গুলিয়াখালি সৈকত: সাগরতীরে সবুজের হাতছানি

0

একদিকে দিগন্তজোড়া সাগরের জলরাশি, অন্যদিকে কেওড়া বন- এই দুই মিলে সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালি সৈকত। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যে সেজেছে এই সৈকত। কেওড়া বনের মাঝ দিয়ে চারপাশে বয়ে গেছে শ্বাশমূল, যেন তারা বাতাসের কাছ নিঃশ্বাস খুঁজে নিচ্ছে। এই কেওড়া বন সমুদ্রের অনেকটা ভেতর পর্যন্ত চলে গেছে।

গুলিয়াখালি সমুদ্রসৈকত চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলায় অবস্থিত। স্থানীয় মানুষের কাছে এই সৈকত ’মুরাদপুর বিচ’ নামেও পরিচিত। সীতাকুণ্ড বাজার থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরুত্ব পার হলেই মিলবে এই সৈকতের দেখা।

এখানে আছে সোয়াম্প ফরেস্ট ও ম্যানগ্রোভ বনের মতো পরিবেশ। সৈকতের এক অংশে আছে বিস্তৃত সবুজ গালিচার মতো ঘাসের চাদর। সেই সবুজের গালিচার ফাঁকে আঁকা-বাঁকা সাপের মতো বয়ে গেছে ছোট ছোট নালা। জোয়ারের সময় পানিতে সূর্যের আলোর ঝিলিক এই ছোট নালাগুলোকেও দর্শনীয় করে তোলে।

গুলিয়াখালী সৈকতে রয়েছে নিরিবিলি এবং শান্ত পরিবেশ, যা সব শ্রেণির মানুষকে খুব টানে। সমুদ্রের ঘাটে ভিড়ানো থাকে মাঝিদের নানারকম নৌকা, যে কেউ চাইলে মাঝিদের নৌকায় করে ঘুরে আসতে পারেন সমুদ্রের বুকে। কেওড়া বনের পাশেই রয়েছে বিস্তৃত মাঠ, সেখানে অনায়াসেই আয়োজন করা যেতে পারে বনভোজন।

গুলিয়াখালি সমুদ্রসৈকতটি সীতাকুণ্ড উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বলে যাতায়াতেও বেশ সুবিধে। মহাসড়ক থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত এই সৈকত। ভাড়া করা সিএনজিচালিত অটোরিকশা অথবা নিজস্ব গাড়ি করে এই সৈকতে যাওয়া যায়। নিরাপত্তা ঝুঁকি তেমন নেই বলে সব শ্রেণির মানুষ এই সৈকতে ভ্রমণ করে আসতে পারেন। তবে এখানে ভালো খাবারের দোকান না থাকায় দুপুরের খাবার নিয়ে আসতে হবে সঙ্গে করে। এখানকার অস্থায়ী খাবারের দোকানগুলোতে হালকা ও শুকনো খাবার পাওয়া যায়। চাইলে বিকেলে আড্ডার ফাঁকে এ দোকানগুলো থেকে করে নিতে পারেন হালকা নাস্তা, সঙ্গে গলা ভিজিয়ে নিতে পারেন গরম গরম চা অথবা কোমল পানীয় দিয়ে। তবে ইদানিং পর্যটকদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়াতে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার আধিক্য চোখে পড়েছে, যা একটু দৃষ্টিকটু।

সৈকতে বেড়াতে আসা মিঠু দাশ নামে এক পর্যটক জয়নিউজকে বলেন, ছুটির দিনে বেড়াতে এসে গুলিয়াখালি বিচের অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছি। তবে এখানে আসার রাস্তাটি এবড়োথেবড়ো হওয়ায় যাতায়াতে সমস্যা হয়। এছাড়া এখানে খাবারের জন্য মানসম্মত কোনো দোকান নেই। এই বিষয়গুলোর প্রতি যদি সরকার নজর দেয় তাহলে সৈকতটিকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তৈরি করা যাবে।

জয়নিউজ/আজিজ ভূঁইয়া
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...