ইভান্সের সেঞ্চুরিতে রাজশাহীর জয়

0

জাতীয় দলে খেলার সুযোগ না পাওয়া ইংলিশ ব্যাটসম্যান লরি ইভান্সের হাত ধরে এলো এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রথম সেঞ্চুরি। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে রাজশাহী কিংসের এ ব্যাটসম্যান খেলেন ৬২ বলে ১০৪ রানের এক ঝলমলে ইনিংস।

ঢাকায় মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে ফিরতি পর্বের প্রথম ম্যাচে তার সেঞ্চুরির কল্যাণে কুমিল্লার বিপক্ষে আগে ব্যাট করে রাজশাহী কিংস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ১৮.২ ওভারে ১৩৮ রানে অলআউট হয়। ফলে কুমিল্লাকে ৩৮ রানে হারিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ৪র্থ স্থানে উঠে এলো মেহেদি মিরাজের রাজশাহী।

এদিন টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি কিংসদের। ওপেনার শাহরিয়ার নাফিস ব্যক্তিগত ৫ রানে বিদায় নেন। তিন নম্বরে নামা দলপতি মেহেদি মিরাজ কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। মার্শাল আইয়ুব করেন মাত্র ২ রান। দলীয় ২৮ রানেই কিংসরা টপঅর্ডারের তিন উইকেট হারিয়ে বসে।

এরপরই দলকে টেনে নিয়ে চলেন ইংল্যান্ডের লরি ইভান্স এবং নেদারল্যান্ডসের রায়ান টেন ডয়েসকাট। ৬১ বলে সেঞ্চুরি করেন ইভান্স। ৩৮ বলে ফিফটি করেন ডয়েসকাট। দুজনই অপরাজিত থাকেন। মাঠ ছাড়ার আগে ইভান্স ৬২ বলে ৯টি চার আর ৬টি ছক্কায় করেন ১০৪ রান। এটিই বিপিএলের এই আসরে প্রথম সেঞ্চুরি। আর ৪১ বলে দুটি চার, তিনটি ছক্কায় ডয়েসকাট করেন ৫৯ রান।

এই জুটিতে আসে অবিচ্ছিন্ন ১৪৮ রান। ৮৩ বলে ইভান্স-ডয়েসকাট জুটি স্কোরবোর্ডে ১৪৮ রান তুলে অবিচ্ছিন্ন থাকেন। এটি এই বিপিএলের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।

কুমিল্লার সাইফউদ্দিন ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে উইকেট শূন্য থাকেন। মেহেদি হাসান ১ ওভারে ৪ রান দিয়ে পান একটি উইকেট। ৪ ওভারে ২০ রান খরচায় দুটি উইকেট পান লিয়াম ডসন। ওয়াহাব রিয়াজ ৪ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। শহীদ আফ্রিদি ৪ ওভারে ৩২ রান খরচায় কোনো উইকেট পাননি। ৩ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে থিসারা পেরেরা উইকেট শূন্য থাকেন।

১৭৭ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নামেন কুমিল্লার ওপেনার তামিম ইকবাল এবং এনামুল হক বিজয়। ব্যক্তিগত ২৫ রানে তামিম আর ২৬ রানে বিজয় বিদায় নেন। তিন নম্বরে নামা শামসুর রহমান ১৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ৮ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ১২ রান করে বিদায় নেন জিয়াউর রহমান। দলপতি ইমরুল কায়েস ১০ বলে ১৫ রান করে ফিরে যান। ১৪তম ওভারের শেষ দুই বলে ইমরুল আর থিসারা পেরেরাকে আউট করে ম্যাচ নিজেদের দিকে টেনে নেয় রাজশাহীর বোলার কায়েস আহমেদ।

লিয়াম ডসন এক প্রান্তে রানের চাকা ঘোরালেও শহীদ আফ্রিদি আশা জাগিয়ে ফিরে যান। ১৫ বলে একটি চার আর দুটি ছক্কায় আফ্রিদি করেন ১৯ রান। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে আফ্রিদিকে ফিরিয়ে দেওয়ার এক বল পর কামরুল ইসলাম রাব্বি ফিরিয়ে দেন ১৪ বলে ১৭ রান করা লিয়াম ডসনকে। প্রথম বলে আফ্রিদি, তৃতীয় বলে ডসন আর চতুর্থ বলে সাইফুদ্দিনকে ফিরিয়ে এক ওভারেই তিন উইকেট তুলে নেন রাব্বি।

রাজশাহীর কায়েস আহমেদ ৪ ওভারে ৪৬ রান দিয়ে তুলে নেন দুটি উইকেট। কামরুল ইসলাম রাব্বি ৩ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে নেন চারটি উইকেট। মোস্তাফিজ ৩.২ ওভারে মাত্র ৮ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট। আরাফাত সানি ৩ ওভারে ২৮ রানে একটি, ডয়েসকাট ২ ওভারে ১৫ রান দিয়ে দুটি উইকেট পান। দলপতি মেহেদি মিরাজ ৩ ওভারে ২৭ রান দিয়ে উইকেট শূন্য থাকেন।

জয়নিউজ/শহীদ
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...