‘সাহিত্যিক হওয়ার সলতে জ্বালিয়ে দিয়েছে বইপড়া’

0

সাহিত্যচর্চা মুক্তদৃষ্টিতে জগৎ এবং জীবনকে দেখার সুযোগ করে দেয় বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক। বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত এ ভাষাবিজ্ঞানী বলেন, সাহিত্যচর্চার নতুন দ্বার খুলে দেয় সাহিত্য উৎসব বা লিট ফেস্ট। নবীনদের সঙ্গে আমাদের মতো প্রবীণদের মিলনমেলা যেন এই উৎসব।

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে গত (বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত লিট ফেস্টে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. হক ইডিইউর শিক্ষার্থীদের তার সাহিত্যিক হয়ে ওঠার গল্প শোনাতে গিয়ে বলেন, আমার পরিবারে শিশু সাহিত্যের এক বিশাল ভাণ্ডার ছিল। সেগুলো আমি গোগ্রাসে পড়েছি। সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদও আমার বাসায় এসে প্রতিদিন একটা করে বই নিয়ে যেতেন। স্কুলের টিফিনের আর গাড়িভাড়ার টাকা জমিয়ে বই কিনেছি প্রচুর। এই বই পড়াই আমার ভেতরকার, শুধু আমার কেন, প্রত্যেক সাহিত্যিকেরই মনের ভেতরকার সলতেটা জ্বালিয়ে দিয়েছে।

গান, কবিতা আবৃত্তি, নাটক মঞ্চায়ন ও সাহিত্যের বিভিন্ন জনপ্রিয় চরিত্রের সাজে র‌্যাম্প মডেলিং- এসবে ভরা ছিল দিনব্যাপী এ আয়োজন। লিটারেরি ক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ উৎসবের প্রথম পর্বে ছিল আলোচনা সভা। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিস্তারের পরিচালক ও অনুবাদক আলম খোরশেদ।

তিনি বলেন, বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সবাইকে বাধ্যতামূলক ক্রিয়েটিভ রাইটিং শিখতে হয়। উচ্চশিক্ষার জন্য কমিউনিকেটিভ রাইটিং ও ক্রিয়েটিভ রাইটিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার সাথে সৃজনশীলতার মিশ্রণ না হলে শিক্ষাও পূর্ণতা পায় না।

ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা ভাইস চেয়ারম্যান সাঈদ আল নোমান তার বক্তব্যে বলেন, একাডেমিক লেখাপড়ার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটিজেও সমান গুরুত্ব দেয় ইডিইউ। কেননা এসবের মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী পূর্ণতা পায়। নিজেকে মেলে ধরার জন্য এই ধরণের সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার কোন বিকল্প নেই। ইডিইউতে প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখার বাইরে যে কার্যক্রমগুলো হচ্ছে, তা হঠাৎ করেই শুরু হয়নি। আমার পরিবারে যে সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে আমি বেড়ে উঠেছি, এই চিন্তা ও কার্যক্রমগুলো সেই ঐতিহ্য থেকেই প্রবাহিত।

এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক সামস-উদ-দোহা। তিনি বলেন, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি সবসময়ই ব্যতিক্রম, সবসময়ই নতুন। আজকের এই লিট ফেস্ট এমনই ব্যতিক্রমী এবং নতুন একটি আয়োজন। চট্টগ্রামের অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরণের উৎসব আর হয়েছে বলে কখনো শুনিনি।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার সজল কান্তি বড়ুয়া ও লিটারেরি ক্লাবের উপদেষ্টা, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সাবরিন সরওয়ার। এছাড়া এতে প্ল্যানিং এন্ড ডেভলপমেন্ট ডিরেক্টার শাফায়েত কবির চৌধুরীসহ সকল অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিজনেস ক্লাবের সদস্য ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।- প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

জয়নিউজ/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...