গণপিটুনির আড়ালে কি সোহেলকে ‘খুন’?

0

মুদ্রার যেমন আছে এপিট-ওপিট। ঘটনারও আছে উল্টো-পিঠ। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী রেলওয়ে বাজারের ব্যবসায়ীরা কথিত ‘গণপিটুনি’ দিয়ে খুন করেছে মহিউদ্দিন সোহেলকে। জয়নিউজের অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদক রুবেল দাশ এই ঘটনার পেছনে ভিন্ন ইঙ্গিত পাচ্ছেন। এটি কি পূর্বশত্রুতার রেশ ধরে খুন, যা ’গণপিটুনি’ আড়ালে ঘটেছে? পড়ুন বিস্তারিত-

গণপিটুনিতে নয়, প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত হামলায় খুন হয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন সোহেল (৩৫); এমন ইঙ্গিত পরিস্ফুট হচ্ছে। মৃত্যুর পর যার শরীরে ২৬টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়, ধীরে ধীরে জনমানসে প্রশ্ন উঠছে এটি তাহলে পরিকল্পিত খুন?

এদিকে নিহতের পরিবারও দাবি করেছে- পরিকল্পিত খুন। ঘটনার পরদিন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি তুলে ধরে সোহেলের পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের পক্ষ থেকে এসময় প্রশ্ন রাখা হয়, ‘সোহেল যদি চাঁদাবাজই হতো, কোন থানায় তাঁর নামে কেন একটি মামলা কিংবা জিডিও কেন নেই?’

প্রসঙ্গত, বিগত চার বছর আগে এই পাহাড়তলী এলাকার একই জায়গায় রফিক সওদাগর নামে এক ব্যবসায়ীকে গণপিটুনির নাম করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। একই ঘটনায় সম্পৃক্ততা ছিলো সোহেল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ওসমান খানের।

জয়নিউজের অনুসন্ধানে জানা যায়, মূলত পাহাড়তলী চালের  বাজারের আধিপত্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর মো. সাবের আহমেদ ও  জাতীয় পার্টির নেতা ওসমানের অনুসারিদের হাতে খুন হয় সোহেল।  ঘটনার পরে ওসমানের অনুসারী কিছু কতিপয় ব্যবসায়ী  খুনের ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে নিতে চাঁদাবাজির অভিযোগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে।

স্থানীয়রা জানান, বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কাউন্সিলর সাবের ও জাতীয় পার্টির নেতা ওসমানের সাথে বেশ কিছু দিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল নিহত সোহেলের। পাহাড়তলী বাজারে গেল কয়েক বছর ধরে কাউন্সিলর সাবেরের ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজির রাজত্ব চালিয়ে আসছিল জাতীয় পার্টির নেতা ওসমান। তবে গেল এক বছর ধরে তার রাজত্বে বাধা হয়ে দাঁড়ায় নিহত সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন সোহেল। বাজার জুড়ে চলতে থাকে সোহেলের দৌরাত্ম্য। নিহত সোহেলের জন্ম পাহাড়তলীতে হওয়ায় সবকিছুই ছিল তার নখদর্র্পণে। তাই তার সাথে অধিপত্যের খেলায় পেরে উঠছিল না ওসমান ।

জানা যায়, সোহেল প্রতি রাতেই তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের নিয়ে পাহাড়তলীর আস্তানায় আড্ডা দিত। পরের দিন তাদের সাথেই বের হত সোহেল। কিন্তু ঘটনার দিন ভোরে তার বেশিরভাগ সাঙ্গপাঙ্গ চলে যায়। তার সাথে শুধু কয়েকজন ছিল। এ সুযোগে ওসমান তার অনুসারীদের নিয়ে সোহেলের আস্তানায় হামলা চালায়। সাথে এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীকেও সাথে নেয়। মুহূর্তেই লোকে লোকারণ্য হয়ে যায় পুরো এলাকা। এ সুযোগে ওসমানের অনুসারী ছুরিকাঘাত ও পিটুনি দিয়ে হত্যা করে সোহেলকে। পরে গণপিটুনি বলে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে।

মঙ্গলবার (৮ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে সোহেলে ভাই শিশির বলেন, মহিউদ্দিন সোহেল চাঁদাবাজ ছিলেন না। তিনি রেলওয়ের প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার ছিলেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে সোহেলকে খুন করা হয়েছে। স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও অনৈতিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত সমাজবিরোধীরা তাঁকে খুন করে। মঙ্গলবার রাতে ডবলমুরিং থানায় শতাধিক জনকে আসামি করে  পরিবারের পক্ষে মামলা দায়ের করেন সোহেলের ছোট ভাই শাকিরুল ইসলাম শিশির। বুধবার (৯ জানুয়ারি) এ মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ওসমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (ডবলমুরিং জোন) আশিকুর রহমান জয়নিউজকে জানান, মহিউদ্দিন সোহেল মৃত্যুর ঘটনায় ওসমান নামের একজনকে বুধবার বিকেলে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ওসমান এই মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...