হিরের শহর

0

একটা আস্ত শহর। আর এর মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে রাশি রাশি হিরে। কোথায় সেই শহর? কীভাবে এত হিরে এল এই শহরে?

হিরেগুলি প্রতিটি বাড়িতেই লুকানো রয়েছে। কিন্তু তা এতই সূক্ষ্ম, খালি চোখে ধরা পড়ে না।

জার্মানের বাভারিয়া স্টেটের নর্ডলিনজেনে রয়েছে এই হিরে। কিন্তু এই হিরে যে শুধু রত্ন হিসেবে জরুরি তা নয়, এর গুরুত্ব অন্য দিকে।

প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে ২৫ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড বেগে এক গ্রহাণু আছড়ে পড়েছিল পৃথিবীর বুকে। সেই গ্রহাণুর সঙ্গে ভূপৃষ্ঠের সংঘর্ষ হয়। এর ফলে যে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছিল জার্মানির ওই জায়গায়। এভাবেই শহরটির উৎপত্তি।

সেই বিস্ফোরণে সৃষ্ট মারাত্মক চাপ ও তাপের ফলে ‘কোর্স-গ্রেইনড’ পাথর সুয়েভাইট তৈরি হয়েছিল। এতে থাকে কাচ, কার্বন কেলাস ও হিরে।

সংঘর্ষের পরে এই হিরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো শহরে। কিন্তু তা খুবই সূক্ষ্ম। ষাটের দশকে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেন, এই হিরে গ্রহাণু থেকেই এসেছে।

৮৯৩ খ্রিষ্টাব্দে এই শহরের বাসিন্দারা সুয়েভাইট দিয়ে বাড়ি তৈরি করেন। গির্জা থেকে সাধারণ বাড়ি, সবই তৈরি হয় এই হিরের পাথর দিয়ে। এই সময় থেকেই বসতি গড়ে শহরটিতে।

যেহেতু নির্মাণ সামগ্রীর মধ্যে সূক্ষ্ম হিরের কুচি লুকিয়ে রয়েছে, তাই প্রতিটি বাড়িও তো এক অর্থে হিরের বাড়ি। প্রায় ৭২ হাজার টন হিরে রয়েছে এই শহরের বাড়ির নির্মাণ সামগ্রীর মধ্যে।

‘হাই ক্যারাট’ বাড়িগুলি নিয়ে তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আলাদা গর্ব আছে। বাড়ির মধ্যেই যে রয়েছে হিরে!

খুব সূক্ষ্ম এই হিরের কণা, প্রায় ০.২২ মিমি ব্যাস। এত ঘন ও সূক্ষ্ম হলেও এই হিরে তো ব্যবহার করা যায় না। তবে পর্যটকদের মধ্যে হিরের শহর নিয়ে বেশ কৌতুহল আছে। স্থানীয় রাইস ক্রেটার মিউজিয়ামে এ ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু দ্রষ্টব্য ও নিদর্শন রয়েছে।

জয়নিউজ/হিমেল
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...