শিক্ষা নিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

0

শিক্ষা নিয়ে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করা হবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি বলেছেন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিশ্চিত করা ও কোচিং বন্ধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর হলে তা জ্ঞান আহরণের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করে। শিক্ষা ক্ষেত্রে সরকারের অর্জন অনেক। আমরা শিক্ষার মানোন্নয়নের দিকে বিশেষভাবে নজর দিয়েছি। এটা চলমান প্রক্রিয়া আর আমাদের কাজ হচ্ছে তা ধরে রাখা। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য শুধু শিক্ষক নয়, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যেতে হবে।

প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালে কোন প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। এই অপপ্রয়াসকে শক্তভাবে মোকাবেলা করেছে সরকার। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। পরীক্ষার আগের দিন পরীক্ষার্থীদের পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোথায় প্রশ্ন পাওয়া যায় তা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করে। অভিভাবক ও শিক্ষকরাও এ কাজে তাদের সহযোগিতা করে। তাই সবাই মিলে এই প্রশ্নফাঁস বন্ধে কাজ করতে হবে। প্রশ্নপত্র ও পরীক্ষার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই। এটা সম্পূর্ণ বোর্ডের বিষয়। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, মানুষ দু’বেলা খেতে ঠিকমতো পারতো না। কিন্তু এখন দু’বেলা খেতে পারছে। দেশ পরিবর্তন হয়েছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের বিজ্ঞান-তথ্যপ্রযুক্তিসহ সব ক্ষেত্রে পরিবর্তন হয়েছে। কোনো উন্নয়ন আমরা টেকসই করতে পারবো না, যদি শিক্ষার উন্নয়ন না করতে না পারি। আমরা যদি সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে প্রত্যেকে নিজ অবস্থান থেকে কাজ করি তাহলে আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী এমপি বলেন, দুই মেয়াদে শেখ হাসিনার সরকার সঠিকভাবে পরিচালিত হয়েছে বিধায় দেশ আজ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে যে অর্জন হয়েছে তা ধরে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। শিক্ষা হচ্ছে জাতির মেরুদণ্ড। দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে আর তার মূল কারণ শিক্ষার উন্নয়ন।

তিনি বলেন, শিক্ষকতার মতো পেশাকে টাকা আয়ের উৎস হিসেবে যাতে দেখা না হয়। এটি মহান পেশা। বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রের সকল সীমাবদ্ধতা থাকা শর্তেও শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শিক্ষা খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এবং যে বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা আগে কখনো হয়নি।

শিক্ষকদের উদ্দেশে মহিবুল হাসান বলেন, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের বিষয়ে মনযোগী হতে হবে। শ্রেণিকক্ষে ভালোভাবে না পড়িয়ে ব্যক্তিগত কোচিং সেন্টারে মনযোগী হলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অনুরোধ রইল কেউ যেন এমন কিছু না করেন। যদি এক্ষেত্রে কেউ ধরা পড়ে তাহলে আমাদের কঠোর হতে হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম ও চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল হাসনাত।

জয়নিউজ/ফয়সাল/বিশু
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...