুসারীরা টঙ্গীর মাঠ দখল করার জন্য মাঠে অবস্থানরত জোড়ার আয়োজনে কর্মরত নিরীহ নিরস্ত্র তাবলিগের সাথী ও মাদরাসা ছাত্রদের ওপর লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এতে একাধিক সাথী নিহত ও শতাধিক সাথী মারাত্মকভাবে আহত হন।

তিনি বলেন, এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা দেশের ইতিহাসে আর ঘটেনি। আমি মনে করি, এটি সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। বিশ্বব্যাপী শান্তিপূর্ণভাবে দাওয়াতের কাজকে স্তব্ধ করা এবং মুসলমানদের মাঝে বিভেদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এ হামলা চালানো হয়েছে। সম্মিলিত ওলামায়ে কেরাম মাওলানা সাদের অনুসরণ বৈধ নয় বলে ফতোয়া দেওয়ার পরও কুরআন-সুন্নাহর মনগড়া অপব্যাখ্যাকারী, আম্বিয়া ও সাহাবাদের শানে কটূক্তিকারী, নেজামুদ্দিনের স্বঘোষিত আমির মাওলানা সাদের অনুসারীরা হামলা চালিয়েছে। তারা যে ষড়যন্ত্রকারী ইতিমধ্যে বিষয়টি সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। তাদের ষড়যন্ত্র বন্ধ এবং টঙ্গী মাঠে আগের মতো শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং জোড় ও বিশ্ব ইজতেমা পূর্বঘোষিত তারিখ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করতে সরকার ও প্রশাসনের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

জয়নিউজ/তালেব/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...