‘হৃদ মাঝারে রাখিব’ বলে কোমর বেঁধে নামল চমেক হৃদরোগ বিভাগ

0

ঋতুর আবর্তনে শীতকাল এলেই ভয়াবহ হয়ে উঠে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগ। শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্ট রোগীদের ত্রাহি দশায় বেসামাল হয়ে ওঠে বিভাগটি। শ্যামল গুপ্ত‘র বিখ্যাত সুর ‘আমার হৃদয় নিয়ে আর কতকাল’ অপেক্ষার মতো দশা হয় রোগীদের। তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর একটি চিঠিতে চট্টগ্রামে আলাদা একটি হৃদরোগ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা জানিয়েছেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক। এছাড়াও তিনটি পৃথক পরিকল্পনা নিয়েছে চমেকের হৃদরোগ বিভাগ। হৃদরোগীদের যত্নে ‘হৃদ মাঝারে রাখবো’ বলে এবার তাঁদের কোমর বেঁধে নামা। চমেক ঘুরে জয়নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক পার্থ প্রতীম নন্দী’র ছবি ও বিস্তারিত প্রতিবেদন-

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের দোতলার ১২ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত হৃদরোগ বিভাগ। পাশেই লাগোয়া সেন্ট্রাল করোনারি ইউনিট (সিসিইউ), পোস্ট সিসিইউ। এসব কক্ষের সাধারণ বেড ছাপিয়ে ফ্লোরেও ঠাঁই নেই রোগীদের। বাড়তি রোগীর চাপ সামাল দিতে ফ্লোর ছাপিয়ে করিডরে শয্যার আয়োজন। একশ জন রোগী ধারণ ক্ষমতা এখানে, কিন্তু গড়ে প্রতিদিন সাড়ে তিন শ’ রোগির চিকিৎসা নিতে হচ্ছে এখানে।

জানা গেছে, হৃদরোগ বিভাগের শয্যা সংখ্যা ৬০টি। কিন্তু শীতের প্রকোপ বাড়ার সাথে সাথে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে তিনশত ছয় জনে পৌঁছেছে। হৃদরোগের মতো জটিল রোগের চিকিৎসাও করাতে হচ্ছে ফ্লোরে বা মেঝেতে। সঙ্গে আছে জনবল সংকট। নেই কোন অধ্যাপক পদ। তবে হতাশার মধ্যেও মিলছে আশার ক্ষীণ রেখা। এই বিভাগের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী কর্ম পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, ফেনী, কুমিল্লার দক্ষিনাংশ, চাঁদপুর, নোয়াখালীর একাংশের প্রায় চারকোটি জনগোষ্ঠির সরকারি পর্যায়ে হৃদরোগ চিকিৎসার ভার এই বিভাগের ওপর!

প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সালে চমেক হাসপাতালে মাত্র ৬টি শয্যা নিয়ে হৃদরোগ বিভাগটি চালু হয়। পরবর্তীতে আস্তে আস্তে সেটি ৬০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। চমেকের হৃদরোগ বিভাগের অধীনে কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগ চালু হয় ২০১২ সালে। দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে একমাত্র চট্টগ্রামেই প্রথম এ ধরনের বিভাগ চালু হয়।

চট্টগ্রামে আলাদা একটি হৃদরোগ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার স্বীকার করে চমেক হাসপাতালের পরিচালকের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর একটি চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে- চট্টগ্রাম অঞ্চলে হৃদরোগীর প্রকোপ বেশি, তাই চট্টগ্রামে আলাদা একটি হৃদরোগ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি করা হয়েছে হাসপাতালের পরিচালকের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের সচিব বরাবর। চিঠি পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করে হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডা. প্রবীর কুমার দাশ বলেন, ‘এ বিভাগে অন্তহীন সমস্যা। বিশেষ করে জনবল, উপকরণ এবং শয্যার সংকট প্রকট। এসব সমস্যা পরিচালককে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো এক চিঠিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দেয়া হয়েছে।

চিঠিতে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণকারী রোগীদের তিনটি পৃথক ইউনিটের মাধ্যমে কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিত করা হবে। তিনি ইউনিটের প্রতিটিতে থাকবেন একজন অধ্যাপক, দুই জন সহযোগী অধ্যাপক ও তিনজন সহকারী অধ্যাপক। চার বছর মেয়াদি এমডি (কার্ডওলজি) এবং দুই বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কার্ডিওলজি (ডিকার্ড) কোর্সের শিক্ষার মান উন্নয়ন। দেশের অন্যান্য স্থানের তুলনায় চট্টগ্রামে কেন হৃদরোগীর সংখ্যা বেশি তার কারণ অনুসন্ধানে মৌলিক ও রোগতত্ত্বীয় গবেষণার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এছাড়াও চিঠিতে কার্ডিওগ্রাফার (ইসিজি টেকনিশিয়ান) ও সিসিইউ নার্স এবং এনজিওগ্রাফার (ক্যাথল্যাব টেকনিশিয়ান) এর প্রশিক্ষণ ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডা. প্রবীর কুমার দাশ জয়নিউজকে বলেন, সীমাবদ্ধতা স্বত্বেও হাসপাতালের সক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিছু দৃশ্যমান পরিবর্তন এনেছি। যে তিনটি বড় পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে রোগীদের সেবা দেয়া সহজ হবে।

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...