রোহিঙ্গাদের বিনামূল্যের ত্রাণ বিক্রি চলছে বিভিন্ন স্থানে

0

উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আছে রোহিঙ্গা। তাদের জন্য প্রতিনিয়ত আসছে ত্রাণ। দেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন সেবা সংস্থার পক্ষ থেকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে রোহিঙ্গাদের। আর বিনামূল্যের এসব ত্রাণ উখিয়া-টেকনাফ ছাড়িয়ে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

পটিয়া, চন্দনাইশসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন বাজারে দিনদুপুরে বিক্রি হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ। এমনকি খোদ চট্টগ্রাম নগরেই বিক্রি চলছে রোহিঙ্গাদের বিনামূল্যে দেওয়া ত্রাণসামগ্রী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রতিনিয়ত ত্রাণ পাচ্ছে রোহিঙ্গারা। এসব ত্রাণ তাদের চাহিদার চেয়ে বেশি। তাই নগদ টাকার লোভে রোহিঙ্গারা ত্রাণগুলো বিক্রি করছে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কাছে। উখিয়ার একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়মিত এসব ত্রাণ সংগ্রহ করে গাড়িভর্তি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে দেয়। প্রভাবশালী এই সিন্ডিকেটটি ২০১৭সালের আগস্ট থেকেই এমনটি করে আসছে।

উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ১২টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে প্রতিদিনই লাখ টাকার ত্রাণ ও অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ক্যাম্পেই রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ। এখানকার রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ত্রাণসামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি গৃহনির্মাণ সামগ্রী, কম্বল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়া হচ্ছে ঢালাওভাবে।

বালুখালী ২নং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা আইয়ুব জানান, বাংলাদেশে আসার পর থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ পেয়েছেন তারা। মিয়ানমারে যে অভাব ছিল তা এখন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নেই। প্রতি সপ্তাহেই ত্রাণ পাচ্ছেন। তার ছোট ঘরে এত ত্রাণ রাখার জায়গা নেই। তাই ত্রাণ বিক্রি করে কিছু নগদ টাকা পেলেই স্বস্তি।

আইয়ুবের মতোই অবস্থা অজস্র রোহিঙ্গার। তারাও ব্যস্ত ত্রাণ বিক্রি করে নগদ টাকা জমা করতে।

থাইংখালী জামতলি ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন জানান, তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী যে ত্রাণ পান তা চাহিদার চেয়ে বেশি। তাই বাড়তি ত্রাণ বিক্রি করে মাসে ৩/৪ হাজার টাকা নগদ পান।

অভিন্ন তথ্য দেন তাজনিমারখোলা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের হাফেজ জালাল আহমদ নামের আরেক রোহিঙ্গা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগদ টাকার জন্য দেশি-বিদেশি সাহায্য সংস্থা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেওয়া বিভিন্ন ধরনের ত্রাণসামগ্রী বিক্রি করে দিচ্ছে রোহিঙ্গারা। বাজারের চেয়ে অর্ধেক দামে এসব সামগ্রী বিক্রি করছে তারা। আর অল্পমূল্যে কেনা এসব ত্রাণসামগ্রী কিনে বেশি দামে বিক্রি করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ত্রাণ কিনতে ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পভিত্তিক কয়েকটি সিন্ডিকেটও গড়ে উঠেছে।

বিভিন্ন ক্যাম্পবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে এক কেজি চালের দাম ৫০-৬০ টাকা। সেখানে রোহিঙ্গারা ত্রাণের চাল বিক্রি করছে মাত্র ৩০ টাকা কেজিতে। ৬০ টাকা কেজি দরে চিনি কিনে রোহিঙ্গাদের দেওয়া হচ্ছে। আর রোহিঙ্গারা সেই চিনি বিক্রি করছে মাত্র ৩০ টাকায়। বাজারে প্রতি কেজি ডালের দাম ১২০ টাকা, রোহিঙ্গারা বিক্রি করছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। ১২০ টাকা লিটারের সয়াবিন তেল বিক্রি করছে মাত্র ৬০ টাকায়। এছাড়া ৫০০ গ্রাম ডানো দুধ বিক্রি করছে ১০০ টাকায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫-৭ জন সদস্যের একটি রোহিঙ্গা পরিবারকে সপ্তাহে দু’বার ত্রাণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০-১৫ কেজি চাল, ২-৩ কেজি ডাল ও ২-৩ লিটার তেল দেওয়া হয়। এ হিসাব অনুযায়ী, তারা সপ্তাহে ২০-৩০ কেজি চাল, ৪-৬ কেজি ডাল ও ৪-৬ লিটার তেল পান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় লোকজন জানান, উখিয়ার পূর্ব স্টেশনের প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে রোহিঙ্গাদের ত্রাণের মালামাল গাড়িভর্তি করা হয়। এসব মালামাল রাতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হয়ে যায়। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই কাজে জড়িত।

এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিকারুজ্জামান চৌধুরী জয়নিউজকে বলেন, রোহিঙ্গা বাজারে ইতিপূর্বে বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। জব্দ করা হয়েছে বিভিন্ন ত্রাণের মালামাল। কুতুপালং ও বালুখালী ক্যাম্প এলাকায় গড়ে উঠা ফার্মেসি ও স্বর্ণের দোকানে অভিযান চালিয়ে গত কয়েকদিনে অন্তত ২৫ জনকে আটক করা হয়েছে। অর্থদণ্ডের পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে কারাদণ্ড। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জয়নিউজ/বিশু
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...