বিদ্রোহীদের বশে আনতে ভিন্ন কৌশলে আ’লীগ

0

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেবে আওয়ামী লীগ। এজন্য জোটের শরিকদের জন্য নিজেদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসন ছেড়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

কিন্তু এ সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। তারা কোনভাবেই জোটের অন্য দলগুলোর প্রার্থীদের ছাড় দিতে রাজি নন। এজন্য দেশের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে দলীয় আদেশ অমান্য করেই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তারা। দলের সমর্থন পেতে চালিয়ে যাচ্ছেন চেষ্টা-তদবিরও।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করার শেষ সময় ৯ ডিসেম্বর। তাই শেষ সময়ে বিদ্রোহীরা নিজেদেরকে নৌকার মাঝি করতে মরিয়া হয়ে মাঠে আছেন। দিন যত যাচ্ছে দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মানছেন না কেন্দ্রীয় কোন নির্দেশ। এ কারণে দলটির যেসব নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তাদের নিয়ে কেন্দ্রে টেনশন বাড়ছে।

গত কয়েকদিনে এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। কিন্তু ফলাফল আসেনি।

দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহীদের মধ্যে যাদের এলাকায় শক্ত অবস্থান আছে তাদের দেওয়া হতে পারে নৌকার টিকিট। আর যাদের অবস্থান নড়বড়ে বাস্তব চিত্র বুঝিয়ে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে অনুরোধ করা হবে। দল ক্ষমতায় গেলে মূল্যায়ন করা হবে এমন প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হতে পারে। যদি তারপরও তাদের নিবৃত করা না যায়, তাহলে তাদের দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়া হবে। দরকার হলে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখাও করিয়ে দেওয়া হবে।

এতসব কিছুর পরও যারা দলীয় নির্দেশ মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা যেন দলে আর কোনদিন ফিরে আসতে না পারেন, সেজন্য দলের প্রাথমিক সদস্যপদও কেড়ে নেওয়া হবে।

জানা যায়, সারাদেশে বিভিন্ন আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ-৩ আসনে ড. অধ্যক্ষ একেএম আব্দুর রফিক, ডা. মতিউর রহমান, আলী আহাম্মদ খান পাঠান, সেলভী নাজনীন, আলম শরীফ হাসান অনু, সামিউল আলম লিটন ও মুর্শেদুজ্জামান সেলিম, ময়মনসিংহ-৮ আসনে সৌমেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী, মাহমুদ হাসান সুমন, ময়মনসিংহ-৯ আসনে মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুস সালাম, ময়মনসিংহ-১০ আসনে ওবায়দুল্লাহ আনোয়ার বুলবুল, ময়মনসিংহ-১১ আসনে অ্যাডভোকেট আশরাফুল হক, নেত্রকোনা-১ আসনে মোসতাক আহমেদ রুহী ও মো. এরশাদুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আব্দুল্লা আল কায়সার, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে কাউসার আহমেদ পলাশ, নরসিংদী-৩ আসনে সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, নরসিংদী-২ আসনে আলতামাস কবির মিশু, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে চৌধুরী ফাহরিয়া আফরিন ও ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম। বিবাড়ীয়া-৫ আসনে যুবলীগ নেতা  মুমিনুল হক সাঈদ।

নেত্রকোনা-৪ আসনে শফী আহমেদ, মেহেরপুর-১ আসনে অ্যাডভোকেট মিয়াজান আলী, জয়নাল আবেদীন, প্রফেসর আব্দুল মান্নান, অ্যাডভোকেট ইয়ামরুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান, মেহেরপুর-২ আসনে এমএ খালেক, আহমেদ আলী, মোখলেসুর রহমান মুকুল, নুরজাহান বেগম ও ওয়াসিম সাজ্জাদ লিখন, যশোর-২ আসনে অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট এবিএম আহসানুল হক, যশোর-৫ আসনে কামরুল হাসান বারী, সাতক্ষীরা-১ আসনে ইঞ্জিনিয়ার মুজিবর রহমান, সরদার মুজিবর রহমান, বিএম নজরুল ইসলাম, শেখ নুরুল ইসলাম ও বিশ্বজিত সাধু।

