নেই ডাস্টবিন, আছে সবুজের হাতছানি

0

ফিরিঙ্গীবাজার সড়কে একসময় অনেকগুলো স্থায়ী ডাস্টবিন ছিল। নাকে হাত চেপে চলাচল করতে হতো পথচারীদের। সেই ডাস্টবিনগুলো তুলে দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। সেখানে এখন ফুলের বাগান। তৈরি হয়েছে ফুল গাছঘেরা বসার স্থান। একই সঙ্গে ব্যবস্থা করা হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জার।

চসিক নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ঘোষণা দিয়েছিলেন, বন্দর নগরকে ‘ক্লিন সিটি-গ্রিন সিটি’তে রূপান্তরের। তারই ধারাবাহিকতায় সিটি মেয়রের সহযোগিতায় ও কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লবের উদ্যোগে নান্দনিক হয়ে উঠেছে ফিরিঙ্গীবাজার।

এলাকার বাসিন্দাদের কাছে জায়গাটি এখন আড্ডাস্থল। শুধু স্থানীয় নয়, শহর ও গ্রাম থেকে মানুষ এখানে ঘুরতে আসে। দেয় আড্ডা। পাশে আছে কর্ণফুলী নদী । তাই বিনোদন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ফিরিঙ্গীবাজার। কেউ আসে বিকালে সময় কাটানোর জন্য। আবার কেউ আসে কর্ণফুলী পাড়ে ঘুরতে।

দেখা যায়, এই ওয়ার্ডের আমজাদ আলী লেইন, জে এম সেন স্কুলের সামনে, ব্রিজঘাট, অভয়মিত্র ঘাট, কবি কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক এলাকায় আগে যেখানে ছিল ডাস্টবিন, এখন সেখানে বাগান। বাগানে রয়েছে গোলাপ, রক্তজবা, হাসনাহেনাসহ বিভিন্ন ফুল এবং ওষুধি গাছ। কয়েকটি টবে আছে ঝাউ ও পাতাবাহার। বাগানের পশ্চিম পাশে আছে বসার জন্য বেঞ্চ, ওপরে শেড ।

শুধু তা-ই নয়, কোতোয়ালী মোড় থেকে নতুন ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার মাঝখানে করা হয়েছে বিভিন্ন ফুলের বাগান । রাতে এলইডি লাইটে আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। কোতোয়ালী মোড়ে হযরত শাহ সুন্দর (র. ) ও হযরত শাহ জালালের (র.)মাজারকে ঘিরে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হয়েছে। একসময় অন্ধকার ছিল মেরিনার্স সড়ক। সেই সড়ক এখন ফুলের বাগান ও এলইডি লাইটে আলোকিত।

সবুজের আচ্ছাদনে নান্দনিক ফিরিঙ্গীবাজার। ছবি: বাচ্চু বড়ুয়া।

ছুটির দিনগুলোতে অভয়মিত্র ঘাটে সৌন্দর্যপিপাসু নানা বয়সী মানুষের ঢল নামে । কর্ণফুলী সেতু থেকে অভয়মিত্র ঘাট হয়ে পশ্চিমদিকে নদী তীরঘেঁষে আউটার রিং রোডের কিছু অংশ পাকা হওয়ায় ছুটির দিন ভিড় জমায় ভ্রমণপিপাসু ও বিনোদনপিয়াসীরা। সাম্পান করে দল বেঁধে নদীতে ঘুরে আসা, নদীতীরে ফেলে রাখা তীররক্ষার কংক্রিটের কিউবে বসে হাওয়া খাওয়া, গোধূলী উপভোগ, রাতে কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা অসংখ্য ছোট-বড় জাহাজের বর্ণিল আলো, বন্দর ছেড়ে যাওয়া জাহাজের শব্দ শোনা ছাড়াও নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগের নানা উপাদান এখানে খুঁজে পাওয়া যায়।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসান মুরাদ বিপ্লব জয়নিউজকে বলেন, আমরা ফিরিঙ্গীবাজারের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ হাতে নিয়েছি। মূল সড়কের পাশে ডাস্টবিন তুলে দিয়ে ফুলের বাগান করা হয়েছে। রাতে সৌন্দর্যবৃদ্ধির জন্য রাস্তার মাঝখানে এলইডি লাইট লাগিয়েছি। ব্রিজঘাট মেরিনার্স সড়কে মানুষের বসার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। পরিকল্পিতভাবে এবং সর্ম্পূণরূপে একটি এলাকাকে কিভাবে সুন্দর করা যায়, এলাকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তার পরিকল্পনা করেছি।

তিনি বলেন, মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের যে স্বপ্ন ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি, নির্বাচনে আমারও অঙ্গীকার ছিল তা-ই। এই পরিকল্পনাকে বাস্তবরূপ দেওয়ার প্রয়াস হিসেবে ফিরিঙ্গীবাজারকে সাজিয়েছি। প্রাথমিক পর্যায়ে রাস্তার কার্পেটিং, রাস্তা সংস্কার, মিনি আইল্যান্ডের কাজ ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দরপত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছি। পাঁচ বছরে মেয়াদের মধ্যে উন্নয়ন কাজগুলো ফিরিঙ্গীবাজারের অলিগলিতে দৃশ্যমান হবে আশা করি।

ফিরিঙ্গীবাজারের বাসিন্দা কমর উদ্দীন আহমেদ সিদ্দিক জয়নিউজকে জানান, আগে ডাস্টবিনের কারণে ফিরিঙ্গীবাজার সড়কে ছড়িয়ে থাকত ময়লা-আবর্জনা। ফলে স্কুলের বাচ্চা থেকে শুরু করে সবাই নাক চেপে চলাচল করতেন। ডাস্টবিন উচ্ছেদের ফলে মহল্লাবাসী এখন আর যত্রতত্র ময়লা ফেলেন না। আগে থেকে ফিরিঙ্গীবাজার এখন অনেক আলোকিত।

চসিক সূত্রে জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রামে আর ডাস্টবিন দেখা যাবে না। নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে সড়কের পাশে যেসব ডাস্টবিন আছে সেগুলো পর্যায়ক্রমে তুলে ফেলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১৩৭৫টি কংক্রিট ডাস্টবিনের মধ্যে ৭৭৫টি অপসারণ করে ওই জায়গায় ফুলের বাগান হয়েছে। ১৭১৪ জন সেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি বাসা-বাড়ি, দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বর্জ্য সংগ্রহের জন্য। দুর্গন্ধ ও যানজট থেকে মুক্তির জন্য দিনের পরিবর্তে রাতে বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে । ৯ লাখ ছোট ও ৪ লাখ বড় ডাস্টবিন বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। ৭৭৫টি ভ্যানগাড়ির সাহায্যে ডোর টু ডোর পদ্ধতিতে বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

জয়নিউজ /আরসি

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...