আইনজীবী সমিতির নির্বাচন রোববার

0

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির (২০১৮-২০১৯) কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন রোববার (১০ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন উপলক্ষে আদালতপাড়ায় নির্বাচনি প্রচারণা চলছে জোরেশোরে। আদালত পাড়া বিভিন্ন প্রার্থীর ছবি সম্বলিত ব্যানার, পেস্টুন, কার্ড, পোস্টারে ছেয়ে গেছে। প্রার্থীরা যে যেভাবে পারছেন ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন। রোজ দুপুরের পর কর্মী সমর্থকদের প্রচারণায় সরগরম পরীর পাহাড় খ্যাত আদালত প্রাঙ্গণ।

প্রার্থীরা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত গণসংযোগে। সর্বত্র নির্বাচনি আমেজ, আড্ডায়-আলোচনায় একটাই প্রসঙ্গ হল ভোট। এবারের নির্বাচনে ৪টি প্যানেল অংশ নিচ্ছে। এগুলো হল আওয়ামীপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ, বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট, মুক্তিযুদ্ধে সপক্ষের সংগঠন সমমনা আইনজীবী সংসদ ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতি চট্টগ্রাম।

আওয়ামীপন্থি আইনজীবী প্যানেল ও বিএনপি-জামাতপন্থি আইনজীবী প্যানেল ১৯টি পদের সবগুলিতে প্রার্থী দিয়েছেন। অন্য দুটি প্যানেল সবগুলো পদে প্রার্থী দেয়নি। আওয়ামীপন্থি আইনজীবী প্যানেল থেকে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোক্তার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান  অ্যাডভোকেট আইয়ুব খান। বিএনপি-জামাতপন্থি আইনজীবী প্যানেল থেকে সভাপতি পদে লড়ছেন বিজ্ঞ আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদরুল আনোয়ার, সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ কাসেম চৌধুরী। সমমনা আইনজীবী সংসদ থেকে অংশ নিচ্ছেন সমিতি থেকে নির্বাচিত সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ, সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম টিপু। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সংসদ থেকে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন মাহমুদসহ ৪ জন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

এবারের নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা ৩ হাজার তিনশত ৭৮ জন। গতবার ৩ হাজার ৮৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। ভোটাররা জানান,  এইবারের নির্বাচনে দলীয় পরিচয় ছাপিয়ে ব্যক্তিগত ইমেজে অনেকের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে।

নির্বাচন নিয়ে সভাপতি পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোক্তার হোসেন  জয়নিউজকে বলেন, আইনজীবীদের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। আমি নির্বাচিত হলে দুর্নীতিমুক্ত আইনাঙ্গন প্রতিষ্ঠা, আইনজীবীদের কল্যাণের জন্য কাজ করব। আইনজীবীদের উন্নতির জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করব। চেম্বারের কোনো সমস্যা হলে তা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।

সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আইয়ুব খান জয়নিউজকে বলেন, ভোটারদের কাছ থেকে ভালোই সাড়া পাচ্ছি। আইনজীবীদের সম্মান ও মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য কাজ করব। তাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকব। আইনজীবীদের জন্য সমন্বয় পরিষদের জন্য যে পরিকল্পনা আছে, তা সরকারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করব।

বিএনপিপন্থি প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো.  কাসেম চৌধুরী জয়নিউজকে বলেন, আইনজীবীদের কাছ থেকে আমি বিপুলে সাড়া পাচ্ছি। আইনজীবীদের দোয়া ও সমর্থন পেলে আমি জয়ী হব।

সহ সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মু. কবির হোসাইন বলেন, নির্বাচিত হলে বার ও বেঞ্চের মধ্যে ভালো সম্পর্ক তৈরি করার চেষ্টা করব। সমমনা আইনজীবী সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, আমরা এবার অধিকতর অভিজ্ঞদের মনোনয়ন দিয়েছি, যাদের সুনাম আছে। আমার বিশ্বাস, আইনজীবীরা তাদের সমর্থন দিবে। এই প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী  অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম টিপু বলেন, আমি যাদের কাছে গিয়েছি তারা আমাকে সমর্থন দেবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। ইনশাল্লাহ আমি বিজয়ী হব।

বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান অ্যাডভোকেট জহির উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের সংগঠনের আন্দোলনের কারণে এখানে বিজ্ঞ আদালত স্থানান্তর হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি নির্বাচিত হলে এককেন্দ্রিক বিচার ব্যবস্থাসহ শ্রমিক-মালিক, আইনজীবীদের সুবিধার্থে শ্রম আদালত অবিলম্বে কোর্ট বিল্ডিংয়ে আদালত ভবনে আনার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ নেব এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আদালত অঙ্গনে ঘুষ, দুর্নীতিসহ সকল অনিয়ম বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করব।

নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট রতন রায় জয়নিউজকে বলেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে।

উল্লেখ্য, ১৭ জন আইনজীবী নিয়ে ১৮৯৩ সালের ২৩ মার্চ চট্টগ্রাম জেলা বার এসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়। অবিভক্ত বাংলায় আলিপুর বার এসোসিয়েশন এবং চট্টগ্রাম বার এসোসিয়েশন প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সংগঠনটিতে রয়েছে ৫ হাজারের ও বেশি আইনজীবী।

জয়নিউজ/কাউছার/বিশু/আরসি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...