সেনাবাহিনীকে নিয়ে জাতির পিতার স্বপ্ন আজ বাস্তব: রাষ্ট্রপতি

0

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেনাবাহিনীকে নিয়ে একদিন যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। অবকাঠামোগত, কৌশলগত এবং প্রযুক্তিগত দিক থেকে এক দশক আগের তুলনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ সম্পূর্ণ আলাদা এবং আধুনিক।

শনিবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) ৭৬তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অফিসার ক্যাডেটদের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ।

ভাটিয়ারির বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তিনি ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

এর আগে রাষ্ট্রপতি বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির জন্য আজ একটি স্মরণীয় দিন। কারণ আজ দ্বিতীয়বারের মত তিন বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে লেফটেন্যান্ট হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীরা কমিশন লাভ করতে যাচ্ছেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্ম। একটা স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশে সামরিক বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। স্বাধীন দেশে শক্তিশালী ও প্রশিক্ষিত সেনাবাহিনী গড়ে তোলার জন্য জাতির পিতা ১৯৭৪ সালে প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন করেন। তিনি সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি একটি বিশ্বমানের মিলিটারি একাডেমি প্রতিষ্ঠারও উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু কুমিল্লা সেনানিবাসে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি উদ্বোধন করেন। প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, সামরিক একাডেমি একদিনে গড়ে ওঠে না। তার জন্য অনেকদিন লাগে। অনেক জিনিসের প্রয়োজন হয়। ইনশাল্লাহ সবই হবে এবং ভালোভাবেই হবে। এবং এমন হবে, আমার বিশ্বাস সারা দুনিয়ার মানুষ আমাদের একাডেমি দেখতে আসবে। বঙ্গবন্ধু সেদিন যে স্বপ্ন দেখেছিলেন আজ তা বাস্তবরূপ পেয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি আজ একটি অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমি। ইতোমধ্যে ক্যাডেটদের ইনডোর প্রশিক্ষণে সকল প্রকার অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে। বর্তমানে এ একাডেমিতে বিভিন্ন বিষয়ে চার বছর মেয়াদি অনার্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি চালু করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ এখন আমাদের একাডেমি শুধু দেখতে আসে না, এখানে প্রশিক্ষণ নিতেও আসে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম আজ দেশ ছাড়িয়ে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত ১০ বছরে অবকাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

৭৬তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে ২৫৪ জন বাংলাদেশি, ২ জন সৌদি এবং ১ জন শ্রীলংকানসহ মোট ২৫৭ জন ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের মধ্যে ২১৭জন পুরুষ ও ৩৭জন নারী ।

এদের মধ্যে ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার এ কে এম ইনজামামুল হক সেরা চৌকস ক্যাডেট হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন কোম্পানি সিনিয়র আন্ডার অফিসার ইবনে ইজাজ হাসান।

এরপর আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ শেষে মা-বাবা ও অভিভাবকরা নবীন অফিসারদের র‌্যাংক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, সংসদ সদস্য, আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. নাজিম উদ্দিন, বিএমএ’র কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল আনোয়ারুল মোমেন, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান, বৈদেশিক কমিশনের কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জয়নিউজ/ফরহান অভি/ফয়সাল/আরসি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...