দুদকে শুদ্ধি অভিযান!

0

দুদকে শুদ্ধি অভিযান চলছে। সারা দেশে দুর্নীতিবাজদের ধরতে বিশেষ অভিযান চালানোর আগে দুদকের যেসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে সংস্থাটি।

জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে সরকার। মূলত সরকারের ঘোষণার পর এবার নড়ে-চড়ে বসেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে এবার তারা (দুদক) তাদের অভিযানের রণকৌশলে ভিন্নতা আনবে বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

দুদক সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসনের ক্ষমতা ব্যবহার করে যারা রাতারাতি কোটিপতি হয়েছেন তাদের এ অভিযানের আওতায় আনা হবে। সেই সঙ্গে হঠাৎ সম্পদশালীদের খোঁজে মাঠে নেমেছে এনবিআর। সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন অভিযানে দুদক এবার সারা দেশে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করবে। এজন্য সাংবিধানিক এ প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব জনবলের পাশাপাশি ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুদকের তদন্তে নিরপরাধ মানুষ গ্রেপ্তার ও হয়রানির শিকার হচ্ছে এমন অভিযোগ ওঠায় দুর্নীতি দমন কমিশনের ভেতরে স্বচ্ছতা আনতে মরিয়া দুদক চেয়ারম্যান। এজন্য প্রথমেই দুদকের যেসব কর্মকতা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে আগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে স্বচ্ছতা ও ইমেজ ফিরেয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে দুদকের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে।

দুদক সূত্রে আরো জানা যায়, এর মধ্যে কয়েকজনকে বিভিন্ন মামলার তদন্তের চলতি দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে দুদক থেকে সরিয়ে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ ওঠায় তাদের সামরিক বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে এসব কিছু হচ্ছে স্বচ্ছতার জন্য অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে। কারণ দুদক মনে করে ঢালাওভাবে অভিযান পরিচালনা করলে দুদকের চলমান কাজে স্থবিরতা দেখা দিতে পারে। সেই সঙ্গে জনমনে অবিশ্বাসও সৃষ্টি হবে। এজন্য যারা ক্ষমতা অপব্যহার করে বেনামে দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ গড়েছেন, শুধু তাদের বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আসামিদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ ও অনুসন্ধানের তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে দুদকের পরিচালক ফজলুল হককে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফজলুল হক দুদকের প্রধান কার্যালয় সেগুনবাগিচায় কর্মরত ছিলেন। এবিষয়ে  দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, খারাপ কাজ করলে বহিষ্কার হবে। তিনি বলেন, অপরাধ কোনো মাফ নেই।  অপরাধীর বিচার হবেই।

এদিকে দুদকের দায়ের করা মামলায় ভুল আসামি জাহালমকে সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় হাইকোর্টের বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ। এসময় আদালত তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কারাগার থেকে মুক্তির নির্দেশও দেন। আদালতের আদেশে জাহালম কারাগার থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান।

এ ঘটনায় দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হওয়ার পর দুদক চেয়ারম্যান বলেন, এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। নির্দোষ জাহালমের ঘটনায় বেশ কয়েকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান এ প্রতিবেদকে বলেন, প্রতিবেদন পেলে যারা জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জয়নিউজকে বলেন, দুদক সবসময়ই দুর্নীতিবাজদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তিনি বলেন, নিজ দপ্তরের ভেতরকার ঘটনাও রুটিওয়ার্ক। তিনি আরো বলেন, নতুন করে অভিযান কিংবা নতুনভাবে অভিযান চালানোর কিছু নেই। অভিযান আগেও চলেছে, ভবিষ্যতেও অভিযান চলবে।

এদিকে দুদক চেয়ারম্যান দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকায় এখন কেউ তদবির করার সাহস পাচ্ছে না। আগামী মাস থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন যেখানে অভিযোগ পাবে সেইখানেই অভিযান চালাবে বলেও দুদক সূত্রে জানা যায়।

জয়নিউজ/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...