সবজিচাষে সফল জাহেদ

0

হালিশহরের আনন্দবাজার। সমুদ্রপাড়ের এ স্থানটি এখন বিখ্যাত সবজি চাষের জন্য। এখানে গেলে যতটুকু চোখ যায় সবুজ শাক-সবজি দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে।  এ জমিতে হচ্ছে  টমেটো, বিভিন্ন রকম  শাক, বাঁধাকপি-ফুলকপির চাষ। এ সবজি বিক্রি করে ভাগ্য খুলেছে এখানকার স্থানীয় কৃষকের। ন্যায্য দাম পাওয়ায় খুশি তারা।

কথা হয় এখানকার সবজি চাষি মো. জাহেদের (৩৭) সঙ্গে। ১২ বছর ধরে এখানে বিভিন্ন সবজি চাষ করছেন তিনি। গ্রামের বাড়ি পঞ্চগড় হলেও ২৬ বছর ধরে আছেন চট্টগ্রামে। সবজি চাষ করে লাভের মুখ দেখায় পেশা হিসেবে নিয়েছেন এটিকে। সবজি চাষের জন্য ১ কানি জমি বর্গা নিয়েছেন তিনি। বছরে ২৫ হাজার টাকা জমির মালিককে ভাড়া হিসেবে দেন। শীতের শুরুতেই তিনি শুরু করেছেন লাল শাক চাষ। কারণ হিসেবে জানালেন, গরমকালে লাল শাক দ্রুত বড় হয়ে যায়। কিন্তু শীতকালে বড় হতে একটু সময় লাগে। তাই চাহিদাও বেশি থাকে। ফলে শীতকালে শাকের ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই শীতকালে পুরো জমিতে তিনি লাল শাক চাষ করেন।

তিনি জানান, গরমকালে যেখানে এক আঁটি (৪০০-৪৫০ গ্রাম) লাল শাক বিক্রি হয় ৫-৬ টাকায়, সেখানে শীতকালে এ শাক বিক্রি হয় আঁটিপ্রতি ১০-১২ টাকা।  এছাড়া বছরের অন্যান্য সময়ে জমিতে পুঁই শাক, তিতা করলা ও অন্যান্য সবজিও চাষ করেন জাহেদ।

জাহেদ জয়নিউজকে বলেন, লাল শাক চাষের জন্য এমাকোর ও ইউরিয়া সার প্রয়োগ করতে হয়। এমাকোর দিলে শাকে পোকামাকড় হয় না। আর ইউরিয়া দিলে শাকের রং উজ্জ্বল হয়। এছাড়া প্রচুর পরিমাণে পানি দিতে হয়।

তিনি জানান, সব খরচ বাদ দিয়ে সবজি চাষ করে মাসে তার ২০ হাজার টাকা লাভ থাকে। তাই সবজি চাষকেই পেশা হিসেবে নিয়েছেন।

হালিশহর আনন্দবাজার এলাকায় জাহেদের মতো আরো ১০-১২ জন চাষি আছেন। যারা বছরের পুরো সময়টা বিভিন্ন সবজি চাষ করেন এখানকার জমিতে। এখানে চাষ করা সবজি পৌঁছে যায় নগরীর বাজারগুলোতে। ফলে নগরবাসীর সবজির চাহিদা মেটাতে এই সবজি চাষিরা রাখছে অবদান। আর পরিবহন ও অন্যান্য খরচ কমে আসায় নগরবাসীও কম খরচে কিনতে পারছে এ সবজি।

জয়নিউজ/আরসি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...