জোটের মধ্যে ভোটের কাঁটা

0

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জমে উঠছে ভোট নিয়ে আলোচনা। ভোটের বাকি আর মাত্র ৭ দিন। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ করে বিজয় অর্জনের লক্ষ্যে মরিয়া জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের প্রার্থী। এই আসনে তাঁদের গলার কাঁটা মহাজোট-ঐক্যফ্রন্টের স্বতন্ত্র  প্রার্থীরা।

বাঁশখালী আসনে ভোটের মাঠে আছেন ১০ প্রার্থী। কিন্তু নির্বাচনের মাঠে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মহাজোট প্রার্থী আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান (নৌকা), ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী বিএনপির সাবেক সাংসদ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক সিটি মেয়র মাহমুদুল  ইসলাম চৌধুরী  (লাঙল) ও জামায়াত প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান  মাওলানা জহিরুল ইসলামের (আপেল) মধ্যে।

সারাদেশে মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে ভোটের লড়াই হলেও এ আসনের চিত্র ভিন্ন। এখানে জোটের ভোটে কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছেন শরিক দলের প্রার্থীরা। এই উপজেলায় ভোটের লড়াই হবে চতুর্মুখী। তবে এখানে নৌকার জয়ের পথে বাধা হতে পারেন জাতীয় পার্টির  মাহমুদুল  ইসলাম চৌধুরী  (লাঙল)। আর ধানের শীষের  জয়ে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন  জামায়াত প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম (আপেল)।

তাঁরা চারজনই নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ। এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে চলছে নানা আলোচনা। চলছে মাইকিং। সাঁটানো হয়েছে পোস্টার।  ভোটের  মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। প্রতিটি  ইউনিয়নের বাড়ি-মহল্লায়  ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন নেতাকর্মীরা । ভোটারদের বিভিন্ন উপায়ে প্রভাবিত করার চেষ্টায় রত প্রার্থীরা।

ভোটারদের ভাষ্য, এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষ ও নৌকার  মধ্যে। তবে পথের  কাঁটা  আপেল ও লাঙল। এলাকায় শোনা যাচ্ছে, জোটের সঙ্গে সমঝোতায় শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিতে পারেন লাঙল ও আপেলের প্রার্থী । নইলে নৌকা ও ধানের শীষের জয়ের পথে কাঁটা হতে পারেন এই দুই প্রার্থী।

মহাজোট প্রার্থী আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান বাঁশখালীতে অনেক উন্নয়ন করলেও দলীয় কোন্দলের কারণে পিছিয়ে আছেন। অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর জনপ্রিয়তা থাকলেও, জহিরুল ইসলামের কারণে ভোটের সমীকরণ পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করছে সাধারণ ভোটাররা। ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে এই আসনে জাফরুল ইসলাম চৌধুরী জয়ী হয়ে আসছেন। কেবল ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছিল। এরপরও জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সমর্থন কমেনি বলে দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

শীলকূপ ইউনিয়নের বাসিন্দা মোক্তার আহমদ জয়নিউজকে বলেন, এ আসনে ভোটের হিসাব অত্যন্ত সহজ। কারণ  আসনটি বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ সময় এ আসন থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জয়যুক্ত হয়েছেন। জোটের কারণে জামায়াত প্রার্থী সরে যাবেন বলে শুনেছি। এ হিসেবে বিএনপি ও জামায়াতের মিলিত ভোট পাবেন ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী জাফরুল।

একই কথা বলেন স্থানীয় ভোটার জানে আলমও। তার সঙ্গে যোগ দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দীন বলেন, বিএনপির সময় বাঁশখালীতে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এ কারণে ধানের শীষ প্রতীক পাওয়া ঐক্যফ্রন্ট নেতা জাফরুলের এবারের নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

এদিক থেকে মহাজোট প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বেশ পিছিয়ে রয়েছেন বলেও মত দেন ভোটাররা। তারা বলছেন, এ আসনে আওয়ামী লীগে কোন্দল রয়েছে। তবে এই ১০ বছর আওয়ামী লীগ সরকার এই এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছে। আবার জাতীয় পার্টির মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীও ভালো অবস্থানে আছেন। আওয়ামী লীগের  কোন্দলের কারণে অনেকে নৌকায় ভোট না দিয়ে লাঙলে ভোট দিতে পারেন।

৩০ ডিসেম্বরই প্রমাণ হবে ভোটারদের কেমন  ভালোবাসা অর্জন  করতে পেরেছেন  প্রার্থীরা।

জয়নিউজ/আরসি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...