সেই ঋণেই পা কাটল আসলামের

0

আসলাম চৌধুরী। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে আছেন তিনি। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে বৈঠকের ভাইরাল হওয়া ছবির কারণে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন তিনি। বর্তমান সরকারের পতন ঘটাতে মোসাদের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছে- এমন অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাও হয় তার বিরুদ্ধে। এ মামলায় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে আছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে রয়েছে পেট্রোল বোমা হামলাসহ নানা নাশকতার ঘটনায় দায়ের হওয়া বেশ কিছু মামলা। শুধু এটুকুই নয়; দেশের ব্যাংক পাড়ায় আতংকের নাম আসলাম চৌধুরী।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তিনি। কিন্তু রোববার (২ ডিসেম্বর) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম বাছাইকালে বাদ পড়ে আসলামের মনোনয়নপত্র। কারণ দেশের ২৭টি ব্যাংকের ঋণখেলাপি এই আসলাম। আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ছয় হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়ে তা আর পরিশোধ করেননি তিনি।

এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন রায় জয়নিউজকে বলেন, আসলাম চৌধুরী ২৭টি ব্যাংকে ঋণখেলাপি। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপিরা নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত। তাই আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তফাজ্জল হোসেন বলেন, ঋণখেলাপির অজুহাত দেখিয়ে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ মামলায় আদালতের স্থগিতাদেশ ছিল। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হবে।

এর আগে ২০১৬ সালের ১৫ মে আসলাম চৌধুরীকে ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নাশকতার ঘটনায় দায়ের হওয়া ৩৫টি মামলার আসামি আসলাম। মূলত ইসরায়েলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি এন্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে আসলাম চৌধুরীর যোগাযোগ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয় দেশজুড়ে।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ ওঠার পর তার উপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শেষ পর্যন্ত মোসাদ ইস্যুতে গ্রেফতার হওয়া আসলাম এখনো বন্দী চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পাস করা আসলাম এফসিএ ডিগ্রিও অর্জন করেন। ২০০২ সালে জিয়া পরিষদের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। জিয়া পরিষদ চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক আসলাম যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর হাত ধরে ২০০৪ সালে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দায়িত্ব পান চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়কের।

ব্যাংক পাড়ায় আতংকের নাম আসলামের রয়েছে সম্পদের পাহাড়। রাইজিং গ্রুপ, চট্টগ্রাম নগরের সাগরিকা সড়কের ফিশ প্রিজার্ভার্স, বোয়ালখালীর কনফিডেন্স সল্ট, কক্সবাজারের চকরিয়ার ইনানী রিসোর্ট, শিপ ব্রেকিং ব্যবসা, এয়ার এভিয়েশনসহ দেশজুড়ে একাধিক সিএনজি ফিলিংস্টেশনের মালিক তিনি।

জানা গেছে, ইসরায়েলের জেরুজালেম অনলাইন ডটকম ‘সাফাদি ইন ইন্ডিয়া : সুন, দি গেটস অব বাংলাদেশ উইল ওপেন আপ টু ইসরায়েলিজ’ শিরোনামের এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে উল্লেখ করা হয়, ‘শিগগিরই সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দরজা ইসরায়েলিদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। বাংলাদেশের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। নতুন সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে।’

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, ইসরায়েলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি এন্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান মেন্দি এন সাফাদি সম্প্রতি ভারত সফর করেছেন। সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করেছেন তিনি। ওইসব বৈঠকেই বাংলাদেশ সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছেন মেন্দি এন সাফাদি।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী ওই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৈঠক শেষে তারা যে গ্রুপ ছবি তোলেন সেই ছবিতে আসলাম চৌধুরীকে দেখা গেছে। তার সামনেই বসা অবস্থায় দেখা গেছে মেন্দি এন সাফাদিকে। ছবিটিতে কয়েকজন আরএসএস নেতাও ছিলেন।

জেরুজালেম অনলাইনের প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সরকারকে ‘বাংলাদেশে মুসলিম ব্রাদারহুড সরকার’হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ‘মেন্দি এন সাফাদি বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য কাজ করছেন। এরপর নতুন একটি সরকার আসবে, যারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পূর্ণ কূটনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে।

জয়নিউজ/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...