নগরে নোমান-আসলাম-শাহাদাতসহ জামানত হারালেন ৩৯ জন

0

সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান ও নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাতসহ নগর ও আশপাশের ছয়টি আসনে ৩৯ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মুনীর হোসাইন খান জয়নিউজকে জানান, চট্টগ্রাম মহানগরের তিনটি এবং আশপাশের তিনটিসহ ছয়টি আসনে ৩৯ জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

উল্লেখ, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, নির্বাচনে মোট প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। সে হিসেবে যেসব প্রার্থী আট ভাগের এক ভাগের চেয়ে কম ভোট পেয়েছেন, তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ভোটের ফলাফল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া-চকবাজার) আসনে প্রদত্ত বৈধ ভোট সংখ্যা ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪৪৯টি। এর মধ্যে বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেন ভোট পেয়েছেন ১৭ হাজার ৬৪২ ভোট। তাঁর জামানত রক্ষার জন্য ভোট প্রয়োজন ছিল ৩০ হাজার ৬৮২ ভোট। একই আসনে জামানত হারিয়েছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মৃণাল চৌধুরী, জাতীয় পার্টির মো. মোরশেদ সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের আবু আজম, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মৌলভী রশিদুল হক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. শেখ আমজাদ হোসেন।

চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে প্রদত্ত বৈধ ভোট ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭১৫টি। সেখানে বিএনপি প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান পেয়েছেন ৪১ হাজার ৩৯০। আর মাত্র ২০০ ভোট পেলে রক্ষা হতো তাঁর জামানত। এই আসনে বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ রুমি, বাসদের মো. মাহিন উদ্দিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবিনা খাতুন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির কাজী মো. ইউসুফ আলী চৌধুরী, বিএনএফের জিএসএম আতিউল্লাহ ওয়াসীম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জান্নাতুল ইসলাম জামানত হারিয়েছেন।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে প্রদত্ত বৈধ ভোট ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৮টি। আসনটিতে জামানত হারিয়েছেন বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির অপু দাশ গুপ্ত, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এমএ মতিন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবুল বাশার মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. লোকমান সওদাগর ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মৌলভী রশিদুল হক।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে প্রদত্ত বৈধ ভোট ৩ লাখ ৪ হাজার ৪০৮টি। আসনটিতে জামানত হারিয়েছেন বিএনপির আসলাম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির দিদারুল কবির, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ আশরাফ হোসাইন, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. মোজাম্মেল হোসেন ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সামছুল আলম হাসেম।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে প্রদত্ত বৈধ ভোট সংখ্যা ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৪৪২টি। আসনটিতে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ৮ জনের, প্রার্থী ছিলেন ১০ জন। জামানত হারিয়েছেন ইসলামী ঐক্যজোটের মঈন উদ্দীন রুহী, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ছৈয়দ হাফেজ আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মীর ইদরিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ রফিক, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. নঈমুল ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নাসির উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের শিহাবুদ্দীন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ নাছির হায়দার করিম।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে প্রদত্ত বৈধ ভোট ৩ লাখ ৪১ হাজার ১৯২টি। এই আসনে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির মো. সেহাব উদ্দিন, বিএনএফের এসএম ইকবাল হোসেন, ন্যাপের বাপন দাশগুপ্ত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. মো. ফরিদ খান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সেহাব উদ্দিন মোহা্ম্মদ আবদুস সামাদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মাহমুদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ এমদাদুল হক জামানত হারিয়েছেন।

জয়নিউজ/ফারুক/বিশু/জুলফিকার

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...