সাংবাদিকদের ভালোবাসতেন মহিউদ্দিন চৌধুরী : নওফেল

0

প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বড় ছেলে ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, কলম সৈনিকদের প্রতি বাবার অপার ভালোবাসা ছিল। তিনি বিশ্বাস করতেন তারা মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভালো হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে ‘সাংবাদিকবান্ধব এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী স্মারকগ্রন্থ’র প্রকাশনা উৎসবে তিনি একথা বলেন। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশ করে।

মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, আমার বাবা ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। তার এ জীবনকে মূল্যায়ন করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।

তিনি বলেন, আপনাদের লেখনীর মাধ্যমে সমাজের অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে যে লড়াই, সে লড়াইয়ে সাংবাদিকসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ারের সভাপতিত্বে এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিন্টু চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর সহধর্মিণী ও নগর মহিলা লীগের সভানেত্রী বেগম হাসিনা মহিউদ্দিন।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, মৃত্যুর পর মানুষ চলে যায় স্মৃতির অন্তরালে। কিছু কিছু মানুষ হৃদয়ে থেকে যান তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে। তেমনি একজন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আরেকজন তারই রাজনৈতিক শিষ্য এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধ থেকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি চট্টগ্রামের এমন কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম ছিল না যেখানে ছুটে যাননি। যেখানেই সংকট সেখানেই তিনি ছুটে গেছেন। এ কারণে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, জনগণের কল্যাণ সাধনই রাজনীতি। মহিউদ্দিন চৌধুরী মানুষের কল্যাণের জন্যই রাজনীতিতে আসেন এবং আমৃত্যু এর সঙ্গে ছিলেন। চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের স্বার্থের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকে তিনি মেনে নিতে পারেননি। সে কারণে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন সামরিক শাসক ও খুনিদের। অনেক নেতা সেসময় ঘাতক পক্ষের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন। কিন্তু মহিউদ্দিন চৌধুরী সেটা করেননি। চট্টগ্রামের মানুষের হৃদয়ে উনার মতো আর কেউ ঠাঁই করে নিতে পারেননি।

ড. অনুপম সেন বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরী কত বড় মাপের নেতা ছিলেন তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও অনেক হবে। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর মহিউদ্দিন চৌধুরী প্রতিবাদ করেছিলেন। তাকে দেশত্যাগ করতে হয়েছিল। পরবর্তীতে আবার ফিরে আসেন। ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ের পর মুসলিম হলে অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করেছেন। তিনি মানুষের জন্য ভালোবেসে কাজ করেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু এবং শেখ হাসিনা ছাড়া কারও কাছে মাথা নোয়াননি।

হাসিনা মহিউদ্দিন বলেন, মহিউদ্দিন চৌধুরীর রুষ্ট আচরণে কেউ কেউ হয়তো ব্যথিত হয়েছেন। সেজন্য পারিবারিকভাবে ক্ষমা চাইছি। সাংবাদিকদের সঙ্গে ওনার একটা অন্য ধরনের সম্পর্ক ছিল।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন স্মারকগ্রন্থ প্রকাশনা কমিটির আহ্বায়ক মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল, রাউজান উপজেলা চেয়ারম্যান এহছানুল হায়দার চৌধুরী বাবুল, নগর যুবলীগের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু।

প্রসঙ্গত, স্মারকগ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছেন ড. অনুপম সেন। গ্রন্থটিতে মহিউদ্দিন চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিকের পাশাপাশি আছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার বর্ণনা ও ছবি। ১৯৬ পৃষ্ঠার স্মারকগ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন মিন্টু চৌধুরী। বইটিতে ৫৬ জন সাংবাদিকের লেখা সংকলিত হয়েছে।

জয়নিউজ/পলাশ/জুলফিকার

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...