টেকনাফে মানবপাচারে ফের সক্রিয় দালাল চক্র

0

গত তিন বছর ধরে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মানবপাচার বন্ধ থাকলেও মানবপাচারকারী দালাল চক্র ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

টেকনাফ উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে সমুদ্রপথে আবার মানবপাচার শুরু করেছে দালাল চক্ররের সদস্যরা। শীতকালে সাগর শান্ত থাকায় ছোট নৌকায় করে  মানবপাচার বেশ সুবিধাজনক। স্থানীয়রা এই সময়কে বলেন ‘মানব পাচারের মৌসুম’। এলাকায় ফিরতে শুরু করেছে আত্মগোপনে থাকা শীর্ষ মানবপাচারকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তাদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে এখন রোহিঙ্গারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নমনীয়তায় স্থানীয় কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতা দালাল চক্রের সদস্যদের সহায়তা করছেন। এছাড়া মানবপাচার মামলায় আসামি গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়ায় এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন তারা।

পুলিশ জানায়, ২০১৫-১৬ সালে কক্সবাজার টেকনাফ উপকূলীয় এলাকা দিয়ে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মানবপাচারকালে দুই হাজারের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই সময় একাধিক নৌকাডুবিতে মারা গেছে প্রায় কয়েকশ’ মানুষ। সবচেয়ে বেশি পাচারের ঘটনা ঘটে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ও সাবরাং খুরের মুখ এলাকা দিয়ে। তখন পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দালাল চক্রের অন্যতম নেতা ধলো হোসেনসহ সাতজন নিহত হন। এরপর থেকে মানবপাচার তিন বছর বন্ধ ছিল।

টেকনাফ বিজিবি-২ ব্যাটেলিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর শরিফুল ইসলাম জমাদ্দার বলেন, শীতকালে সাগর শান্ত হওয়ায় দালাল চক্রের সদস্যরা রোহিঙ্গা পাচারের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তাই আমরা মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে নজরদারিতে রাখছি।

৬ নভেম্বর টেকনাফ উপকূলে মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টাকালে ১৪ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে বিজিবি সদস্যরা। উদ্ধারকৃতরা সবাই উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা শিবিরের শরণার্থী। এর মধ্যে পাচঁজন নারী ও নয় জন পুরুষ রয়েছে।

৭ নভেম্বর বিকেলে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি ট্রলার থেকে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের চেষ্টাকালে ছয়জন দালাল ও নারী-পুরুষ, শিশুসহ ৩৩ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড। এদের মধ্যে ১০ জন নারী, ১৪ পুরুষ ও ৯ জন শিশু।

৩০ নভেম্বর সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ মাঝার পাড়ার ফজলুল হকের ছেলে দালাল আবদুর রহমানের বাড়ি থেকে ছয় নারীসহ ১০ রোহিঙ্গাকে আটক করে র‌্যাব-৭।

৩০ নভেম্বর শাহপরীর দ্বীপ মাঝার পাড়া থেকে উদ্ধার হওয়া তরুণী হাসিনা (১৮) বলেন, মালয়েশিয়ায় এক রোহিঙ্গা যুবকের সঙ্গে মুঠোফোনে তার বিয়ে ঠিক হয়েছে। ওই যুবক শাহপরীর দ্বীপের আবদুর রহমান দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়া নিয়ে যাবে বলে আমাকে ফোনে জানায়। তাই দালাল আবদুর রহমান ট্রলারে তুলে দেওয়ার কথা বলে আমাকে শাহ পরীর দ্বীপে নিয়ে আসে।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ৩ বছর আগে মানব পাচারের অভিযোগে করা মামলাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মানবপাচারকারীদের ধরতে ও মানবপাচার ঠেকাতে কাজ করছে পুলিশ। টেকনাফ সীমান্তের ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র্র উপকূল অরক্ষিত রয়েছে। এটিকে কাজে লাগিয়ে দালাল চক্রের সদস্যরা পাচার করছে রোহিঙ্গাদের। শীর্ষ মানবপাচারকারীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

জয়নিউজ/পলাশ/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...