সরকার জনগণকে রক্তপাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে: কর্নেল অলি

0

সরকার জনগণকে রক্তপাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ২০ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ।

সোমবার (১০ নভেম্বর) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে নগর বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

তিনি আরো বলেন, প্রশাসন আমাদের কাছে কমিটমেন্ট করেছিল নির্বাচনকালে নিরপেক্ষ থাকবে। কিন্তু এরপর থেকে আমাদের টেলিফোনও রিসিভ করছে না। তাদের ভেতরও একটা আতঙ্ক কাজ করছে। আমরা যারা প্রার্থী আছি তারা যদি রিটার্নিং কর্মকর্তা কিংবা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে না পারি, পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে না পারি তাহলে সমস্যাগুলোর প্রতিকার কোথায় পাবো?

কর্নেল অলি প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে উদ্দেশ করে বলেন, ২০ দলীয় জোট কিংবা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কারো শত্রু না। আমরা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চাই। কিন্তু সেটা হচ্ছে না, সেই পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না। প্রশাসন নিজ থেকে নানা ঘটনা ঘটিয়ে গণহারে গ্রেপ্তার করছে। অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে অসংখ্য নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠাচ্ছে। যখন জামিনের সময় হয় তখন আরেকটা মামলা দিচ্ছে।

বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কোন না কোন ধর্মের অনুসারী। আপনারা সৃষ্টিকর্তাকে ভয় করেন না? যারা অন্যায় কাজে লিপ্ত তাদের জন্য খোদার তরফ থেকে শাস্তি নেমে আসবে। আপনারা কী দেখেন না যারা পূর্ববর্তী অন্যায়কারী ছিল তাদের সন্তানদের অপমৃত্যু হয়েছে, স্ত্রীর অপমৃত্যু হয়েছে, পরিবারের সদস্যদের অপমৃত্যু হয়েছে। অনেকেই কারারবণ করেছে। এটা হলো আল্লাহর স্বাভাবিক শাস্তি। আমরা কারো সঙ্গে কোনো অন্যায় আচরণ করছি না। বিচারকরা হচ্ছেন আল্লাহর প্রতিনিধি। আপনারা আইনী বই পুস্তকে যা লেখা আছে সে অনুযায়ী বিচার করুন।

তিনি আরো বলেন, আমরা মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি। আমরা কারো গান শুনে, কথা শুনে মুক্তিযুদ্ধে যাই নাই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আমি সর্বপ্রথম চট্টগ্রাম থেকে বিদ্রোহ করি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের মানুষ যেন সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারে। আজকে মনে হচ্ছে আমরা নিজ দেশে পরাধীন।

পুলিশের উদ্দেশে অলি বলেন, আপনারা আমাদের শত্রু না। সরকারেরও বন্ধু না। আপনারা জনগণের বন্ধু। দেশের মানুষের বন্ধু। সে হিসেবে সবাই যাতে ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা করুন। ঘরে ঘরে গিয়ে ভয় দেখানো, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কষ্ট দেওয়া এটা আপনাদের কাজ হতে পারে না। আমি বহুবার বলেছি, দেশ ক্রমশ রক্তপাতের দিকে যাচ্ছে। আমি আবার বলছি, নির্দ্বিধায় বলছি এর জন্য দায়ী সরকার। সরকার জনগণকে রক্তপাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমরা চাচ্ছি সুষ্ঠু নির্বাচন, আমরা চাই শান্তি। সরকার চাচ্ছে অশান্তি। আমরা বহুবার প্রেস কনফারেন্স করে বলেছি, আমরা কোন অশান্তি চাই না।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, অনুরোধ থাকবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে, আপনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। আপনার দায়িত্ব রয়েছে দেশের প্রতি। সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিন। কেউ চিরদিন বেঁচে থাকবে না। আমাদের সবাইকে একটা সময় বিদায় নিতে হবে। সে বিদায়টা যেন সম্মানজনক হয়। এটাই আমাদের কাম্য। সরকারের কাছে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করবো, দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবেন না। রক্তপাতের দিকে ঠেলে দেবেন না। জনগণকে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সুশাসন ফিরিয়ে দিন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ আল নোমান, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ ইব্রাহীম বীরপ্রতীক, আবু সুফিয়ানসহ চট্টগ্রামে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীরা।

জয়নিউজ/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...