চট্টগ্রামে ৪৪ জনের মনোনয়ন ফরম বাতিল

0

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রোববার (২ ডিসেম্বর) প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাছাই হয়েছে চট্টগ্রাম জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান ও জেলা রিটার্নিং কমকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেনের কার্যালয়ে।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে নগরের ৬টি আসনে ৭৯টি ফরমের মধ্যে ২২টি বাতিল করা হয়। অন্যদিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপজেলার ১০টি আসনে ১০১টি ফরমের মধ্যে ২২টি মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে তিনদিনের মধ্যে আপিলের সুযোগ রয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

যাদের মনোনয়ন ফরম বাতিল হয়েছে

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিন উপজেলা  চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ না করায় তার মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম, মো. মোশাররফ হোসেন ও শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর পক্ষে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না পাওয়ায় তাদের মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরীর মনোনয়ন ফরম বাতিল হয়েছে ঋণখেলাপি ও দলীয় মনোনয়নের চিঠি না দেওয়ায়। জাকের পার্টির মো. আবদুল হাই জামানতের টাকা জমা না দেওয়ায় তার মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির মোস্তফা কামাল পাশার মনোনয়ন ফরম বিল খেলাপির জন্য ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) মো. আবুল কাসেমের মনোনয়ন ফরম বাতিল হয়েছে ঋণখেলাপি হওয়ায়।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-কাট্টলী) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছিলেন আসলাম চৌধুরী। ঋণখেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শামসুর আলম হাসেম বিল খেলাপি এবং আবু তাহের ঋণ খেলাপি হওয়ায় তাদের মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানো আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়ার মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে দুদকের মামলার আসামি হওয়ায় বিএনপির প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এবং তার ছেলে ব্যারিস্টার মীর মোহম্মদ হেলাল উদ্দিনের মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়। এছাড়া একই আসনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান থেকে অব্যাহতি না নেওয়ায় মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন এবং হলফনামায় স্বাক্ষর না করায় অ্যাডভোকেট মাসুদুল আলম বাবলুর মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে সামির কাদেরের মনোনয়ন ফরম বাতিল হয়েছে তিনি ঋণখেলাপি হওয়ায়।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া ও বোয়ালখালী একাংশ) আসনে বিএনপির গিয়াস উদ্দীন কাদের চৌধুরীর মনোনয়ন ফরম বাতিল হয়েছে ঋণখেলাপি ও দলীয় মনোনয়নের চিঠি না দেওয়ায়। একই দলের আবু আহমেদ হাসনাত ঋণখেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়ন ফরমও বাতিল করা হয়েছে। বিএনএফের প্রার্থী মো. আবদুল আলীম ‍ঋণখেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়ন ফরমও বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে বিএনপির এম মোরশেদ খানের মনোনয়ন ফরম বাতিল হয়েছে ঋণখেলাপি হওয়ায়। বিএনপির অপর প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ নির্বাচনের জন্য আলাদা ব্যাংক একাউন্ট না খোলায় তার মনোনয়ন ফরম বাতিল হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ উদ্দীন, হাসান মাহামুদ চৌধুরী ও মো. আবদুল মোমিনের পক্ষে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর না পাওয়ায় তাদের মনোনয়ন ফরম বাতিল হয়েছে।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে বিএনপির মো. সামসুল আলমের মনোনয়ন ফরম বাতিল হয়েছে ঋণখেলাপি হওয়ায়। জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী মো. মোরশেদ সিদ্দিকী নির্বাচনের জন্য আলাদা ব্যাংক একাউন্ট না খোলায় তার মনোনয়ন ফরম বাতিল হয়েছে। ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী ফরম নং-২০ ও ২১ পূরণ না করায় ও ব্যয় বিবরণী উল্লেখ না থাকায় তার মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-হালিশহর) আসনে শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট ও কর সার্টিফিকেট না দেওয়ায় জাতীয় পার্টির মো. ওসমান খান, সঠিকভাবে ফরম পূরণ না করায় জাতীয় পার্টির (জেপি) আজাদ দোভাষ এবং মনোনয়ন ফরম ১-এর নির্দেশনা পালন না করায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রার্থী মোহাম্মদ আনিসুর রহমানের মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে বিএনএফের আবু সাইদ ও এনপিপির প্রার্থী মোহাম্মদ খোশাল খান ফরম নং-২০ ও ২১ পূরণ না করায় ও ব্যয় বিবরণী উল্লেখ না করায় তাদের মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী উমর হাজাজ ও মুনতাসির কাদেরের পক্ষে জমা দেওয়া এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় তাদের মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) এলডিপির প্রার্থী এম ইয়াকুব আলীর মনোনয়ন ফরম বাতিল হয়েছে ঋণখেলাপি হওয়ায়। স্বতন্ত্র মো. আবু তালেব হেলালীর এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় তার মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ জামাল আহমেদের এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় তার মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়েছে। বিএনএফের প্রার্থী নারায়ণ রক্ষিতের মনোনয়ন ফরম খেলাপি ঋণের জামিনদার হিসেবে বাতিল হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া একাংশ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম, মো. জসিম  উদ্দীন ও মো. শাহজাহানের পক্ষে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় তাদের মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাফর সাদেক ও অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বারের পক্ষে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গরমিল থাকায় তাদের মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলাম উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ না করায় তার মনোনয়ন ফরম বাতিল করা হয়েছে।

জয়নিউজ/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...