চবির সৌন্দর্যে মুগ্ধ নবীনরা, আক্ষেপ অপরিচ্ছন্নতায়

0

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আয়তনে সবচেয়ে বড় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যেও ছাপিয়ে গেছে অন্যদের। পুকুর, খাল, পাহাড়, ঝর্ণা আর গিরিপথের মত প্রাকৃতিক উপাদানে সমৃদ্ধ এই বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিবছরের মতো গেল নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ভর্তি পরীক্ষা। এর মাধ্যমে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ক্যাম্পাসে এসেছে প্রায় ৫ হাজার নবীন শিক্ষার্থী। নতুন জীবনের পথ আর নতুন ক্যাম্পাস কেমন লাগছে তাদের?

ব্যবস্থাপনা বিভাগে সদ্য ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী তাহমিনা সুলতানা তান্নিকে প্রশ্ন করতেই বললেন, ‘চবির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছি, কিন্তু ক্যাম্পাসটা অনেক নোংরা।’

তান্নি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটা অনেক সুন্দর। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ মোহনীয়। তবে জিরো পয়েন্টের নালাসহ প্রায় সবগুলো নালা-ই নোংরা। আর ক্যাম্পাসজুড়ে ময়লা ফেলার ডাস্টবিনের খুব অভাব।’

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আবর্জনা। জিরো পয়েন্ট, বউ বাজার, শহিদ মিনার ও বুদ্ধিজীবী চত্বর সেই সাথে অনুষদগুলোর ঝুপড়ির আশেপাশে জমে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছে সেখান থেকে।

বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলায় ক্যাম্পাসের চারপাশের পরিবেশ নোংরা হচ্ছে। এমনকি ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার জন্য পর্যাপ্ত লোকবলও নিয়োগ করেনি প্রশাসন। প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল কয়েকটি ডাস্টবিন স্থাপন করলেও ছাত্র কিংবা শিক্ষক কেউই ব্যবহার করছেন না সেগুলো। প্রশাসনের অবহেলা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার অভাবে নোংরা আবর্জনায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আঁধার এই ক্যাম্পাসটি নিয়েছে মলিন রূপ।

প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়ে ক্যাম্পাসের ২ হাজার একশ’একর দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু ক্যাম্পাসের অপরিচ্ছন্নতায় কিছুটা বিষন্ন করেছে তাদের।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হওয়া আরেক শিক্ষার্থী সজীব হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য অনেক ভালো লাগছে। কিন্তু এত বড় একটা ক্যাম্পাসে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য কোনো লোকবল নাই, পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের ব্যবস্থা নাই। এ বিষয়টা অনেক খারাপ লেগেছে। এছাড়া সবারই পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে মানসিকতা থাকতে হবে।’

পরিবেশ বিষয়ক গবেষক ড. খালেদ মেসবাউল্লাহ বলেন, ‘এসব ময়লা আবর্জনা পরিবেশের উপর অত্যন্ত বিরূপ প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই বর্জ্যসমূহের একটা বড় অংশ পলিব্যাগ ও প্লাস্টিক সামগ্রীর দখলে। যা মাটির মারাত্মক ক্ষতি করে। এসব বর্জ্য মানুষসহ জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি।’

তিনি বলেন, ‘পারিবারিক ও প্রাথমিক স্তরে এ বিষয়ে সচেতনতা বিষয়ক শিক্ষারও অভাব রয়েছে ৷ ক্যাম্পাসে ডাস্টবিনের অভাব থাকলেও যা রয়েছে সেগুলোই ব্যবহার করছে না শিক্ষার্থীরা। পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। যেহেতু এটা সবার বিষয়। এক্ষেত্রে কাউন্সিলিং ভালো ভূমিকা পালন করতে পারে।

এ ব্যাপারে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীকে জানালে তিনি জয়নিউজকে বলেন, ‘বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য ডাস্টবিনের অভাব রয়েছে। এছাড়া লোকবলও অপ্রতুল। এখন এত বড় ক্যাম্পাস নোংরা তো একটু হবেই। তাছাড়া ছাত্র-ছাত্রীরা যেখানে পারছে ময়লা ফেলছে। ডাস্টবিন ব্যবহার করছেন না। আমি একা এগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি।’

উপাচার্য আরো বলেন, ‘এ বিষয়টাতেও আমরা জোর দিচ্ছি। এক সপ্তাহের মধ্যেই ডাম্পিং ট্রাক ক্রয় করার পরিকল্পনা আছে ৷ এর মাধ্যমে সহজেই আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে পারব।’

জয়নিউজ/পলাশ/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...