দিনাজপুর-২ আসনে ডা. মানবেন্দ্র রায়, নীলফামারী-১ আসনে আমিনুল হোসেন সরকার, নীলফামারী-৩ আসনে অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, আনসার আলী মিন্টু ও আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর, নীলফামারী-৪ আসনে আখতার হোসেন বাদল, ইঞ্জিনিয়ার সেকেন্দার আলী, আমেনা কহিনূর ও মো. আমিনুল ইসলাম সরকার, কুড়িগ্রাম-১ আসনে ওসমান গণি।

নওগাঁ-২ আসনে ড. ইঞ্জিনিয়ার আখতারুল আলম, নওগাঁ-৪ আসনে অ্যাডভোকেট আব্দুল বাকী ও আফজাল হোসেন, নওগাঁ-৬ আসনে আনোয়ার হোসেন হেলাল, নড়াইল-১ আসনে লে. কমান্ডার ওমর আলী, বগুড়া-২ আসনে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা ও আবুল কাশেম ফকির, বগুড়া-৪ আসনে কামাল উদ্দিন কবিরাজ ও অধ্যাপক আহছানুল হক, বগুড়া-৫ আসনে তাহরিনা জামান হিমিকা, বগুড়া-৭ আসনে ডা. মোস্তফা আলম নান্নু, রাজশাহী-৫ আসনে ওবায়দুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস ও খুরশিদ আলম বাচ্চু ।

ফেনী-১ আসনে খায়রুল বাশার তপন ও শেখ আব্দুল্লাহ, ফেনী-৩ আসনে আবুল বাশার, ইসতিয়াক আহমেদ ও হাজী রহিম উল্যাহ, কুমিল্লা-২ আসনে অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ, মাঈন উদ্দিন মঈন, হাজী মো. সফিউল্লাহ মিয়া, মো. আনিছুর রহমান, অ্যাডভোকেট সৈয়দ তানভীর হোসেন কাউছার, মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন, মো. মোখলেছুর রহমান ও মো. শাহজাহান আলম সাজু, চট্টগ্রাম-২ আসনে এটিএম পেয়ারুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম-৪ আসনে আবদুল্লা আল বাকের ভূঁইয়া।

বরিশাল-২ আসনে একে ফায়জুল হক রাজু, ইঞ্জিনিয়ার ওসমান ফারুক মনির, এম মোয়াজ্জেম হোসেন ও সৈয়দা রুবিনা আক্তার, বরিশাল-৬ আসনে ইঞ্জিনিয়ার ওসমান হোসেন মনির ও মোহাম্মদ আলী তালুকদার।

সুনামগঞ্জ-৪ আসনে মতিউর রহমান ও আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী।

এ বিষয়ে কথা হয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা কৃষিবিদ আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিমের সঙ্গে। তিনি জয়নিউজকে বলেন, দলের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ সভাপতি যাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিয়েছেন তার পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে। ভিন্নমত বা প্রার্থী অপছন্দ হতেই পারে। তবে বিদ্রোহী মেনে নেওয়া হবে না। দেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আশা করছি আগামী বুধবারের মধ্যেই সব সমাধান হয়ে যাবে।

এদিকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ জয়নিউজকে মুঠোফোনে বলেন, নেত্রী (শেখ হাসিনা) যার হাতে নৌকার টিকিট দিয়েছেন তিনিই নৌকার মাঝি। বিদ্রোহী হলে দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি আরো বলেন, ৯ ডিসেম্বরের আগেই দলের নির্দেশ মেনে বিদ্রোহীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন বলে আমার ধারণা। হানিফ যোগ করেন, আলাপ-আলোচনা চলছে। যেসব প্রার্থীর পাশ করার সম্ভাবনা শতভাগ, তাদের কেউ যদি বাদ পড়ে থাকে তবে তাদের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। তবে এ ব্যাপারে নেত্রী যা করবেন তাই শেষ কথা। বিদ্রোহী প্রার্থীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, যারা নেত্রী ও দলের আদেশ মানবেন না তারা দলের কেউ না। এটা সবাইকে মনে রাখতে হবে।

জয়নিউজ/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...