চট্টগ্রাম বন্দরে বেড়েছে কনটেইনার হ্যান্ডেলিং

0

সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে বেড়েছে কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের পরিমাণ। চলতি বছরের প্রথম মাসে (জানুয়ারি) বন্দরে হ্যান্ডেলিং হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭ টিইইউএস কনটেইনার।

আগে জেটি খালি না থাকা, জাহাজ ও কনটেইনার জটের কারণে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুণতে হত। তবে বন্দরে নতুন যন্ত্রপাতি যুক্ত হওয়ার সুফল পাচ্ছেন এখন ব্যবসায়ীরা। কনটেইনার হ্যান্ডেলিং বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে বন্দরের প্রবৃদ্ধির পরিমাণও। অন্যান্য বছরের তুলনায় চলতি বছর কনটেইনার হ্যান্ডেলিং রেকর্ড করতে পারে বলে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক জয়নিউজকে বলেন, বন্দরে আগের মত পণ্যবাহী জাহাজ, কনটেইনার ও কার্গোর জট নেই। এ কারণে গত বছরের তুলনায় বন্দরের প্রবৃদ্ধি পরিমাণ আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের মাধ্যমে ৯ শতাংশ ও কার্গোর মাধ্যমে প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ৩০ শতাংশ বেড়েছে। বন্দরে ছয়টি গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ নতুন ইকুইপমেন্ট ও জেটি টার্মিনাল চালু হওয়ায় ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতেও হচ্ছে না আগের মত। বন্দর ব্যবহারকারীরা এখন সুফল পেতে শুরু করেছেন।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৪৫ কোটি টাকায় চীনের সাংহাই জেনহুয়া হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি লিমিটেড থেকে আনা ছয়টি গ্যান্ট্রি ক্রেন দিয়ে বন্দরে কনটেইনার উঠানামা চলছে। এখন একটি জাহাজে দুইটি গ্যান্ট্রি ক্রেনের মাধ্যমে কনটেইনার উঠানামার কাজ করা হচ্ছে। সামনে আরো গ্যান্ট্রি ক্রেন আসার কথা রয়েছে। তখন একটি জাহাজে তিনটি গ্যান্ট্রি ক্রেনের মাধ্যমে কনটেইনার উঠানামা করা হবে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খাইরুল আলম সুজন জয়নিউজকে বলেন, বন্দরের এখন জাহাজ জট নাই। আগে জেটি খালি না থাকায় জাহাজগুলোকে বহির্নোঙরে অতিরিক্ত সময় পার করতে হত। এতে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত অর্থ ও সময় ব্যয় হত। নতুন যন্ত্রপাতি আসাতে এখন সবাই সুবিধা ভোগ করছেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বন্দরে পণ্যের ডেলিভারি নিয়ে এখন আর তেমন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আগে যেমনটা জাহাজ ও কনটেইনার জটের কারণে ছিল। তবে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আগের চেয়ে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ কমে গেছে। ডলারের দাম কমলে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ আরো বাড়তে পারে।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে। এরমধ্যে আমদানিকৃত কনটেইনারের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৪ হাজার ৮৭৬ টিইইউএস। অন্যদিকে রপ্তানি হয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ২১১ টিইইউএস কনটেইনার। প্রতিদিন গড়ে দৈনিক ৭ হাজার ৬৮০ টিইইউএস কনটেইনার উঠানামা হয়েছে বন্দরে।

২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৭৪ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে। তার মধ্যে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৫৩ টিইইউএস কনটেইনার ও রপ্তানি হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭২১ টিইইউএস কনটেইনার।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম জয়নিউজকে বলেন, বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পণ্যবাহী জাহাজকে বহির্নোঙরে সময় পার করতে হচ্ছে না। বন্দর থেকে দ্রুত কনটেইনার খালাস করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে ২০১৮ সালের শেষ ছয় মাসে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত) ১৫ লাখ ৫৮১ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে হ্যান্ডেলিং হয়েছিল ১৪ লাখ ৫ হাজার ৮৭৭ টিইইউএস কনটেইনার।

সে হিসেবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর কনটেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের পরিমাণ রেকর্ড ছাড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জয়নিউজ/জুলফিকার

আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...