অসহায় ৪ নারী এবং জনদরদি এক নগরপিতার গল্প

0

গল্পটা এক দৃষ্টি শক্তিহীন নারী ও জনদরদি এক নগরপিতার। সেই নগরপিতা, যার দিনটি শুরু হয় তাঁর বাড়িতে আসা মানুষের সমস্যা, অভিযোগ আর সুখ-দুঃখের কথা শুনে। সবার কথাই তিনি মন দিয়ে শোনেন, চেষ্টা করেন যার জন্য যতটা সম্ভব করার। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন তাঁর দুয়ারে আসা কাউকে যাতে খালি হাতে ফিরতে না হয়। মানুষটির নাম আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জননন্দিত নগরপিতা।

দৃষ্টি শক্তিহীন মর্জিনা আক্তার ভাবতেও পারেননি তাঁর জন্য নগরের এতো গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত মানুষটি এতোটা করবেন। বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে আরো তিন জন নারীকে নিয়ে মেয়র কার্যালয়ে আসেন মর্জিনা আক্তার। মর্জিনা আক্তার ও তাঁর সঙ্গীরা মানুষের বাসায় কাজ করেন। থাকতেন নগরের লালখানবাজারের মতিঝর্ণা এলাকায়। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাস করতেন বলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছিল। কিন্তু সেখানে পানি-বিদ্যুতের সমস্যার অভিযোগ নিয়ে তারা আসেন মেয়রের কাছে।

মেয়র তাদেরকে পাশে বসিয়ে একে একে সব কথা শোনেন। পরে তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করেন এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে এ বিষয়ে মেয়রকে বিস্তারিত জানান ওই কর্মকর্তা।

পরে মেয়র সিটি করপোরেশনের এস্টেট শাখার কর্মকর্তা এখলাসুর রহমানকে নিজ দপ্তরে ডেকে পাঠান। এস্টেট কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে মেয়র তাদেরকে নগরের এনায়েতবাজার এলাকার ভবঘুরে কেন্দ্রে পুনর্বাসনের নির্দেশ দেন। যত দ্রুত সম্ভব সেখানে তাদের পরিবারকে সরিয়ে নিতে বলেন মেয়র। মেয়রের এমন সহৃদয়তায় অভিভূত মর্জিনা আর তাঁর সঙ্গীরা চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। এসময় তিনি চারজনের প্রত্যেককে নগদ ১০ হাজার টাকা করে দেন।

আবেগাপ্লুত মর্জিনা আক্তার জয়নিউজকে বলেন, মেয়র মহোদয় আজকে আমাদের জন্য যা করেছেন তাতে আমরা অনেক খুশি। এ ধরনের বড় মানুষের সঙ্গে দেখা করতে পারাটাও অনেক সৌভাগ্যের। কিন্তু মেয়র মহোদয় তাঁর অফিসে পাশে বসিয়ে আমাদের সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন।

এ ঘটনার একটি ভিডিও নিজের ফেসবুকে আপলোড করেন নগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা আবদুর রশিদ লোকমান। সেখানে মেয়রের প্রতি নগরবাসী লিখেছেন আন্তরিক শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার কথা। কেউ কেউ লিখেছেন, জনতার নেতা। কেউ লিখেছেন, নগরপিতা, যার দুয়ার সবার জন্য খোলা। আবার কারো মন্তব্য সাধারণ জনগণের এসব দুঃখ-দুর্দশার তাৎক্ষণিক সমাধানের মাধ্যমে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন অনুসরণীয় নজির সৃষ্টি করছেন। শুধু আজকে নয়, এ ধরণের অনেক উদাহরণ রয়েছে মেয়র নাছিরের।

এ বিষয়ে জানতে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে ফোন করা হলে তিনি জয়নিউজকে বলেন, সিটি করপোরেশন একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। আমি হচ্ছি জনগণের সেবক। আমার দায়িত্ব জনগণের সেবা করা। তারা কয়েকজন মিলে একটি সমস্যা নিয়ে আমার কাছে এসেছিল। আমি সেটি সমাধান করে দিয়েছি। আমি সবসময় চেষ্টা করি যেন সাধারণ মানুষ তাদের অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে আসতে পারেন। আমার দুয়ার সবার জন্য খোলা। যে কেউ যেকোন সময় আমার সাথে এসে দেখা করতে পারেন।

জানা গেছে, শুধু বাসা আর মেয়র কার্যালয়েই নয়, বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে, অনেক সময় চলতি পথে গাড়ি থামিয়েও মেয়র কথা বলেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে। তাদের সমস্যার কথা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধানের নির্দেশ দেন দায়িত্বশীলদের।

এই হলেন আমাদের প্রিয় মেয়র। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জননন্দিত নগরপিতা আ জ ম নাছির উদ্দীন।

লেখক: প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), জয়নিউজ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...