এ মুহূর্তে জামায়াত ছাড়ছে না বিএনপি

0

আলোচনা-সমালোচনা যা-ই থাক না কেন, এখনই ২০ দলীয় জোট থেকে জামায়াতকে ছাড়ছে না বিএনপি। এমনকি জামায়াতের পক্ষ থেকে কখনো যদি বিএনপিকে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়, তারপরও জামায়াত ছাড়ার ঘোষণা দেবে না দলটি।

জানা গেছে, জামায়াত ইস্যু নিয়ে বিএনপি একদফা ভাঙ্গতে পারে এমন শংকা দলটির হাইকমান্ডের। তাই জামায়াত ছাড়ার ঘোষণা আপাতত না দিয়ে বরং তাদের নিয়ে জোটগতভাবে রাজপথে থাকতে চায় বিএনপি। যদিও বিএনপির বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে একটা বিরাট অংশ চাইছে জামায়াতকে জোট থেকে ছেড়ে দিতে। কিন্তু লন্ডনে অবস্থানরত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সংকেত না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এগুতে পারছে না।

জামায়াত প্রসঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুন অর রশিদ বলেন, জামায়াত ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল। তারা ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করতে চায়। বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধকে সমুন্নত রেখে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে সামনে রেখে রাজনীতি করে। তাদের সঙ্গে আমাদের আদর্শ ভিন্ন। তবে আমরা যদি জামায়াতকে ছেড়ে দিই, তাহলে আওয়ামী লীগ যে তাদের টেনে নেবে না- সে নিশ্চয়তা কে দেবে? আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের জামায়াতের একজন উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। ভোটের রাজনীতিতে জামায়াতের একটা ভোটব্যাংক আছে, এটাই মূল কারণ। বিএনপি-জামায়াত বিচ্ছিন্নের ইস্যুটা সামনে আনার অর্থ হচ্ছে, জোটের ভোটব্যাংক নষ্ট করা।

জামায়াত প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর এমাজউদ্দিন আহমদসহ বুদ্ধিজীবীরা বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করে ‘একলা চলো নীতি’ গ্রহণ করতে বলেছেন । এ নিয়ে দলটির ভেতরে বাইরে এক ধরনের প্রতিক্রিয়াও আছে। এমনকি ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামাল হোসেনও বিএনপিকে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতে চাপ দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, যুক্তফ্রন্ট চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক বি. চৌধুরীও জামায়াত ছাড়তে চাপ সৃষ্টি করে পরে নতুন জোট গঠন করেন। তাঁর মতে, ১৯৭১ সালের ভুলের জন্য তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত। তারা যত তাড়াতাড়ি ক্ষমা চাইবে, তাদের জন্য মঙ্গল হবে।

সূত্র জানিয়েছে, কারাগারে অন্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জোটে জামায়াতের অপ্রয়োজনীয়তা বোঝাতে পেরেছেন দলটির একটি অংশ। কিন্তু তারেক রহমান জামায়াত ইস্যু নিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের কোনো মন্তব্য করতে আপাতত নিষেধ করেছেন। শুধু তাই নয়, জোটে জামায়াত থাকবে কি না এটা তাঁর (তারেক) উপর ছেড়ে দিতে বলেছেন।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে বলেন, আপাতত বিএনপি জামায়াতকে ছাড়বে না। এটাই ফাইনাল । কারণ হিসেবে তারেক রহমান বিএনপির সিনিয়র নেতাদের জানিয়েছেন, অনেক লোভনীয় অফারের পরও জামায়াত বিএনপিকে ছেড়ে দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এমনকি বিএনপিকে ছেড়েও যায়নি। বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের ঘনিষ্ঠতা থাকার কারণেই জামায়াতের হেভিওয়েট নেতাদের যুদ্ধাপরাধ মামলায় বিচারের মাধ্যমে সাজা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির দুঃসময়ে জামায়াত প্রচুর সহযোগিতা করেছে। তাই জামায়াতের ত্যাগের মূল্যায়ন বিএনপি করবে।

তারপরও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বিএনপি যদি জামায়াতকে ছেড়ে দেয় তবে দলটি (বিএনপি) আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এজন্য জামায়াতকে আপাতত ছাড়তে চায় না বিএনপি। ইতোমধ্যে বিএনপি মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিনিয়র নেতাদের তারেক রহমানের মনোভাব জানিয়ে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বিএনপির বুদ্ধিজীবী খ্যাত ডা. জাফরুল্লাহ জয়নিউজকে বলেন, আমরা চাই জামায়াত নিজেই বিএনপিকে ত্যাগ করুক। কারণ জামায়াতের কারণে দেশে-বিদেশে বিএনপিকে প্রশ্নের মুখোমুখী হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি মনে করি, জামায়াত তাদের অতীতের ভুলের জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে। ক্ষমা চাওয়া দোষের কিছু নয়, বরং উদারতার প্রকাশ। পৃথিবীর বহু দেশে ক্ষমা চাওয়ার নজির আছে বলেও তিনি জানান।

তবে এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, জামায়াত ক্ষমা চাইবে কি না, এটা তাদের ব্যাপার। জোট এখনও আছে। তাই জামায়াতের রাজনীতি কি হবে এ নিয়ে আমি মন্তব্য করতে পারি না। আমরা একসঙ্গে ছিলাম, একসঙ্গে আছি। আপাতত জোট ভাঙ্গাগড়ার খেলায় আমরা নেই।
তিনি বলেন, যারা জামায়াতকে নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে, তারা কখনোই বিএনপির বন্ধু ছিল না। বিএনপি কাকে রাখবে, কাকে ছাড়বে- এ ব্যাপারটা বিএনপির। এ ব্যাপারে অন্যদের মন্তব্য না করে নিজের দল গোছাতে মনোযোগী হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন বিএনপির এ নেতা।

জয়নিউজ/আরসি
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...