স্বামীকে বঁটি দিয়ে ৬ টুকরো করলেন স্ত্রী!

0

প্রথমে স্বামীকে খুন করে ওয়ার্ডরোবে লাশ রেখে কাজে যান তিনি। তারপর কাজ শেষে ঘরে ফিরে সেই লাশকে বঁটি দিয়ে ছয় টুকরো করে বাগানে ফেলে দেন স্ত্রী।

লোমহর্ষক এই ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরে। জেলার শ্রীপুর পৌরসভার গিলারচালা এলাকা থেকে শুক্রবার রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে এক ব্যক্তির ছয় টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তার স্ত্রী জীবন্নাহারকে আটক করে পুলিশ।

শনিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ওই নারী তার স্বামীকে বেতনের টাকা না দেওয়ায় কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, “রফিকুল ও জীবন্নাহার গিলারচালা এলাকায় আব্দুল হাইয়ের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। রফিকুল ওই এলাকার ‘হাউ আর ইউ’ নামে একটি টেক্সটাইল কারখানায় লোডার পদে আর জীবন্নাহার একই এলাকায় মেঘনা নিট কম্পোজিট কারখানায় সুয়িং অপারেটর পদের শ্রমিক। রফিকুল বেতন পেতেন সাত হাজার টাকা আর জীবন্নাহারের বেতন ১৩ হাজার টাকা। স্বামী তার স্ত্রীর বেতনের টাকা তার কাছে দিতে বলতেন। কিন্তু জীবন্নাহার তার বেতনের টাকা তার মায়ের কাছে রাখেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর প্রায়ই কলহ বাধত।”

তিনি আরো জানান, “বৃহস্পতিবার সকালে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্ত্রীকে থাপ্পড় মেরে স্বামী খাটে শুয়ে থাকেন। এসময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই জীবন্নাহার ইট দিয়ে স্বামীর মাথায় আঘাত করলে তিনি খাট থেকে নিচে পড়ে যান। জীবন্নাহার উপর্যুপরি আরও আঘাত করলে রফিকুল অচেতন হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যার পর ঘরের ওয়ার্ডরোবে লাশ লুকিয়ে রেখে জীবন্নাহার কারখানায় চলে যান। সেখান থেকে ফিরে পাশের বাসায় বোনের ঘরে রাতের খাবার খান। রাত ১১টার দিকে লাশ ওয়ার্ডরোব থেকে বের করে বঁটি দিয়ে দুই হাত কনুই থেকে, দুই পা হাঁটু থেকে এবং ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। পরে পা দুটি অদূরে টয়লেটের পাশে, মাথা আর হাত দুটি নর্দমায় এবং দেহ বস্তায় ভরে পাশের বাঁশঝাড়ে ফেলে দেন।”

পুলিশ জানায়, এই দম্পতির মারিয়া আক্তার রোজা নামের চার বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। সে বেশির ভাগ সময় তার নানির কাছে থাকে। ঘটনার দিনও বাসায় ছিল না।

জয়নিউজ/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...