বিস্ময় শিশু রামসেস স্যাংগুইনো

0

রামসেস স্যাংগুইনো নামে এক বিস্ময় শিশুর সন্ধান পাওয়া গেছে। বয়স ৫ বছর। টেলিপ্যাথিক শিশু হিসেবে তাকে ধারণা করা হচ্ছে। অন্তত তার মায়ের পোস্ট করা একটা ভিডিও দেখে একথা বলছেন সবাই।

সেখানে শিশুটি তার মায়ের লেখা সংখ্যাগুলো স্বাভাবিকভাবে পড়ে যাচ্ছে। অথচ এই সংখ্যাগুলো সম্পর্কে শিশুটিকে তার মা কিছুই বলেননি। ফুটেজটি বিজ্ঞানীদের ভীষণভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বর্তমানে তার ক্ষমতা নিয়ে তারা গবেষণা করছেন। উল্লেখ, টেলিপ্যাথি শব্দটি প্রথম সংজ্ঞায়িত হয়েছিল ১৮৮২ সালে ফ্রেডারিক ডবি্লউ এইচ মেয়ার কর্তৃক।

ধারণা করা হচ্ছে, রামসেসের অটিজমের উচ্চতর কার্যকরী ফর্ম আছে, যে স্পষ্টভাবে ১ থেকে ৩৮ পর্যন্ত সংখ্যা তার দৃষ্টিসীমার বাইরে রেখেও পড়তে সমর্থ। তার মা নিক্স স্যাংগুইনো স্পষ্টভাবেই বলেছিলেন, এখানে কোনো কৌশল নেই, নেই কোনো হোম ভিডিও নির্মাণের প্রচেষ্টা।

জন্ম থেকেই সে বিশেষ কিছু। তিনি আরও বলেন, আমি ওর জন্মের আগেই জানতাম সে বিশেষ কিছু হতে যাচ্ছে, সে যে জগৎকে পরিবর্তন করে দেবে। একদম শিশু বয়সেও সে পুতুল নিয়ে খেলতে পছন্দ করত না। সে শুধু পড়া পছন্দ করত। ১২ মাস বয়সে পড়া আরম্ভ করেছিল এবং ইংরেজি, স্প্যানিশ, গ্রিক এবং কিছু জাপানি এই সময়ের মধ্যে সে শিখে ফেলে। ১৮ মাস বয়সে সে শিখেছিল পিরিওডিক টেবিল এবং সব ধরনের পরমাণু সংখ্যা সম্বন্ধে। তাকে অসাধারণ প্রতিভাবান শিশুদের একজন ভাবা হয়েছিল।

কিন্তু তার মা নিক্স দাবি করেছেন, তার ছেলে তাদের মতো নয়, অনেক ভিন্ন। কারণ সে ব্যাখ্যা করতে পারে না কীভাবে সে শিখছে, কীভাবে সে জানে? আমি তাকে কয়েকটি ভাষা শিখালেও আমার কোনো ধারণা নেই সে কীভাবে হিন্দি, অ্যারাবিক অথবা হিব্রু শিখেছে। অথচ তার বয়স তখন ছিল মাত্র ৩বছর । এটা কম্পিউটারের মধ্য দিয়ে হয়ে থাকতে পারে। কেননা, কম্পিউটার প্রায়ই চালানো থাকত।

রামেসেস-এর অস্বাভাবিক মস্তিষ্ক ক্ষমতা বিস্ময়াভিভূত করেছে অনেক নিউরো সায়েন্টিস্টকে, তার মধ্যে খুবই খ্যাতনামা একজন হচ্ছেন ড. ড্যানিয়েল পাওয়েল। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ফ্যাকাল্টির এই সাবেক সদস্য ওরেগনের মেডফোর্ডে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। বর্তমানে টেলিপ্যাথি নিয়ে তার গবেষণার অংশ হলো রামেসেস।

বাস্তবে বিজ্ঞান হিসেবে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকলেও টেলিপ্যাথির বাস্তবতা এখানে একটু অন্য অর্থে মিলতে পারে। ড. পাওয়েল মনে করেন, যদি এটাকে সঠিকভাবে বোঝা যেতে পারে তাহলে এটা অটিস্টিক শিশু ও তার বাবা-মায়ের মধ্যকার এটা বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। অডিটি সেন্ট্রাল।

জয়নিউজ/বিশু
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...