দিক নির্দেশনাহীন পাঠ্যবই, গাইডমুখী শিক্ষার্থী

0

নিষিদ্ধ হলেও নগরের প্রত্যেকটা লাইব্রেরিতে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে গাইড বই। আর শিক্ষার্থীরা গাইড বই কেনার জন্য ভিড় জমাচ্ছে লাইব্রেরিগুলোতে। কারণ গাইড বই বাজারে এখন সহায়ক বা অনুশীলনমূলক বই হিসেবে পরিচিত। মূল বইয়ের অনেক অনুশীলনী শিক্ষার্থীদের কাছে সহজবোধ্য না হওয়ায় তারা সহায়ক বইয়ের প্রতি ঝুঁকছে, এটা অভিভাবকদের কথা। আবার সচেতন মহল মনে করছে, পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে কেবল পরীক্ষায় পাশের জন্য শিক্ষার্থীরা গাইড বইয়ের আশ্রয় নেয়।

পাথরঘাটার সেন্ট স্কলাস্টিকা স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সামিয়া আক্তার তার মায়ের সঙ্গে আন্দরকিল্লায় গাইড বই কিনতে এসেছে। কারণ পাঠ্যবইয়ের অনেক অনুশীলনী তার কাছে সহজ নয়।

সামিয়ার মা শিশির আক্তার বলেন, পাঠ্যবইয়ে সৃজনশীল প্রশ্নগুলো বইয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে গাইড বইয়ের শরণাপন্ন হতে হয়।
বছরের শুরুতেই সামিয়ার মতো অনেক শিক্ষার্থী গাইড বই কিনতে ভিড় করছে বইয়ের দোকানে। নগরের আন্দরকিল্লা ও চকবাজার ঘুরে দেখা গেল বইয়ের দোকানে বেশ কয়েকটি প্রকাশনীর ক্লাশভিত্তিক গাইড বই সাজিয়ে রেখেছে দোকানিরা। মার্কেটে অনুপম, জুপিটার, লেকচার, পাঞ্জেরীর গাইডগুলো চোখে পড়ার মতো।

আন্দরকিল্লার বই বিক্রেতা ছলিমুর রহমান জয়নিউজকে জানান, অনুপম-জুপিটার এই দুটি গাইডেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে শিক্ষার্থীরা।
ডা. খাস্তগীর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী শ্রেয়া রায় গাইড বই কিনতে এসেছে আন্দরকিল্লায়। শ্রেয়া জানায়, সে অনুপম সিরিজের একসেট বই কিনেছে ৪০০ টাকা দিয়ে। তবে মূল বই থেকে সমাধানের চেষ্টা করে সে।

শ্রেয়ার মা শিপ্রা রায় জয়নিউজকে বলেন, বর্তমানে সিলেবাস এমন করে সাজানো যে নোট ছাড়া আমরা নিজেরা কিছুই বুঝতে পারি না। শিশুরা কিভাবে বুঝবে! এজন্য গাইড বই কিনতে এসেছি। একদিকে সরকার বিনামূল্যে বই বিতরণ করছে, অন্যদিকে সিলেবাস কঠিন করে গাইড বই কিনতে বাধ্য করছে। তাই আগে মূলবই সহজ করতে হবে। তারপর গাইড বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, যদি অংক বইয়ের কথা বলি, সেখানে দেখা যায়, পাঠ্যবইয়ে অনুশীলনীর মাত্র ৬-৭টির সমাধান থাকে। বাকিগুলোর সমাধান খুঁজতে হয় গাইডে। এছাড়া সৃজনশীলের ক্ষেত্রে থাকে না কোনো দিক নির্দেশনা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক জয়নিউজকে বলেন, গাইড বইয়ের সঙ্গে বড় ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের স্বার্থ জড়িত থাকে। শিক্ষার্থীদের অসহায়তাকে পুঁজি করে প্রকাশকরা ব্যবসা করে। তারা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গাইড বই কেনার ব্যাপারে উৎসাহিত করে।

তিনি বলেন, একটা সময় পাঠ্যবইয়ে গদ্য ও পদ্যের অধ্যায়ের সঙ্গে ‘শব্দের অর্থ’ যুক্ত ছিল। এখন তা পাঠ্য বইয়ের শেষের দিকে দেখা যায়। অপরদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের সর্ম্পক না থাকায় তারা গাইড বইয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। কারণ তারা জ্ঞান অর্জনের জন্য না পড়ে, শুধু পরীক্ষায় পাশের জন্য গাইড বই পড়ে। শিক্ষার্থীরা প্রথম অবস্থায় নতুন বইয়ের ১০ ভাগ নতুন শব্দের সঙ্গে পরিচিত হয়। এতে করে শব্দের অর্থ বুঝতে তাদের হিমশিম খেতে হয়।

তিনি আরো বলেন, গাইড বইয়ের প্রসারের পেছনে কোচিং সেন্টার, একশ্রেণির শিক্ষক জড়িত রয়েছেন। অভিভাবকদের ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় ছোট শিশুদের হাতে এখন গাইড বই উঠছে। শিক্ষা ব্যবস্থার এ সমস্যা নিয়ে আমাদের সকলের চিন্তা করা উচিত।

জয়নিউজ/আরসি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...