রাজধানীর শাহবাগ থানায় দায়ের করা ধর্ষণ ও প্রতারণার মামলার পলাতক আসামি তুর্য দে (২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার এলাকার বালি আর্কিড শপিংমলে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
র্যাব-৭ (চট্টগ্রাম) ও র্যাব-১৪ (ময়মনসিংহ)-এর সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন।
গ্রেপ্তার তুর্য দে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার নরেন্দ্র লাল মাস্টারের বাড়ির বাসিন্দা অঞ্জন কুমার দে’র ছেলে।
র্যাব সূত্র জানায়, মামলার বাদী সাবরিনা সুলতানা লিজা (২৭) টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন চীনা দোভাষী।
গত ১৮ মে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় চট্টগ্রামের হোটেল আগ্রাবাদে আয়োজিত একটি চায়না ইভেন্টে তুর্য দে’র সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়।
পরিচয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইনে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়। একপর্যায়ে তুর্য দে ভিকটিমকে প্রেমের প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৬ মে রাত প্রায় ১১টার দিকে তুর্য দে ভিকটিমকে ঢাকার শাহবাগ থানাধীন ফার্স হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের একটি কক্ষে ডেকে নেন এবং বিয়ের প্রস্তাব দেন।
অভিযোগ রয়েছে, ভিকটিম তাৎক্ষণিকভাবে বিয়েতে সম্মতি না দিলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর ভিকটিম বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে তুর্য দে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একই সঙ্গে তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের শাহবাগ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ ও প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই তুর্য দে আত্মগোপনে ছিলেন।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে চকবাজার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে র্যাবের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তি আইনগতভাবে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচিত হবেন।




