প্রতীক্ষার বইমেলায় পাঠকের ভিড়

0

দেশের শিল্প-সংস্কৃতির অন্যতম চারণক্ষেত্র বন্দরনগরী চট্টগ্রামে স্বাধীনতার পর থেকে হয়নি বড় পরিসরের কোন বইমেলা। তাই নগরের বইপ্রেমীদের অনেকদিনের চাওয়া ছিল সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজন করা হোক এমন এক বইমেলা, যেখানে ঢাকার নামকরা সব প্রকাশনা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব থাকবে। প্রিয় লেখকের পছন্দের বইটির জন্য ছুটে যেতে হবে না ঢাকার বইমেলায়। বন্দরনগরের পাঠকদের দীর্ঘদিনের সেই প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে। নগরের এম এ আজিজ স্টেডিয়াম চত্বরে শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলা। জয়নিউজের আলোকচিত্রী বাচ্চু বড়ুয়াকে সঙ্গে নিয়ে মেলা ঘুরে এসে বিস্তারিত জানাচ্ছেন জয়নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক পার্থ প্রতীম নন্দী

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অর্থায়নে ও ব্যবস্থাপনায় এবং চট্টগ্রাম সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলার ষষ্ঠদিনে এসে এ পর্যন্ত মোট দুই কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

ছুটির দিন হওয়ায় শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) অন্যান্যদিনের তুলনায় মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্য করার মতো। দুপুর থেকে মেলায় আসতে থাকেন নানা বয়সের, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। এর আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি বসন্তের প্রথম দিন ও ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসেও মেলায় ছিল উৎসবের আমেজ।

চট্টগ্রামের একুশে বইমেলা উদযাপন কমিটির যুগ্ম সচিব জামাল উদ্দিন জয়নিউজকে বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বইমেলা হচ্ছে চট্টগ্রামে, এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। চট্টগ্রামের মানুষও যে বইমেলায় আসেন, তার প্রমাণ মেলে বই বিক্রির পরিমাণে। শুধু আজকেই (শুক্রবার) প্রায় ৫০ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। বইমেলায় মানুষের উপচেপড়া ভিড় প্রমাণ করে শিল্প-সাহিত্যে চট্টগ্রাম এগিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে মেলা ঘুরে বইমেলা চত্বরে দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসের দেখা মিলেছে। বাবা-মায়ের হাত ধরে শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শিশুমনের এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বইমেলাজুড়ে। এছাড়াও বসন্ত বরণের দিন এবং ভালোবাসা দিবসেও বইমেলায় ছিল তরুণ-তরুণীদের উপচেপড়া ভিড়।

মেলায় বই কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী শারমিন সুলতানা জয়নিউজকে বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় পরিবার নিয়ে বইমেলায় এসেছি। চট্টগ্রামে এত বড় পরিসরে বইমেলার আয়োজন হওয়ায় ঢাকা যাওয়ার ঝামেলা থেকে বাঁচলাম। ঢাকার বইমেলার সব বই এখন এখানেই পাওয়া যাচ্ছে।

মেলা ঘুরে দেখা গেল বইমেলায় সবচেয়ে বেশি ভিড় শিশুদের স্টলে। আর সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা গল্প, উপন্যাস, কবিতা ও ছড়ার বই।

মেলায় আবির প্রকাশনীর স্টলের বিক্রেতা জয়নিউজকে বলেন, বেশ ভালো বই বিক্রি হচ্ছে। মেলায় শিশু-কিশোরদের বই কেনার প্রতি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

গড়ে প্রতিদিন ১৫ হাজার টাকার বই বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে প্রতিদিন মেলা ঘিরে চলছে লেখক-পাঠকদের আড্ডা, নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এবারের অমর একুশে বইমেলায় মোট ১১০টি স্টল রয়েছে। তারমধ্যে চট্টগ্রামের ৫০টি এবং ঢাকার ৫৫টি। এছাড়া ৫টি ডাবল স্টল রয়েছে। রোরবার ১০ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই বইমেলা চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

জয়নিউজ/বিশু/জুলফিকার
আরও পড়ুন
লোড হচ্ছে...